

চুল পড়া শুধু সৌন্দর্যের এটচ বিষয় নয়, বরং এটার জন্য শরীরের ভেতরের বিভিন্ন পরিবর্তনে ইঙ্গিত হতে পারে। হরমোনের সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি, স্ট্রেস বা স্ক্যাল্পের অসুবিধা সব মিলেই চুল দুর্বল হয়ে পড়ে থাকে। তাই শুরুতেই চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা সাহায্য নিন। এই আর্টিকেলে তুমি সহজ ভাষায় জানতে পারবে কোন কারণে চুল পড়ে এবং কীভাবে চিকিৎসা ও যত্নে চুল আবার শক্ত ও ঘন হয়ে উঠতে পারে।
ভাই, জানো চুল পড়া এমন একটি সমস্যা, যা হলে তুমি শুধু চেহারায় নয়, আত্মবিশ্বাসেও পরিবর্তন অনুভব করতে পারো এমন অবস্থা হয়। অনেকেই ভাবে এটা একটা বিষয়টা সাধারণ হতে পারে, কিন্তু আসলে এর পেছনে থাকতে পারে কয়েকটি নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা কারণ। তাই শুরুতেই চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে পরিষ্কার ভাবে ধারণা বা সাহায্য নেওয়া জরুরি। কারণটা বুঝতে পারলে সমাধান খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হবে তোমার, আর তাড়াতাড়ি যত্ন নিলে চুল আবার স্বাভাবিকভাবেই ঘন হয়ে উঠতে পারে এটা তোমার ওপর।
ভাই, চুল পড়া সাময়িক হতে পারে আবার দীর্ঘদিন স্থায়ীও হতে পারে। কখনো শরীরের ভেতরের কখন কোনো পরিবর্তন এর জন্য দায়ী হয়ে হতে পারে তা বলা যায় না সঠিা, আবার কখনো বাইরের যত্নে ঘাটতি থেকে সমস্যা হতে পারে এটা সাভাবিক। তুমি যদি বুঝে নিতে পারো তোমার চুল পড়ছে কেন তার ধরন, তাহলে সমাধান বেছে নেওয়াও খুবই সহজ হবে। তাই চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা ঠিক ভাবে জানা তোমার জন্য খুব জরুরি, কারণ ধরলেই সঠিক ট্রিটমেন্টে দ্রুত উন্নতি দেখা যাবে তোমার।
ভাই, চুলের একটি স্বাভাবিক জীবন চক্র আছে বাড়ে বাড়বে, বিশ্রামে যায় তারপর স্বাভাবিক ভাবে পড়ে। কিন্তু যখন এই চক্রটি বিঘ্নিত হয়ে যায়, তখন চুল স্বাভাবিকের থেক তুলনায় বেশি পড়তে। এতে বুঝা যায় স্ট্রেস, হরমোনের সমস্যা বা পুষ্টির ঘাটতি এই চক্রকে দুর্বল করে দিয়েছে। তুমি যদি বুঝতে পারছো চুলের গ্রোথ সাইকেল কোথায় নষ্ট হচ্ছে, তাহলে সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হয়ে যায়। তাই চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা জানতে হলে এই প্রক্রিয়া বোঝা তোমার জরুরি।
ভাই, অনেকের চুল পড়া জন্মগত ভাবেই বেশি হয়ে থাকে, যাকে জেনেটিক হেয়ার লস বলে। যদি পরিবারের কেউ আগে থেকেই টাকের সমস্যায় ভুগে থাকে তাহলে তোমার ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা দিবে এটা সাভাবিক। এই ধরনের চুল পড়া সাধারণত আস্তে আস্তে হয় এবং সময়ের সাথে বাড়ে চুল পড়া। তাই শুরুতেই নজর দেওয়া প্রয়োজন খুবই জরুরি। জেনেটিক সমস্যায় চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে, তাই উপযুক্ত মেডিকেল ট্রিটমেন্ট নিলে ফল পাওয়া যায় তারাতাড়ি।
ভাই, হরমোনের ওঠানামা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। যেমনঃ থাইরয়েডের সমস্যা, পিসিওএস, গর্ভাবস্থার পর হরমোন কমে যাওয়া বা অ্যান্ড্রোজেন হরমোন বেড়ে গেলে চুল পাতলা হতে থাকে বিভিন্ন কারণ হতে পারে। এসব পরিবর্তন তোমার স্ক্যাল্পের ফোলিকলকে সহজে দুর্বল করে দেয়, ফলে চুল পড়া সাভাবিক হয়ে পড়ে। তাই হরমোন ঠিক আছে কি না জানা খুব জরুরি। এই অবস্থায় চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা বুঝে সঠিক মেডিকেল ট্রিটমেন্ট নিলে দ্রুত উন্নতি সেবা নেওয়া তোমার জরুরি ।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
