গুগলে র্যাঙ্ক করার জন্য কপি-পেস্ট ফ্রি বাংলা কনটেন্ট লেখার উপায়
গুগলে র্যাঙ্ক পাওয়ার জন্য কপি-পেস্ট ফ্রি বাংলা কনটেন্ট লেখার বাস্তব উপায়, রিসার্চ কৌশল ও SEO-friendly টিপস নিয়ে সম্পূর্ণ গাইড।
আমি যখন গুগলে র্যাঙ্ক করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন বাংলা ব্লগ শুরু করি, তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল কপি-পেস্ট ছাড়া সত্যিই কি বাংলা কনটেন্ট লেখা সম্ভব? ইন্টারনেটে তথ্যের অভাব নেই, কিন্তু বেশিরভাগ জায়গায় একই লেখা ঘুরে-ফিরে ব্যবহার করা হয়। নতুন ব্লগার হিসেবে এতে বিভ্রান্ত হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু সময়ের সাথে বুঝেছি, গুগল শুধু লেখা দেখে না ভ্যালু, অভিজ্ঞতা আর বিশ্বাসযোগ্যতাই আসল।
এই লেখায় আমি কোনো তাত্ত্বিক কথা বলিনি। বরং নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা, বাস্তব উদাহরণ এবং প্র্যাকটিক্যাল কৌশল শেয়ার করেছি যেগুলো ব্যবহার করে নতুন বাংলা ব্লগে কপি-পেস্ট ফ্রি কনটেন্ট লিখে গুগলে র্যাঙ্ক করা সম্ভব। আপনি যদি নতুন ব্লগার হন এবং দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে চান, তাহলে এই গাইডটি আপনার জন্য একটি বাস্তব রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে।
সূচিপত্র
1️ কপি-পেস্ট কনটেন্ট গুগলে কেন র্যাঙ্ক করে না
2️ গুগল কীভাবে বাংলা ডুপ্লিকেট কনটেন্ট শনাক্ত করে
3️ কপি-পেস্ট ফ্রি কনটেন্ট লেখার আগে সঠিক রিসার্চ কৌশল
4️ নিজের ভাষায় ইউনিক বাংলা কনটেন্ট লেখার বাস্তব পদ্ধতি
5️ রিরাইটিং আর কপি-পেস্টের পার্থক্য নতুন ব্লগারদের জন্য
6️ SEO-friendly বাংলা কনটেন্ট স্ট্রাকচার যেটা গুগল পছন্দ করে
7️ ১০০% কপি-পেস্ট ফ্রি কনটেন্ট যাচাই করার ফ্রি টুল
8️ কীওয়ার্ড স্টাফিং ছাড়া গুগলে র্যাঙ্ক পাওয়ার কৌশল
9️ ইউনিক কনটেন্ট দিয়ে গুগলের ট্রাস্ট দ্রুত অর্জনের উপায়
10 নতুন বাংলা ব্লগে নিয়মিত কপি-পেস্ট ফ্রি কনটেন্ট লেখার রুটিন
১️ কপি-পেস্ট কনটেন্ট গুগলে কেন র্যাঙ্ক করে না
আমি যখন গুগলে র্যাঙ্ক করার বিষয়টা সিরিয়াসভাবে বুঝতে শুরু করি, তখন প্রথম যে সত্যটা সামনে আসে কপি-পেস্ট কনটেন্ট দিয়ে র্যাঙ্ক পাওয়া প্রায় অসম্ভব। গুগলের মূল লক্ষ্য হলো ইউজারকে সেরা ও নতুন তথ্য দেওয়া। অন্য জায়গা থেকে কপি করা লেখা সেখানে কোনো নতুন ভ্যালু যোগ করে না। তাই গুগল এমন কনটেন্টকে হয় ইনডেক্সই করে না, নয়তো অনেক নিচে রেখে দেয়।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একসময় আমি ভেবেছিলাম নতুন সাইট, তাই একটু কপি করলে সমস্যা হবে না। কিন্তু কয়েকটি পোস্ট প্রকাশ করার পর দেখলাম, কোনো পোস্টই সার্চে আসছে না। পরে যখন কপি-পেস্ট বাদ দিয়ে নিজের ভাষায়, নিজের বোঝাপড়া দিয়ে লেখা শুরু করলাম, তখন আস্তে আস্তে পোস্ট ইনডেক্স হতে লাগল। তখনই পরিষ্কার বুঝেছি র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম শর্তই হলো ইউনিক কনটেন্ট।