আজকের দিনে আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অনলাইনের সঙ্গে যুক্ত। মোবাইল, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন ব্যাংকিং – সবকিছুই এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু এই ডিজিটাল সুবিধার পেছনে লুকিয়ে আছে অনেক ঝুঁকিও। একটু অসতর্ক হলেই হ্যাকার বা প্রতারকেরা তোমার ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা টাকা হাতিয়ে নিতে পারে। তাই নিজের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং একান্ত প্রয়োজন। নিরাপদ থাকতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা ও মেনে চলা খুবই জরুরি।
ডিজিটাল পৃথিবীতে এখন তুমিই নিজের সবচেয়ে বড় রক্ষক, তুমি চাইলে সব পারবে। তোমার ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক ও সোশ্যাল মিডিয়ার সবকিছুই অনলাইনে থাকে। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুব জরুরি, সবার জন্য। একটু অসাবধান হলেই হ্যাকার বা প্রতারক তোমার দরকারি ডাটা চুরি করতে পারে। এজন্য সচেতন থাকা, সঠিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা ও ভুয়া লিংক এড়িয়ে চলাই হলো নিরাপদ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়। এটা তোমার খুব গুরুত্ব দিতে হবে।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বানানো তোমার ডিজিটাল নিরাপত্তার প্রথম ধাপ। খুব সহজ পাসওয়ার্ড যেমন “123456” বা নিজের নাম কখনোই ব্যবহার করো না। চেষ্টা করতে হবে বড় হাত, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা আর বিশেষ চিহ্ন মিলিয়ে একটা কঠিন পাসওয়ার্ড বানাতে। যেমন: Samiul@,%843। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করো না, এতে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। সম্পূর্ণ তোমার ওরপ ঝুঁকি হবে কি না।
একটা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এমন হতে হবে যা অন্য কেউ সহজে আন্দাজ করতে না পারে দুর থেকে দেখে বুঝতে পারবে না। অন্তত ৮–১২ অক্ষরের হবে, যেখানে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন থাকবে। নিজের নাম, জন্মতারিখ বা মোবাইল নম্বর কখনোই ব্যবহার করা ঠিক না, কারণ অনেকে জানতে পারে। মনে রেখো, এই ধরনের পাসওয়ার্ডই তোমার ডিজিটাল নিরাপত্তাকে সবচেয়ে ভালোভাবে রক্ষা করতে পারে।
ডিজিটাল সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
অনেক গুলো পাসওয়ার্ড মনে রাখা সত্যিই কঠিন, আর এখানেই পাসওয়ার্ড ম্যানেজার তোমার কাজে আসে। এই টুল তোমার সব পাসওয়ার্ড এক জায়গায় নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করে এবং শক্তিশালী নতুন পাসওয়ার্ড বানাতে ও সাহায্য করে। এতে তোমাকে আলাদা করে সব কিছু মনে রাখতে হয় না, আবার নিরাপত্তাও থাকে অনেক বেশি। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তা শক্ত করতে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা খুবই বুদ্ধিমানের কাজ। চাইলে তুমি ব্যবহার করতে পারো।
টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বা 2FA চালু করলে তোমার অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত একটা সুরক্ষা স্তর যোগ হয়, এতে করে কেউ কখন তোমার একাউন্ট হাত দিতে পারবে না। শুধু পাসওয়ার্ড দিলেই আর লগইন করা যায় না, তোমার মোবাইলে একটি কোড আসে, সেটাও দিতে হয়, এর পর সে একাউন্ট প্রবেশ করতে পারবে। এতে কেউ পাসওয়ার্ড জানলেও সহজে ঢুকতে পারবে না। তাই নিজের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজই 2FA চালু করা খুবই জরুরি।
ফিশিং আর ভুয়া লিংক চেনা তোমার ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। অনেক সময় অচেনা নাম্বার বা ইমেইল থেকে এমন লিংক আসে যেখানে তোমাকে তাড়াহুড়ো করে ক্লিক করতে বলা হয়, যা তুমি হয়তো ক্লিক করে দাও। তাই সেখানে কখনো ব্যক্তিগত তথ্য দিবে না। লিংক দেখেই যাচাই করো, সন্দেহ হলে এড়িয়ে যাও। মনে রেখো, একটু সতর্ক থাকলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব, তাই সব সময় সতর্ক থাকবে।
আমাদের আরো সেবা পেতে ক্লিক করুন
সন্দেহজনক মেসেজ সাধারণত তোমাকে ভয় দেখায় বা লোভ দেখানো হয়, যাতে তুমি দ্রুত কোনো লিংকে ক্লিক করো বা তথ্য দাও। যেমন বলা হয়, “এখনই না করলে তোমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে” বা “তুমি লটারি জিতেছো” আরো অনেক ভাষা লিখা থাকে। এই ধরনের মেসেজে বানান ভুল, অচেনা নম্বর বা অদ্ভুত লিংক থাকে। একটু ভালো করে দেখলেই তুমি বুঝতে পারবে। নিজের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য এমন মেসেজ সবসময় এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো।
