

ঘুম না হওয়া আজকাল খুব সাধারণ একটি সমস্যা, কিন্তু এর পেছনের কারণগুলো একেকজনের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। স্ট্রেস, হরমোনের পরিবর্তন, স্ক্রিনের আলো, খাবারের অভ্যাস কিংবা শরীরের লুকানো কোনো অসুবিধা সবকিছু মিলেই ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়। এই নিবন্ধে তুমি সহজ ভাষায় জানতে পারবে ঘুম না হওয়ার কারণ, লক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিকভাবে ঘুম ঠিক করার কার্যকর উপায়। ভাল ঘুমই ভালো স্বাস্থ্যের ভিত্তি তাই সমাধান জানা জরুরি।
কখন ডাক্তার দেখাবেন – ইনসমনিয়ার গুরুতর অবস্থার পরিচয়
ভাই, ইনসমনিয়া আসলে এমন এক অবস্থা যখন তোমার মাথা ক্লান্ত থাকলেও ঠিক মতো ঘুম আসবে না কোন কিছু ভালো লাগবে না। অনেক সময় স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা বা শরীরের হরমোনের গণ্ডগোলের কারণে এই সমস্যা শুরু হতে পারে দুশ্চিন্তা অনেক খাবার একটা জিনিস যা তোমাকে শেষ করে দিবে। ঘুম না হওয়ার কারণ বোঝা জরুরি, কারণ কারণটা জানলেই সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হবে ঘুম মানুষের একটা ওষুধ। তুমি যদি নিয়মিত রাতে ঘুমাতে না পারো, তাহলে এটাকে অবহেলা করা ঠিক নয় কারণ ছোট সমস্যা থেকেও বড় ঘুমের ব্যাধি তৈরি করবে ঘুমের জন্য অনেক কিছু হতে পারে।
ভাই, ইনসমনিয়া দুই ধরনের হতে পারে হঠাৎ হওয়া ও দীর্ঘদিন হয়ে থাকা। হঠাৎ হলে তা সাধারণত স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা বা ঘুমের রুটিন নষ্ট হওয়ার কারণে হতে। আর দীর্ঘমেয়াদি ইনসমনিয়া আস্তে আস্তে শরীর ও মনের ওপর চাপ সৃষ্ট করে থাকে। তুমি যদি নিয়মিত ঘুমাতে সমস্যা অনুভব করে থাকো তাহলে তবে এটা শুধু অভ্যাসের বিষয় নয় এর পেছনে লুকিয়ে থাকা ঘুম না হওয়ার কারণ ঘুম না হলে শরীর খারাপ করে।
ভাই, আমাদের শরীরে ঘুম নিয়ন্ত্রণ হয় একটি নির্দিষ্ট ছন্দে এটা করার লাগে, যাকে স্লিপ সাইকেল বলা হয়। এই সাইকেলে তোমার দেহ ও মস্তিষ্ক আস্তে আস্তে বিশ্রামের মোডে অবস্থা চলে যায়। কিন্তু দৈনন্দিন স্ট্রেস, মানসিক চাপ বা রাত জাগার অভ্যাস এই স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয় মন চাইলে হয় না। তাই ঘুম না হওয়ার কারণ অনেক সময় এই স্লিপ সাইকেলের ব্যাঘাত বিভিন্ন ব্যাঘাতে হয়। তুমি যদি নিয়মিত রুটিন মানো, শরীর আবার নিজের মতো করে ঘুমের ছন্দ ফিরিয়ে আনতে পারে তাহলে সব ঠিক।
ভাই, ইনসমনিয়ার পেছনে বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক কারণ কাজ করে থাকে । যেমনঃ অতিরিক্ত মানসিক চাপ, কোনো দুশ্চিন্তা, হরমোনের সমস্যা বা দীর্ঘদিনের খারাপ ঘুমের অভ্যাস এগুলো অনেক ক্ষতি কর। এসব জিনিস তোমার মস্তিষ্ককে বিশ্রাম নিতে দেয় না ফলে ঘুম গভীর হয় না বা বারবার ভেঙে যায় সঠিক ঘুম হয় না। তাই ঘুম না হওয়ার কারণ শুধু একটি নয়, বরং ছোট ছোট অনেক সমস্যার মিলিত প্রভাব সব গুলো এক সাথে হয়ে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তুমি চাইলে এসব অভ্যাস আস্তে আস্তে ঠিক করতে পারবে আর তোমার সমাধান আসবে।