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, একই টপিক নিয়ে যদি ২০টি ওয়েবসাইটে একই লেখা থাকে, গুগল কেন আপনাকে দেখাবে? কিন্তু আপনি যদি সেই টপিক নিজের অভিজ্ঞতা, নতুন উদাহরণ আর সহজ ব্যাখ্যা দিয়ে লেখেন, গুগল সেটাকে আলাদা করে চিনবে। কারণ সেখানে নতুন তথ্য ও ব্যবহারযোগ্য সমাধান আছে। তাই গুগলে র্যাঙ্ক করতে চাইলে কপি-পেস্ট নয়, কপি-পেস্ট ফ্রি বাংলা কনটেন্টই একমাত্র নিরাপদ ও কার্যকর পথ।
২️ গুগল কীভাবে বাংলা ডুপ্লিকেট কনটেন্ট শনাক্ত করে
আমি আগে ভাবতাম গুগল শুধু হুবহু কপি করা লেখা ধরতে পারে। কিন্তু বাস্তবে গুগল বাংলা কনটেন্ট বিশ্লেষণে অনেক বেশি বুদ্ধিমান। গুগল এখন শুধু শব্দ নয়, বাক্যের গঠন, লেখার ধরণ, তথ্য উপস্থাপনের প্যাটার্ন এবং কনটেন্টের উদ্দেশ্য পর্যন্ত বুঝতে পারে। তাই শব্দ বদলালেও যদি ভাব, স্ট্রাকচার ও তথ্য এক হয়, গুগল সেটাকে ডুপ্লিকেট বা লো-ভ্যালু কনটেন্ট হিসেবে শনাক্ত করে।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একবার আমি একটি বাংলা আর্টিকেল ইংরেজি সোর্স থেকে রিরাইট করেছিলাম। শব্দ আলাদা ছিল, কিন্তু আইডিয়া ও অনুচ্ছেদের ক্রম একই ছিল। ফলাফল? পোস্টটি ইনডেক্স হতে অনেক দেরি করেছিল এবং কোনো র্যাঙ্কই পায়নি। পরে আমি সেই একই টপিক নতুনভাবে সাজিয়ে, নিজের ভাষায় ও নিজের অভিজ্ঞতা যোগ করে লিখি। তখন খুব দ্রুত গুগলে ইনডেক্স হয় এবং সার্চ ইমপ্রেশনও বাড়তে থাকে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, অনেক সাইটেই লেখা আছে “ইউনিক কনটেন্ট ছাড়া SEO সম্ভব না।” আপনি যদি একই কথা ঘুরিয়ে লেখেন, গুগলের কাছে সেটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু আপনি যদি বলেন “একই লেখা শত জায়গায় থাকলে গুগল ইউজারকে নতুন সাইট দেখানোর কারণ পায় না” এটাই আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি। এই নতুন ব্যাখ্যাই গুগলকে বুঝিয়ে দেয় আপনার কনটেন্ট কপি নয়। তাই বাংলা ব্লগে র্যাঙ্ক পেতে হলে গুগলের এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া বুঝে ইউনিকভাবে লিখতে হবে।
৩️ কপি-পেস্ট ফ্রি কনটেন্ট লেখার আগে সঠিক রিসার্চ কৌশল
