বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে শুধু একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয় আউট জ্ঞান থাকবে হবে, তার সঙ্গে প্রয়োজন বাস্তব জীবনমুখী দক্ষতা বা স্কিল। চাকরি হোক বা অনলাইন ক্যারিয়ার, সব ক্ষেত্রেই নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হলে শিখতে হবে নতুন কিছু তাহলে সব কিছু পারবে। অনলাইন এখন শেখার সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। ঘরে বসেই হাজারো কোর্স, ভিডিও এবং টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে নিজের পছন্দের বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। তবে শুধু শেখাই যথেষ্ট নয় নিয়মিত চর্চা, সময় ম্যানেজমেন্ট এবং লক্ষ্য স্থির রেখে কাজ করলেই সফল হওয়া যায়। এই লেখায় আমরা জানব কীভাবে স্কিল ডেভেলপমেন্ট শুরু করতে হবে, কোন প্ল্যাটফর্মে শেখা যাবে, আর কীভাবে শেখা কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ার গড়া যায়।
বর্তমান সময়ে শুধু ডিগ্রি থাকলেই হয় না আউট জ্ঞান অর্জন করতে হয়, তার সঙ্গে প্রয়োজন বাস্তব জ্ঞান এবং কিছু দক্ষতা। কাজ শেখার সুবিধা হলো তুমি যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা যে কোন পরিস্থিতিতে থেকে শেখার সুযোগ পাবে। এতে করে সময়ের সাশ্রয় হয় এবং খরচও কম। চাকরি হোক বা ব্যবসা, আজকের প্রতিযোগিতামূলক দুনিয়ায় টিকে থাকতে হলে নিজের ভেতর কিছু স্কিল গড়ে তুলতেই হবে তা ছাড়া কোন মূল্য নাই। অনলাইনে রয়েছে হাজারো কোর্স, ভিডিও, টিউটোরিয়াল সব কিছু একদম হাতের মুঠোয় যা তোমার হাতের ফোন থেকে অনেক কিছু ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শিখতে পারবে। তুমি চাইলে ধাপে ধাপে শেখা শুরু করে নিজেকে গড়ে তুলতে পারো একজন দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে। তাই সময় নষ্ট না করে আজ থেকেই শেখা শুরু করো।
তুমি যখন অনলাইন কাজ শেখার কথা ভাববে, তখন প্রথমেই বুঝে নিতে হবে তোমাকে কোন বিষয়টি তোমার জন্য উপযুক্ত তা নিবার্চন করতে হবে । সবাই গ্রাফিক ডিজাইন বা প্রোগ্রামিং শিখছে দেখে তুমি যদি না বুঝে সেই পথে হাঁটো, তাহলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পার কারণ এটা তুমি অন্য দেখা পথ চলছো। নিজের আগ্রহ, সময়, এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য অনুযায়ী বিষয় বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ নিজের কাজ নিজে বুঝতে পেরে করলে কখনো বিফলে যাবে না। ধরো, তুমি যদি লেখালেখিতে ভালো পারো, তাহলে কনটেন্ট রাইটিং বা ডিজিটাল মার্কেটিং তোমার জন্য ভালো হতে পারে, কনটেন্ট লিখে ভালো ইনকাম করতে পারবে । আর যদি টেকনোলজি ভালো লাগে, তবে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বা ভিডিও এডিটিং শেখা যেতে পারে। মনে রেখো, তুমি যে স্কিল শিখবে, সেটাই ভবিষ্যতে তোমার ইনকামের পথ তৈরি করে দিবে। তাই বেছে নাও বুঝে শুনে। আমি মনে করি তোমরা প্রথমে কনটেন্ট রাইটিং দিয়ে শুরু করলে ভালো হবে।
অনলাইন কাজ শেখার সময় তুমি দেখতে পাবে কিছু কোর্স একেবারে ফ্রি হবে , আবার কিছু পেইড বা অর্থের বিনিময়ে করতে হয়। ফ্রি কোর্সে সাধারণত বেসিক বিষয়গুলো শেখানো হয় এবং অনেক সময় গাইডলাইন স্পষ্ট থাকে না তখন অনেক কিছু বুঝতে পারবে ও না । তবে শুরু করার জন্য এগুলো ভালো। অন্যদিকে, পেইড কোর্সে বিষয়গুলো ধাপে ধাপে ও বিস্তারিত ভাবে শেখানো হয় যা তুমি সহজে বুঝতে পারবে। সাপোর্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, এবং সার্টিফিকেটও পাওয়া পাবে। যদি তুমি সিরিয়াস ভাবে শেখার পরিকল্পনা করো, তাহলে পেইড কোর্স এক সময় করাই ভালো। তবে ফ্রি কোর্স দিয়ে শুরু করে বোঝার চেষ্টা করো তোমার পছন্দ কোন দিকটায়। এভাবে ধাপে ধাপে স্কিল বাড়িয়ে তোলা সম্ভব। মনে রেখো, শেখা বিনিয়োগ, যা একদিন ফল দেবে।