ভাই, মেলা টোনিন নামের একটি হরমোন তোমার শরীরে স্বাভাবিক নিয়োমে তৈরি হয় এবং তোমার এটা ঘুমের সংকেত দেয়। কিন্তু যখন স্ট্রেস বেড়ে যায় বা অতিরিক্ত মোবাইল স্ক্রিন ব্যবহার করো, তখন এই হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে কারণ মোবাইল স্ক্রিন অনেক ক্ষতি কর একটা ডিভাইস। আবার কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন বেড়ে গেলে ঘুম আরও দূরে সরে যায় এ সব এড়িয়ে যেতে হবে। তাই অনেক সময় ঘুম না হওয়ার কারণ সরাসরি এই হরমোনের গোলমাল হওয়া। তুমি রুটিন ঠিক রাখলে এগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আনতে পারবে।
স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
ভাই, স্ট্রেস আর দুশ্চিন্তা তোমার মস্তিষ্ককে সব সময় সক্রিয় রাখে, ফলে শরীর রিল্যাক্স হতে পারে না, দুশ্চিন্তা মারাত্মক একটা জিনিস যা শরিরের অনেক ক্ষতি করে। দিনের ছোট খাটো টেনশন রাতে মাথায় ঘুরতে থাকে, আর মস্তিষ্ক যখন শান্ত হয় না, তখন ঘুমও সহজে আসে না, সারাদিনে কথা গুলো সব সময় মনে আসে কন্ট্রোল করতে পারে না। তাই অনেক সময় ঘুম না হওয়ার কারণ হলো এই মানসিক চাপের বোঝা। তুমি যদি দিনের শেষে একটু সময় নিয়ে মন হালকা করতে পারো, তাহলে ঘুম আসা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
ভাই, ধরো মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির নীল আলো তোমার চোখে গিয়ে মস্তিষ্ককে ভুল বার্তা দেয় যে এখনো দিন চলছে, বর্তমান সময় ৫০% সঠিক কথা পাওয়া যায়। এতে মেলা টোনিন কমে যায় এবং ঘুমের প্রাকৃতিক সিগন্যাল নষ্ট হয়, যখন ঘুমাতে যাবে তোমার ঘুম আসবে না। ফলে তুমি ক্লান্ত হলেও ঘুম আসবে না বা অনেক দেরি হয়। তাই অনেকের ঘুম না হওয়ার কারণ হলো রাত জেগে স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা আর এটা সব চেয়ে বেশি ক্ষতি কর। তুমি যদি ঘুমানোর আগে অন্তত এক ঘণ্টা স্ক্রিন বন্ধ রাখো, তাহলে ঘুম অনেক দ্রুত চলে আসবে।
ভাই, তুমি রাতে ভারী খাবার, বেশি মশলা বা কফি-চা খেলে তোমার শরীর উত্তেজিত হয়ে থাকে এবং পেটের অস্বস্তি ঘুমকে বাধা দেয় ঘুম আসতে দেয় না। অনেক সময় ক্যাফেইন দীর্ঘসময় রক্তে সক্রিয় থাকে, ফলে ঘুমের চাপ কমে যায় চা খেলে মানুষ ঘুম অনেক টা কমে যায়। আবার অম্লতা বা গ্যাস হলে শোয়ার পর অস্বস্তি বাড়ে। তাই অনেকের ঘুম না হওয়ার কারণ হলো ভুল খাওয়া দাওয়া করা ও খাবারের সময় সূচি অনিয়োম, ঘুম মানুষের জন্য বাধ্যতা যা না ঠিক থাকলে শরিরের ক্ষতি। তুমি সময় মতো হালকা খাবার খেলে ঘুম অনেকটাই সহজ হবে।
ভাই, অনেক সময় শরীরের ভেতরের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা ঘুমে প্রভাব ফেলে। যেমনঃ থাইরয়েডের গতি বেড়ে গেলে শরীর অস্থির থাকে, অ্যাসিডিটি হলে ঘুমানোর পর পেট জ্বালা করে আবার ব্যথা বা অস্বস্তি থাকলে গভীর ঘুম ধরতেই চায় না, মানুষ একটু সমস্যা করলে রাতে কখনো ঘুম আসে না। এসব সমস্যা তোমার ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে দেয়, যা যত ক্ষন সুস্থ না হবে শান্তি পাবে না। তাই অনেকের ঘুম না হওয়ার কারণ আসলে শরীরের ভেতরের এসব লুকানো অসুবিধা। তুমি প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারো।
ভাই, কিছু ওষুধ যেমনঃ ব্যথানাশক, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যালার্জির ওষুধ বা স্টেরয়েড শরীরকে উত্তেজিত রাখে, ফলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়, এই রোগ কখনো তোমাকে কখনো শান্তিতে ঘুমাতে দিবে না। আবার কিছু ওষুধ খাওয়ার করনে দিনের ক্লান্তি কমিয়ে দেয়, তাই রাতে ঘুমের চাপ কমে আসে। তুমি যদি নতুন কোনো ওষুধ খাওয়া শুরু করার পর ঘুমে পরিবর্তন অনুভব করো, সেটা স্বাভাবিক তোমার জন্য। অনেক সময় ঘুম না হওয়ার কারণ এই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। প্রয়োজন হলে তুমি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে পারো।