আমি যখন গুগলে র্যাঙ্ক করার জন্য কনটেন্ট লিখি, তখন সরাসরি লেখা শুরু করি না। আগে রিসার্চ করি এই টপিক নিয়ে মানুষ আসলে কী জানতে চায়। গুগলে কীওয়ার্ডটি সার্চ করে প্রথম পেজের ফলাফলগুলো দেখি, কিন্তু কপি করার জন্য নয়। আমি লক্ষ্য করি কোন প্রশ্নগুলোর উত্তর সবাই দিচ্ছে, আর কোন জায়গাগুলোতে তথ্য অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট। এই গ্যাপগুলোই আমার কনটেন্টের মূল শক্তি হয়।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগে আমি শুধু একটি সোর্স দেখে লেখা শুরু করতাম। এতে লেখা ইউনিক হলেও ইউজারদের প্রশ্নের পুরো উত্তর দিতে পারত না। পরে আমি একাধিক সোর্স থেকে তথ্য নিয়ে নিজের মতো করে সাজানো শুরু করি। এতে করে কনটেন্ট অনেক বেশি তথ্যবহুল হয় এবং ইউজার পোস্টে বেশি সময় দেয়। এই ইউজার বিহেভিয়ার গুগলকে পজিটিভ সিগন্যাল দেয়।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আপনি যদি “কপি-পেস্ট ফ্রি বাংলা কনটেন্ট লেখার উপায়” নিয়ে লিখেন, তাহলে শুধু লেখার নিয়ম বললেই হবে না। মানুষ জানতে চায় কোন ভুলগুলো করলে কনটেন্ট কপি মনে হয়, কীভাবে শুরু করবে, নতুন ব্লগার হিসেবে কীভাবে নিজেকে আলাদা করবে। আপনি যদি রিসার্চ করে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একসাথে দেন, তাহলে আপনার কনটেন্ট অন্য সব লেখার থেকে আলাদা হবে এবং গুগলে র্যাঙ্ক করার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যাবে।
৪️ নিজের ভাষায় ইউনিক বাংলা কনটেন্ট লেখার বাস্তব পদ্ধতি
আমি যখন নিজের ভাষায় ইউনিক বাংলা কনটেন্ট লিখতে চাই, তখন প্রথমেই মনে রাখি এই লেখা আমার মতো আরেকজন মানুষের জন্য। তাই অন্যের লেখা দেখে হুবহু অনুকরণ না করে আগে বিষয়টা বুঝে নিই। কোনো টপিক নিয়ে রিসার্চ করার পর আমি কিছুক্ষণ কিছুই লিখি না, বরং মাথার ভেতর বিষয়টা সাজাই। এরপর নিজের অভিজ্ঞতা আর বোঝাপড়া দিয়ে নতুন করে লেখা শুরু করি। এতে করে লেখা স্বাভাবিক হয় এবং কপি-পেস্টের গন্ধ থাকে না।
কপি পেষ্ট সম্পর্কে আরো জানতে ক্লিক করুন
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগে আমি ইংরেজি আর্টিকেল পড়ে সরাসরি বাংলায় রিরাইট করতাম। শব্দ বদলালেও লেখার ফিল একই থাকত, ফলে র্যাঙ্ক আসত না। পরে আমি একটি অভ্যাস তৈরি করি—রেফারেন্স দেখা শেষ করে নোট বন্ধ করে লেখা শুরু করি। এই পদ্ধতিতে লেখা অনেক বেশি ইউনিক হয়েছে এবং গুগলেও ভালো পারফর্ম করেছে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, কেউ লিখেছে “SEO কনটেন্ট গুগলে র্যাঙ্ক করতে সাহায্য করে।” আপনি যদি সেটাকে নিজের ভাষায় লিখেন “সঠিকভাবে অপটিমাইজ করা লেখা না হলে ভালো তথ্যও গুগলে হারিয়ে যায়” তাহলে একই কথা হলেও প্রকাশ একদম আলাদা। এই আলাদা ভাবনাই আপনার বাংলা কনটেন্টকে ইউনিক করে এবং গুগলে র্যাঙ্ক পাওয়ার পথে এগিয়ে দেয়।
৫️ রিরাইটিং আর কপি-পেস্টের পার্থক্য নতুন ব্লগারদের জন্য