আরো বেশি বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
তুমি যদি অনলাইনে শেখা শুরু করতে চাও, তাহলে কিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইট তোমাকে অনেক সাহায্য করতে পারবে। যেমন Udemy, Coursera, Skillshare, LinkedIn Learning, Khan Academy এই প্ল্যাটফর্ম গুলোতে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর হাজার হাজার কোর্স রয়েছে যা সহজে শিখতে পারবে। অনেক কোর্স ফ্রি, আবার কিছু পেইড। এখানে তুমি ভিডিও দেখে, কুইজ দিয়ে ও অ্যাসাইনমেন্ট করে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে পারবে । প্রতিটি কোর্স নির্দিষ্টভাবে সাজানো থাকে যাতে নতুনরাও সহজে বুঝতে পারে। স্কিল শেখার ক্ষেত্রে এসব প্ল্যাটফর্ম অনেক কার্যকরী কারণ এগুলো ধাপে ধাপে গাইড করে দেয়। তুমি যে বিষয়টা শিখতে চাও, সেটি খুঁজে নিয়ে উপযুক্ত কোর্স বেছে নাও এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতা গড়ে তোলো। তাহলে এক দিন সফল হবে।
তুমি যদি একে বারে বিনামূল্যে শেখার প্ল্যাটফর্ম খুঁজছো , তাহলে ইউটিউব তোমার জন্য হতে পারে তোমার প্রথম পছন্দ। এখানে প্রায় সব ধরনের টপিক নিয়ে অসংখ্য ভিডিও রয়েছে, যেগুলো নতুনদের জন্য খুবই সহায়ক মানে অনেক ভাবে শিখতে পারবে । শুরুতে একটা নির্দিষ্ট চ্যানেল বেছে নিয়ে ধাপে ধাপে শেখা শুরু করো। ভিডিও দেখে সঙ্গে সঙ্গে প্র্যাকটিস করলে শিখে ফেলা অনেক সহজ হয় যত বেশি প্র্যাকটিস করবে ত তো বেশি শিখতে পারবে। ইউটিউবের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তুমি ইচ্ছে মতো বারবার দেখে নিতে পারবে যার সিমা নাই এবং নিজের সময় অনুযায়ী শিখতে পারো। তবে ভিডিও বাছার সময় খেয়াল রেখো যেন সেটি আপডেটেড ও স্পষ্টভাবে বোঝাতে পারে তাহলে হবে। ধৈর্য নিয়ে শেখার চেষ্টা করলে এখান থেকেই তুমি অনেক ভালো একটি স্কিল অর্জন করতে পারো। তবে ধয্য ধরে শিখতে হবে।
অনলাইনে শেখার সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময় ঠিক মতো ম্যানেজ করা কেন সময় সব জায়গায় লাগে। তুমি যদি পড়াশোনা বা চাকরির পাশাপাশি শিখতে চাও, তাহলে প্রতিদিন কিছু নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিতে হবে শেখার জন্য তাহলে একটু একটু করে সামনে এগাতে পারবে । সকাল বা রাত, যে সময়টা তোমার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক, সেটাই বেছে নাও। একবারে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করবে না, ছোট ছোট করে ভাগ করো। প্রতিদিন ১-২ ঘণ্টা সময় দিলেও কয়েক মাসের মধ্যে ভালো দক্ষতা গড়ে তোলা সম্ভব কিন্তু সময়কে সুন্দর ভাবে কাজে দিতে হবে। সময় নষ্ট না করে সোশ্যাল মিডিয়ার সময় কমিয়ে শেখার কাজে লাগাও। মনে রেখো, প্রতিদিন একটু একটু করেই বড় কিছু শেখা সম্ভব। এভাবে সময় ব্যবহার করলেই তুমি চাইলেই একটি ভালো স্কিল গড়ে তুলতে পারবে। সঠিক সময়ে শিখলে তুমি সফল।