ভাই, ইনসমনিয়ার লক্ষণ সাধারণ ক্লান্তির মতো মনে হলেও আসলে এগুলো বেশ স্পষ্ট রাতে ঘুমাতে দেরি হওয়া ঘুম ভেঙে যাওয়া, ভোরে জেগে ওঠা বা ঘুম ভাঙার পরও সতেজ না লাগা, সব কিছু তে সমস্যা হয়ে পড়ে শান্তি নাই। তুমি যদি নিয়মিত এসব অনুভব করো থাকো, তাহলে বুঝতে হবে তোমার ঘুম ঠিক নেই। অনেক সময় ঘুম না হওয়ার কারণ আগে থেকেই ইঙ্গিত বুঝা যায়, কিন্তু আমরা সেটা ওপর গুরুত্ব দিই না। এসব লক্ষণ ঠিক সময়ে বুঝলে সমস্যাটা সামলানো সহজ হয়।
আমাদের আরো সেবা পেতে ক্লিক করুন
ভাই, ঘুমের জন্য শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। ঘর বেশি গরম বা ঠান্ডা হলে, আলো বা শব্দ থাকলে কিংবা বিছানা অস্বস্তিকর হলে তোমার শরীর রিল্যাক্স হতে পারে না, তোমার অনেক সমস্যা হবে ফলে ভালো ঘুম হয় না। ফলে মন চাইলেও ঘুম ঠিকভাবে আসে না। তাই অনেকের ঘুম না হওয়ার কারণ আসলে ঘরের পরিবেশ ঠিক না থাকা এই ঘারটি টা হয়ে থাকে। তুমি যদি ঘরটা একটু অন্ধকার, নীরব ও আরামদায়ক করে নাও, তাহলে ঘুম দ্রুত ও গভীর ভাবে ঘুমাতে পারবে।
ভাই, প্রাকৃতিক ভাবে ঘুম ঠিক করতে অনেক সময় শুধু কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তনই যথেষ্ট হয়, সে গুলো তুমি যদি অভ্যাস করতে পারো তাহলে হবে। যেমনঃ ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করা, মৃদু আলোতে থাকা, গভীর শ্বাস নেওয়া বা হার্বাল চা খাওয়া শরীরকে শান্ত করে, এই সব করলে সব ঠিক থাকবে। নিয়মিত একই সময়ে ঘুমাতে ও উঠতে চেষ্টা করলেও ঘুমের ছন্দ ঠিক হয়, মানে তোমার সব কিছু নিয়োম থাকতে হবে। তাই অনেকের ঘুম না হওয়ার কারণ দূর হয় শুধু এই ছোট ছোট পরিবর্তনেই। তুমি চাইলে ধীরে ধীরে এগুলো রুটিনে আনতে পারবে।
ভাই, ইনসমনিয়ার ক্ষেত্রে কখনো কখনো চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে, বিশেষ করে যখন ঘুমের সমস্যা অনেক দিন ধরে থাকে তখন তোমার সমস্যা সমাধান তো লাগবেই। ডাক্তাররা সাধারণত ঘুমের অভ্যাস, জীবনযাপন ও স্ট্রেসের মাত্রা দেখে উপযুক্ত চিকিৎসা দিয়ে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য ঘুমের ওষুধ বা থেরাপি দেওয়া হয় যাতে মস্তিষ্ক আবার স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দে ফিরে আনতে পারে, ঘুম একটা শান্তির ওষধ। অনেক সময় ঘুম না হওয়ার কারণ ঠিক মতো শনাক্ত করলেই চিকিৎসা আরও দ্রুত কাজে দেয়, আর তুমি ভালো ঘুম ফিরে পেতে শুরু করবে।
ভাই, যদি তুমি অনেক দিন ধরে ঠিক মতো ঘুমাতে না পারো, সকালে ক্লান্ত লাগে বা রাতভর অস্থির মনে হয়, তাহলে এবার ডাক্তার দেখানোর সময় এসেছে, তুমি যদি না পরামর্শ নাও ক্ষতি হবে। কারণ দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা শরীর ও মনের ওপর বড় প্রভাব পড়ে। অনেক সময় ঘুম না হওয়ার কারণ সাধারণ মনে হলেও ভেতরে অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই দেরি না করে সময় মতো পরামর্শ নিলে ঘুম ফিরে পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।