আমি যখন নতুন ছিলাম, তখন রিরাইটিং আর কপি-পেস্টকে প্রায় একই মনে করতাম। ভাবতাম কয়েকটা শব্দ বদলালেই বুঝি কনটেন্ট ইউনিক হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে কপি-পেস্ট মানে হলো অন্যের লেখা সরাসরি বা সামান্য পরিবর্তন করে ব্যবহার করা, আর রিরাইটিং মানে হলো একই বিষয়কে নিজের বোঝাপড়া, নিজের ভাষা ও নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করা। এই পার্থক্যটা না বুঝলে গুগলে র্যাঙ্ক করা কঠিন।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একবার আমি একটি আর্টিকেল শুধু শব্দ পাল্টে প্রকাশ করেছিলাম। শুরুতে কিছুই বুঝিনি, কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর দেখলাম পোস্টটি কোনো ট্রাফিকই পাচ্ছে না। পরে আমি একই টপিক নতুন স্ট্রাকচারে লিখি, নিজের অভিজ্ঞতা আর উদাহরণ যোগ করি। তখন সেই পোস্ট ইনডেক্স হয় এবং আস্তে আস্তে সার্চে দেখা দিতে শুরু করে। তখনই বুঝেছি রিরাইটিং মানে কপি নয়।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, কোনো সাইটে লেখা আছে “ভালো কনটেন্ট ছাড়া ব্লগ সফল হয় না।” কপি-পেস্ট করলে আপনি একই কথা লিখবেন। কিন্তু রিরাইটিং করলে আপনি লিখতে পারেন “মানুষ তখনই ব্লগে ফিরে আসে, যখন লেখা তাদের সত্যিকারের উপকার করে।” ভাব একই, কিন্তু প্রকাশ আলাদা। এই আলাদা উপস্থাপনই গুগলের কাছে ভ্যালু তৈরি করে এবং নতুন ব্লগারকে নিরাপদভাবে র্যাঙ্ক করার সুযোগ দেয়।
৬️ SEO-friendly বাংলা কনটেন্ট স্ট্রাকচার যেটা গুগল পছন্দ করে
আমি যখন গুগলে র্যাঙ্ক করার কথা মাথায় রেখে বাংলা কনটেন্ট লিখি, তখন শুধু ভালো লেখা নয় লেখার গঠনেও গুরুত্ব দিই। গুগল এমন কনটেন্ট পছন্দ করে যেটা পড়তে সহজ এবং পরিষ্কারভাবে সাজানো। তাই আমি সবসময় একটি স্পষ্ট H1 টাইটেল ব্যবহার করি, এরপর বিষয় অনুযায়ী H2 ও H3 হেডিং দিই। এতে করে পাঠক যেমন দ্রুত বুঝতে পারে, তেমনি গুগলও কনটেন্টের মূল বিষয় সহজে শনাক্ত করতে পারে।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগে আমি একটানা বড় প্যারাগ্রাফে লেখা দিতাম। তথ্য ভালো হলেও ইউজার দ্রুত স্ক্রল করে চলে যেত। পরে যখন কনটেন্টকে ছোট প্যারাগ্রাফ, সাবহেডিং আর বুলেট পয়েন্টে ভাগ করলাম, তখন ইউজার পোস্টে বেশি সময় দিতে শুরু করল। এই সময়টাই গুগলের কাছে পজিটিভ সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে এবং র্যাঙ্ক উন্নত হতে সাহায্য করে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আপনি যদি “কপি-পেস্ট ফ্রি বাংলা কনটেন্ট লেখার উপায়” নিয়ে লিখেন, তাহলে এক প্যারাগ্রাফে সব না লিখে আলাদা আলাদা অংশ করুন সমস্যা, সমাধান, টুলস, টিপস। এতে পাঠক প্রয়োজনীয় অংশ দ্রুত খুঁজে পায়। এই সঠিক স্ট্রাকচারই একটি সাধারণ লেখাকে SEO-friendly ও গুগল-পছন্দের কনটেন্টে রূপান্তর করে।
৭️ ১০০% কপি-পেস্ট ফ্রি কনটেন্ট যাচাই করার ফ্রি টুল