নিরাপদ ওয়েবসাইট চেক করা তোমার ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য খুবই জরুরি, কারণ নিরাপত্তা না থাকলে কোন কিছুতে মন বসে না। কোনো সাইটে ঢোকার আগে উপরের লিংকটা ভালো করে দেখো। যদি সেখানে https:// লেখা থাকে এবং একটা তালা চিহ্ন দেখা যায়, তাহলে বুঝবে সাইটটি তুলনামূলক নিরাপদ। কিন্তু শুধু http:// হলে সতর্ক হও। অচেনা বা সন্দেহজনক সাইটে কখনোই তোমার ব্যক্তিগত তথ্য বা পাসওয়ার্ড দিবে না। একটু সচেতন থাকলেই বড় ঝামেলা থেকে বাঁচা সম্ভব, তাই সব সময় সচেতন থাক ভালো।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপদ থাকতে হলে তোমাকে একটু বেশি সচেতন হতে হবে, অনেক কিছু জানতে হবে। অপরিচিত মানুষের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট বা মেসেজে সহজে সাড়া দিবে না। নিজের ফোন নম্বর, ঠিকানা বা ব্যক্তিগত ছবি সবাইকে দেখার জন্য পোস্ট করাও ঠিক না। প্রাইভেসি সেটিংস ঠিক করে নিলেই অনেক ঝুঁকি কমে যায়। মনে রেখো, সোশ্যাল মিডিয়ায় তোমার ছোট একটা ভুলও ডিজিটাল নিরাপত্তাকে বড় বিপদে ফেলতে পারে।
প্রাইভেসি সেটিংস ঠিকভাবে কনফিগার করা তোমার ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য খুবই জরুরি, এটা একটা অংশ। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে গিয়ে Settings অপশনে ঢুকলেই তুমি ঠিক করে দিতে পারো কে তোমার পোস্ট দেখবে, কে তোমাকে মেসেজ দিতে পারবে বা ফোন নম্বর দেখতে পারবে কি না সব কিছু করতে পারবে। সবকিছু Public না রেখে Friends বা Only Me করে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ। এতে তোমার ব্যক্তিগত তথ্য অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে, তোমার কিছু দেখতেও পাবে না।
পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে গিয়ে তোমাকে বেশি সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এসব নেটওয়ার্ক সাধারণত নিরাপদ নয়, সে দিক দেখে তোমাকে আগাতে হবে। কফি শপ বা ফ্রি হটস্পটে বসে কখনোই ব্যাংক অ্যাপ, বিকাশ বা গুরুত্বপূর্ণ একাউন্টে লগইন করো না, নাতো বিপদে পড়বে। দরকার হলে ভিপিএন ব্যবহার করো। মনে রেখো, একটু অসাবধান হলেই তোমার তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে, তাই নিজের ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষা করা তোমার হাতেই।
অনলাইন লেনদেন করার সময় তোমাকে খুব সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এখানেই সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হয়, অনলাইন মানে প্রতারনা সৃষ্টি। কারো সাথে কখনোই তোমার পিন, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড শেয়ার করো না, সে যতই আপন হোক না কেন। লেনদেনের আগে ভালো করে নাম আর নম্বর যাচাই করবে এর পর লেন দেন করবে। মনে রেখো, ব্যাংক বা বিকাশ কোনোভাবেই ফোন করে এই তথ্য চায় না। নিজের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব নিয়ম অবশ্যই মেনে চলা দরকার।
শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা অনেক সময় অনলাইনের ঝুঁকি ঠিকমতো বোঝে না, না বুঝে অনেক কিছু করে ফেলে। তাই তুমি যদি অভিভাবক হও, তাহলে তাদের মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে নজর রাখবে। অচেনা মানুষের সাথে চ্যাট, সন্দেহজনক গেম বা ভিডিও এড়িয়ে চলতে শেখাবে। পাশাপাশি কোন তথ্য শেয়ার করা যাবে আর যাবে না এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা তোমার ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য খুবই জরুরি, কারণ এসব আপডেটে নতুন সিকিউরিটি ফিচার আগের দুর্বলতাগুলো ঠিক করে দেওয়া হয়, তাই । অনেকেই আপডেট আসলেও ইগনোর করে, যা একদম ঠিক না। আপডেট না করলে আপডেট চাই করে নিবা। হ্যাকাররা সহজে তোমার ফোন বা কম্পিউটারে ঢুকে পড়তে পারে। তাই সময় পেলেই আপডেট দিয়ে দাও, এতে তোমার ডিভাইস থাকবে বেশি নিরাপদ।
নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা তোমার ডিজিটাল নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য খুবই জরুরি, তোমার ডিভাইসকে নতুন করে তুলবে। কারণ প্রতিটা নতুন আপডেটে পুরনো ত্রুটি ঠিক করা হয় এবং নতুন সিকিউরিটি ফিচার যোগ করা থাকে, যেগুলো হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে তোমার ডিভাইসকে রক্ষা পাবে। অনেকেই আপডেট এড়িয়ে যায়, কিন্তু এতে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই ফোন বা কম্পিউটারে আপডেট এলে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে ইনস্টল করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।