ভাই, পুষ্টির কমতিতে অনেক সময় চোখে ধরা না গেলে চুলের ওপর বড় প্রভাব পরে। যেমনঃ আয়রন, জিঙ্ক, বায়োটিন বা প্রোটিন কমে গেলে চুলের রুট দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ভেঙে পড়ে যায়। তুমি যদি খাবারে এসব গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি ঠিক না থাকে, তবে চুল ধীরে ধীরে চুল পাতলা হতে থাকবে। তাই সঠিক ডায়েট খুবই জরুরি। পুষ্টিগত সমস্যা হলে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা জানতে রক্ত পরীক্ষা ও উপযুক্ত সাপ্লিমেন্ট সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে তোমার জন্য ।
ভাই, স্ট্রেস ও ঘুমের অভাব শুধু মন নয়, চুলের ওপরও সরাসরি প্রভাব পড়ে থাকে। অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে শরীরে কর্টিসল বাড়ায়, যা চুলের রুটকে দুর্বল করে ফেলে এবং হঠাৎ করে বেশি চুল পড়তে শুরু করে। আবার ভালো ভাবে না ঘুমালে শরীর ঠিক ভাবে রিকভারি করতে পারে না এতে ক্ষতি হতে পারে। তাই এসব অভ্যাস ঠিক করা তোমার জন্য উত্তম। স্ট্রেসজনিত ক্ষেত্রে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা বুঝে রিল্যাক্সেশন, ঘুমের রুটিন ও প্রয়োজন হলে থেরাপি ভালো ফল দেয়।
ভাই, স্ক্যাল্প সুস্থ না থাকলে চুল কখনোই শক্ত ভাবে গজায় পারে না।মনে করো যেমনঃ খুশকি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, সেবোরহিয়িক ডার্মাটাইটিস বা স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত তেল জমে গেলে রুট দুর্বল হয়ে যায় এবং চুল সহজে পড়ে যায়। এসব সমস্যায় চুলের পাশাপাশি স্ক্যাল্পেও চুলকানি ও জ্বালাপোড়া করে আর এতে অনেক ক্ষতি হয়। তাই স্ক্যাল্পের যত্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ দেয়। এ ধরনের অবস্থায় চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা অনুযায়ী মেডিকেটেড শ্যাম্পু ও সঠিক ট্রিটমেন্ট দ্রুত কাজ করে তাই সে অনুযায়ী তোমার তা ব্যবহার করতে হবে।
ভাই, কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে তা ব্যবহার করলে। যেমনঃ অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, রক্তচাপের ওষুধ, থাইরয়েডের ওষুধ, কেমোথেরাপি বা হরমোনাল ওষুধ চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কমিয়ে দিতে সাহায্য করে থাকে। তুমি যদি নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার পর চুল পড়তে দেখো, তবে বিষয়টা গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এমন অবস্থায় চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা বুঝে ডাক্তার ওষুধ বদলাতে বা প্রয়োজনীয় সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট নিতে হবে, তা থেকে মুক্ত করার জন্য।
ভাই, হরমোনাল জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল বা গর্ভাবস্থার পর হরমোন কমে যাওয়ার কারণে অনেক নারী চুল পড়ার সমস্যায় হয়ে থাকে হরমোন জন্য। এই পরিবর্তনে চুলের গ্রোথ ফেজ ছোট ছোট হয়ে যায় এবং বেশি চুল ঝরতে পড়তে থাকে। এটা সাধারণভাবে দেখা গেলেও মানসিক চাপ জন্য তৈরি হয়। তুমি যদি এমন অবস্থায় থাকো, চিন্তার করার কিছু নেই সময়ের সাথে অনেকটাই ঠিক হয়ে যাবে। তবে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা অনুযায়ী সঠিক সাপোর্টিভ কেয়ার নিলে পুনরুদ্ধার আরও দ্রুত সমাধান হবে।