আমি যখন নতুন বাংলা ব্লগে কনটেন্ট লিখি, তখন লেখা শেষ করেই সরাসরি পাবলিশ করি না। আগে নিশ্চিত হই লেখাটা সত্যিই কপি-পেস্ট ফ্রি কি না। এজন্য আমি কিছু ফ্রি প্লেজিয়ার চেক টুল ব্যবহার করি। নতুন ব্লগের ক্ষেত্রে এটা খুব জরুরি, কারণ শুরুতেই যদি ডুপ্লিকেট কনটেন্ট ধরা পড়ে, তাহলে গুগলের কাছে সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হতে দেরি হয়।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একবার আমি নিজের লেখা একটি পোস্ট চেক না করেই প্রকাশ করেছিলাম। পরে একটি টুলে চেক করে দেখি কয়েকটি সাধারণ বাক্য অন্য সাইটের সাথে মিল আছে। তখন আমি সেই অংশগুলো আবার নিজের ভাষায় লিখি। এই ছোট পরিবর্তনের পরই পোস্টটি দ্রুত ইনডেক্স হয় এবং সার্চ ইমপ্রেশন বাড়তে থাকে। তখন বুঝেছি এই টুলগুলো শুধু ভুল ধরার জন্য নয়, বরং কনটেন্টকে আরও ভালো করার সুযোগ দেয়।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আপনি যদি লেখেন “SEO কনটেন্ট গুগলে র্যাঙ্ক করতে সাহায্য করে” এটা অনেক জায়গায় আছে। টুল সেটা দেখাবে। তখন আপনি লিখতে পারেন “সঠিকভাবে অপটিমাইজ করা লেখা গুগলে দৃশ্যমানতা বাড়ায়।” অর্থ একই, কিন্তু প্রকাশ আলাদা। এভাবেই ফ্রি প্লেজিয়ার চেক টুল ব্যবহার করে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে আপনার বাংলা কনটেন্ট সত্যিই কপি-পেস্ট ফ্রি এবং গুগলে র্যাঙ্ক করার জন্য নিরাপদ।
৮️ কীওয়ার্ড স্টাফিং ছাড়া গুগলে র্যাঙ্ক পাওয়ার কৌশল
আমি শুরুতে SEO শেখার সময় মনে করতাম একই কীওয়ার্ড যত বেশি ব্যবহার করব, গুগলে তত দ্রুত র্যাঙ্ক পাব। কিন্তু বাস্তবে এই কাজটাই সবচেয়ে বড় ভুল, যাকে বলে কীওয়ার্ড স্টাফিং। গুগল এখন খুব সহজেই বুঝে ফেলে অপ্রাকৃতিকভাবে কীওয়ার্ড ঢোকানো হয়েছে কি না। তাই আমি এখন আগে মানুষের জন্য লিখি, পরে স্বাভাবিকভাবে কীওয়ার্ড বসাই।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একবার আমি একটি পোস্টে একই কীওয়ার্ড অযথা অনেকবার ব্যবহার করেছিলাম। লেখা পড়তে বিরক্তিকর লাগছিল, আর কয়েক সপ্তাহ পর দেখলাম পোস্টের র্যাঙ্ক নামতে শুরু করেছে। পরে আমি সেই লেখা এডিট করে কীওয়ার্ড কমাই, এর বদলে সম্পর্কিত শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করি। এই পরিবর্তনের পর পোস্টটি আবার আস্তে আস্তে ইমপ্রেশন ও ক্লিক পেতে শুরু করে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, যদি আপনার মূল কীওয়ার্ড হয় “কপি-পেস্ট ফ্রি বাংলা কনটেন্ট”, তাহলে সেটি প্রতি লাইনে বসানোর দরকার নেই। এর বদলে আপনি ব্যবহার করতে পারেন “ইউনিক বাংলা লেখা”, “নিজের ভাষায় কনটেন্ট”, “SEO-friendly বাংলা আর্টিকেল”। এতে লেখা স্বাভাবিক থাকবে, পাঠক বিরক্ত হবে না, আর গুগলও বুঝবে আপনার কনটেন্টটি সত্যিই ভ্যালু দিচ্ছে। এভাবেই কীওয়ার্ড স্টাফিং এড়িয়ে গুগলে নিরাপদে র্যাঙ্ক পাওয়া সম্ভব।