তুমি যদি সত্যি কিছু শিখতে চাও আগ্রহী থাকো, তাহলে শুধু ভিডিও দেখা বা লেখাপড়া করলেই হবে না সাথে সাথে প্র্যাকটিস করাও খুব দরকার যে টুকু শিখবে তোমাকে তা প্রতিদিন প্র্যাকটিস করতে হবে। কারণ শেখা তখনই কাজে লাগে, যখন তুমি সেটা নিজের হাতে করে দেখে করতে পারবে। যেমন তুমি যদি ডিজাইন শেখো, তাহলে প্রতিদিন একটা করে ডিজাইন করার চেষ্টা করতে হবে। এতে শেখা মজবুত হবে এবং ভুলগুলোও ধরা পড়বে। অনেক সময় আমরা ভাবি, আগে সব শিখে তারপর প্র্যাকটিস করবঅনলাইন কোর্স করার পর অনেক সময় আমরা শুধু সার্টিফিকেটের পেছনে ছুটি এটা ভুল। তবে মনে রাখবে, কেবল সার্টিফিকেট থাকলেই হবে না সাথে থাকতে হবে বাস্তব অভিজ্ঞতা আর তা না থাকলে তোমার কোন দাম নাই। শেখা শেষে তুমি যদি কিছু ছোট ছোট প্রজেক্টে কাজ করো বা নিজের কিছু ডেমো কাজ তৈরি করো, তাহলে সেটা ভবিষ্যতে ক্লায়েন্ট বা চাকরিদাতার কাছে অনেক মূল্যবান হবে তোমার হাতের কাজের জন্য । সার্টিফিকেট তোমার শেখার প্রমাণ হলেও, প্র্যাকটিক্যাল কাজই দেখায় তুমি কতটা পারো। তাই কোর্স শেষ করেই চুপ করে বসে না থেকে নিজে কিছু করে দেখাও, মানে শিখে ইনকামের রাস্তা থাকতে হবে। ধীরে ধীরে তোমার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং স্কিল বাস্তবে প্রমাণ করতে পারবে। এই অভ্যাসই তোমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে। যে তুমি সবার থেকে আলাদা হতে পারো।এটা ভুল ধারণা। শেখার সঙ্গে সঙ্গে হাতেকলমে কাজ করলেই প্রকৃত দক্ষতা তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন অল্প সময় হলেও প্র্যাকটিস করো, কারণ নিয়মিত চর্চাই তোমাকে ভালো স্কিল গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

অনলাইন কোর্স করার পর অনেক সময় আমরা শুধু সার্টিফিকেটের পেছনে ছুটি এটা ভুল। তবে মনে রাখবে, কেবল সার্টিফিকেট থাকলেই হবে না সাথে থাকতে হবে বাস্তব অভিজ্ঞতা আর তা না থাকলে তোমার কোন দাম নাই। শেখা শেষে তুমি যদি কিছু ছোট ছোট প্রজেক্টে কাজ করো বা নিজের কিছু ডেমো কাজ তৈরি করো, তাহলে সেটা ভবিষ্যতে ক্লায়েন্ট বা চাকরিদাতার কাছে অনেক মূল্যবান হবে তোমার হাতের কাজের জন্য । সার্টিফিকেট তোমার শেখার প্রমাণ হলেও, প্র্যাকটিক্যাল কাজই দেখায় তুমি কতটা পারো। তাই কোর্স শেষ করেই চুপ করে বসে না থেকে নিজে কিছু করে দেখাও, মানে শিখে ইনকামের রাস্তা থাকতে হবে। ধীরে ধীরে তোমার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং স্কিল বাস্তবে প্রমাণ করতে পারবে। এই অভ্যাসই তোমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে। যে তুমি সবার থেকে আলাদা হতে পারো।
তুমি যখন কোনো স্কিল শিখে ফেলছো, তখন বুঝতে হবে যে শেখার কাজ এখানেই শেষ নয় আসাকে চালিয়ে যেতে হবে । কারণ সময়ের সাথে প্রযুক্তি ও চাহিদা বদলায়, তাই তোমার স্কিলও আপডেট রাখা জরুরি, বেশি করে সবাই কিছু নিজের মধ্যে রাখতে হবে । অনলাইনে নিয়মিত নতুন নতুন কোর্স, টিউটোরিয়াল বা ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে নিজেকে আপডেট রাখবে। এর ফলে তুমি বর্তমান মার্কেটের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারবে অসুবিধা হবে না। পুরনো কৌশল দিয়ে অনেকদিন যাবৎ কাজ করা মানে পেছনে পড়া সব কিছু নিয়মিত রাখতে হবে। তাই নিজের শেখা ও দক্ষতা বজায় রাখতে নিয়মিত নিজেকে নতুন তথ্য ও স্কিল শেখাতে হবে। এটাই তোমাকে পেশাদার ও সফল বানাবে।
অনলাইন শিখতে গেলে ধৈর্য ধরে নিয়মিত চেষ্টা করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এটা থাকলে তুমি সফল । শুরুতে অনেক সময় মনে হতে পারে শেখা কঠিন বা মনোযোগ কম থাকে, কিন্তু এটাই স্বাভাবিক। তোমাকে ধৈর্য ধরে প্রতিদিন কিছু সময় দিয়ে চর্চা করতে হবে এটাই ধরে রাখতে পারলে আর কিছু করতে হবে না। ধীরে ধীরে স্কিল উন্নত হবে এবং কাজ করাও সহজ হয়ে যাবে। নিয়মিত চর্চা ছাড়া তুমি ভালো কিছু অর্জন করতে পারবে না এটা তোমাকে মনে রাখতে হবে সময় কাজ সময় ছাড়া করা যাবে না। তাই মাঝে মাঝে হতাশ হয়ে পড়লেও হাল ছাড়বে না। নিজের উন্নতির জন্য একদিনে নয়, নিয়মিত কাজ করতেই হবে। এভাবেই তোমার শেখা ফলপ্রসূ হবে এবং বাস্তবে কাজে লাগবে।