ভাই, চুল পড়ার আসল কারণ খুঁজে বের করতে অনেক সময় কিছু ল্যাব টেস্ট করার প্রয়োজন হয় সেটা কেন পড়ছে তা যাচাই করার জন্য। যেমনঃ থাইরয়েড টেস্ট, আয়রন লেভেল, ভিটামিন ডি বা হরমোন ইত্যাদি পরীক্ষা। এগুলো থেকে বোঝা যায় শরীরের ভেতরে কোনো ঘাটতি আছে কি না বুঝতে পারলে তোমার জন্য সুবিধা। তুমি যদি দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়ার সমস্যায় ভুগো, তাহলে এসব পরীক্ষা খুবই তোমাকে সাহায্য করবে। কারণ সঠিক রিপোর্ট দেখলে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা যায় এবং ফল দ্রুত পাওয়া যায়।
বিভিন্ন সেবা সমূহ জানতে ক্লিক করুন
ভাই, চুল পড়ার চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় মিনোক্সিডিল ও ফিনাস্টারাইড, যেগুলো চুলের রুটকে শক্ত সজেত করে রাখে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে থাকে। মিনোক্সিডিল নারী-পুরুষ দুজনের জন্যই কার্যকর, আর ফিনাস্টারাইড সাধারণত পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার করা হয় নারীদের জন্য নয়। নিয়মিত ব্যবহার করলে কয়েক মাসের মধ্যে ফল দেখতে পাবে। তাই সঠিক ভাবে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা বুঝে ডাক্তার যেভাবে ব্যবহার করতে বলেন ঠিক ভাবে করতে হবে, সেই নিয়ম মেনে চললে চুল আবার ঘন হতে শুরু করবে।
ভাই, আধুনিক চিকিৎসায় চুল পড়া কমানোর জন্য বেশ কিছু কার্যকর থেরাপি বতমান রয়েছে। এর মধ্যে PRP থেরাপি চুলের রুটকে শক্ত করতে সাহায্য করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে, আর লো-লেভেল লেজার থেরাপি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তুলে চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে এই দুই চিকিৎসাই ভালো ফল দিয়ে থাকে। তুমি যদি দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়ায় ভুগো, তাহলে এসব অপশন কাজে আসতে হতো তোমার উপকার হবে। তবে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা অনুযায়ী চিকিৎসকই সঠিক পদ্ধতি ঠিক হয় না তবে ধারনা দেয়।
ভাই, জীবনযাপনের কিছু ছোট পরিবর্তন চুল পড়া কমাতে দারুণ সাহায্য করে থাকে কাজ করে। যেমনঃ সঠিক ডায়েট, পর্যাপ্ত পানি, কম কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার, অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং দূরে থাকা এবং নিয়মিত স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করা। এগুলো চুলের রুটকে শক্ত করে থাকে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। তুমি যদি নিয়ম মেনে এগুলো করতে পারো, তাহলে আস্ত আস্তে তোমার ফলা ফল মিলবে। তাই চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা বুঝে দৈনন্দিন যত্ন নেওয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ।
ভাই, চুল পড়া কখন ডাক্তারকে দেখানোর মতো গুরুতর অবস্থায় পৌঁছেছে সেটা তোমাকে দুরুত্ব করতে হবে দেরি করা যাবে না। যদি তোমার চুল হঠাৎ করে বেশি ঝরতে থাকে, মাথার কোনো অংশে টাকের দাগ দেখা দেয়, স্ক্যাল্পে জ্বালা বা লালচে ভাব থাকে তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের ডাক্তারের কাছে যাওয়া তোমার উচিত। কারণ এগুলো ভেতরের বড় সমস্যার ইঙ্গিত হয়ে যেতো পারে। এমন সময়ে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা সঠিক ভাবে নির্ণয়ই দ্রুত ফল পাওয়ার মূল চাবি কাঠি।