৯️ ইউনিক কনটেন্ট দিয়ে গুগলের ট্রাস্ট দ্রুত অর্জনের উপায়
আমি যখন কপি-পেস্ট পুরোপুরি বাদ দিয়ে নিজের ভাষায় নিয়মিত কনটেন্ট লেখা শুরু করি, তখন বুঝতে পারি গুগলের ট্রাস্ট একদিনে আসে না। ট্রাস্ট তৈরি হয় সময়ের সাথে, আর তার মূল ভিত্তি হলো ইউনিক ও ভ্যালু দেওয়া কনটেন্ট। আমি চেষ্টা করি প্রতিটি লেখায় বাস্তব সমস্যা তুলে ধরতে এবং তার ব্যবহারযোগ্য সমাধান দিতে। এতে করে পাঠক শুধু পড়ে চলে যায় না, বরং লেখার উপর বিশ্বাস করতে শেখে।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শুরুতে আমার পোস্টে খুব বেশি ভিজিটর আসত না। কিন্তু যারা আসত, তারা পোস্টে সময় দিত, পুরো লেখা পড়ত। ধীরে ধীরে এই ইউজার বিহেভিয়ারই গুগলের কাছে পজিটিভ সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে। কয়েক মাস পর লক্ষ্য করলাম নতুন পোস্টগুলো আগের তুলনায় দ্রুত ইনডেক্স হচ্ছে এবং র্যাঙ্ক পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে গেছে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আপনি যদি শুধু অন্যের লেখা অনুবাদ করেন, পাঠক একবার আসবে, কিন্তু ফিরে আসবে না। কিন্তু আপনি যদি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন কোন ভুল করেছেন, কীভাবে সমাধান পেয়েছেন তাহলে পাঠক আপনাকে চিনবে। এই পরিচিতি থেকেই ট্রাস্ট তৈরি হয়। আর এই ট্রাস্টই ইউনিক বাংলা কনটেন্টকে গুগলে দীর্ঘমেয়াদে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
১০ নতুন বাংলা ব্লগে নিয়মিত কপি-পেস্ট ফ্রি কনটেন্ট লেখার রুটিন
আমি নতুন বাংলা ব্লগে গুগলে র্যাঙ্ক পাওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা গুরুত্ব দিই, তা হলো নিয়মিত ইউনিক কনটেন্ট প্রকাশ। অনিয়মিত লেখালে গুগল যেমন কনফিউজড হয়, তেমনি পাঠকরাও আগ্রহ হারায়। তাই আমি নিজের জন্য একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করেছি যেটা দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা যায়।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগে আমি ইচ্ছেমতো লিখতাম। কখনো টানা কয়েকদিন পোস্ট দিতাম, আবার অনেকদিন কিছুই লিখতাম না। ফলে ব্লগে কোনো স্থায়ী গ্রোথ হচ্ছিল না। পরে আমি সপ্তাহভিত্তিক রুটিন বানালাম একদিন রিসার্চ, একদিন লেখা, একদিন এডিট ও পাবলিশ। এই ধারাবাহিকতার ফলেই ব্লগ আস্তে আস্তে গুগলের নজরে আসে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আপনি যদি সপ্তাহে মাত্র ২টি ইউনিক পোস্ট নিয়মিত প্রকাশ করেন, তাহলে মাসে ৮টি কপি-পেস্ট ফ্রি কনটেন্ট পাবেন। এই ধারাবাহিক ইউনিক কনটেন্টই গুগলকে বুঝিয়ে দেয় যে আপনার সাইটটি অ্যাক্টিভ ও বিশ্বাসযোগ্য। নিয়মিত প্র্যাকটিস ছাড়া গুগলে র্যাঙ্ক করা সম্ভব নয় এই রুটিনই তার সবচেয়ে বাস্তব সমাধান।

