

আমি বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ে সেলস বাড়ানোর সবচেয়ে বাস্তব ও কার্যকর পথ হলো ডিজিটাল মার্কেটিং। কারণ আজকের কাস্টমার বাজারে হাঁটে না সে স্ক্রিনে স্ক্রল করে। ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামে যদি আমি উপস্থিত না থাকি, তাহলে আমার বিজনেস কাস্টমারের চোখেই পড়বে না। ডিজিটাল মার্কেটিং আমাকে শুধু বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করে না, বরং সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করে যেটাই সেলস বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি দেখেছি অনেক ভালো প্রোডাক্ট শুধু সঠিক মার্কেটিং না থাকার কারণে বিক্রি হয় না। আবার সাধারণ প্রোডাক্ট সঠিক ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজির কারণে নিয়মিত সেলস করছে। এই পার্থক্যটা তৈরি করে পরিকল্পনা, ডাটা এবং কাস্টমারকে বোঝার ক্ষমতা। ডিজিটাল মার্কেটিং আমাকে সেই সুযোগ দেয় যেখানে আমি পরীক্ষা করতে পারি, শিখতে পারি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারি।
এই লেখায় আমি শেয়ার করেছি ডিজিটাল মার্কেটিং দিয়ে সেলস বাড়ানোর বাস্তব উপায়গুলো, যেগুলো শুধু থিওরি নয় প্র্যাকটিক্যালি প্রমাণিত। আপনি যদি ছোট বিজনেস, অনলাইন শপ বা সার্ভিস যাই পরিচালনা করেন না কেন, এই গাইড আপনাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে। আমার লক্ষ্য একটাই আপনাকে এমন একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া, যেটা অনুসরণ করে আপনি বাস্তব ফল দেখতে পারবেন।
১. ডিজিটাল মার্কেটিং কী এবং কেন এটি সেলস বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য
২. সঠিক টার্গেট কাস্টমার নির্ধারণের বাস্তব কৌশল
৩. কনভার্সন-ফোকাসড ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং
৪. গুগল সার্চ ও ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন দিয়ে দ্রুত সেলস বাড়ানো
৫. কনটেন্ট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বাস তৈরি ও লং-টার্ম সেলস
৬. ভিডিও মার্কেটিং ও শর্ট-ফর্ম কনটেন্টের বাস্তব প্রভাব
৭. ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং দিয়ে রিপিট সেলস বৃদ্ধি
৮. ল্যান্ডিং পেজ ও ওয়েবসাইট অপ্টিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজি
৯. ডাটা অ্যানালিটিক্স ও কাস্টমার বিহেভিয়ার বিশ্লেষণ
১০. বাজেট অনুযায়ী কার্যকর ডিজিটাল মার্কেটিং রোডম্যাপ
আমি মনে করি ডিজিটাল মার্কেটিং শুধু অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেওয়ার নাম নয়, এটি সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের সামনে সঠিক অফার পৌঁছে দেওয়ার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। আজকের কাস্টমার কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে, গুগলে সার্চ করতে করতে কিংবা ইউটিউবে ভিডিও দেখতে দেখতে। আমি যদি সেখানে উপস্থিত না থাকি, তাহলে আমার প্রোডাক্ট যত ভালোই হোক সেলস হবে না। ডিজিটাল মার্কেটিং আমাকে কম বাজেটে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দেয়, কাস্টমারের আচরণ বুঝতে সাহায্য করে এবং সেলস প্রসেসকে মেজারেবল করে তোলে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এখানে আন্দাজ নয় ডাটা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি যখন প্রথম একটি লোকাল বিজনেসের জন্য কাজ শুরু করি, তখন তারা শুধু বুস্ট পোস্টের ওপর নির্ভর করত। সেলস হচ্ছিল অনিয়মিত। আমি টার্গেট অডিয়েন্স রিসার্চ করে কাস্টম বিজ্ঞাপন সেট করি, ল্যান্ডিং পেজ অপ্টিমাইজ করি এবং রিটার্গেটিং চালু করি। মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে একই বাজেটে সেলস প্রায় দ্বিগুণ হয়। তখনই বুঝি, সঠিক স্ট্র্যাটেজি ছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিং কাজ করে না।
একটি বাস্তব উদাহরণ দিই, ধরুন আপনি অনলাইনে স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট বিক্রি করেন। আমি যদি ১৮–৩৫ বছর বয়সী স্কিন কেয়ার সচেতন মেয়েদের টার্গেট করে সমস্যা-ভিত্তিক ভিডিও অ্যাড চালাই এবং শেষে একটি স্পেশাল অফার দিই, তাহলে সাধারণ পোস্টের তুলনায় কনভার্সন অনেক বেশি হবে। এখানেই ডিজিটাল মার্কেটিং সেলস বৃদ্ধির গেম-চেঞ্জার।
আমি বিশ্বাস করি, ভুল মানুষের কাছে সেরা প্রোডাক্ট দেখালেও সেলস হয় না। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক টার্গেট কাস্টমার নির্ধারণ। আমি যখন কোনো ক্যাম্পেইন শুরু করি, তখন আগে বুঝতে চেষ্টা করি আমার কাস্টমারের বয়স কত, সে কী সমস্যায় ভুগছে, অনলাইনে সে কোথায় বেশি সময় কাটায় এবং কেন সে কিনবে। কারণ সবাই আমার কাস্টমার না। এই বাস্তবতা মেনে নেওয়াই সেলস বাড়ানোর প্রথম ধাপ।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি একবার একটি অনলাইন কোর্সের বিজ্ঞাপন চালাচ্ছিলাম। শুরুতে সবাইকে টার্গেট করায় লিড আসছিল, কিন্তু সেলস হচ্ছিল না। পরে আমি ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখি ২৫–৩৫ বছর বয়সী চাকরিজীবীরাই সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। আমি টার্গেট পরিবর্তন করি, মেসেজিং ঠিক করি এবং সরাসরি তাদের সমস্যার কথা বলি। ফলাফল? একই বাজেটে সেলস প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি ফিটনেস প্রোডাক্ট বিক্রি করেন। আমি যদি সব বয়সের মানুষকে টার্গেট করি, বাজেট নষ্ট হবে। কিন্তু আমি যদি ২০–৪০ বছর বয়সী স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ, যারা জিম বা হোম ওয়ার্কআউট নিয়ে আগ্রহী তাদের টার্গেট করি, তাহলে কনভার্সন অনেক বেশি হবে। সঠিক টার্গেট কাস্টমার নির্ধারণ মানেই অর্ধেক সেলস জিতে নেওয়া।
আমি যখন ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং করি, তখন লাইক বা ভিউ নিয়ে ভাবি না আমি সরাসরি সেলস নিয়ে ভাবি। কারণ লাইক দিয়ে বিল পরিশোধ করা যায় না, সেলস দিয়েই বিজনেস চলে। আমার অভিজ্ঞতায়, বেশিরভাগ মানুষ ভুল করে সুন্দর ডিজাইন বা জেনেরিক ক্যাপশনে আটকে যায়, কিন্তু কাস্টমারের সমস্যা, ভয় এবং চাহিদাকে স্পর্শ করতে পারে না। আমি সবসময় অ্যাড তৈরি করি এই প্রশ্ন মাথায় রেখে “এই মানুষটি কেন এখনই কিনবে?” এই মানসিকতা থেকেই কনভার্সন-ফোকাসড মার্কেটিং শুরু হয়।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি একবার একটি ই-কমার্স পেজের জন্য ইনস্টাগ্রাম অ্যাড চালাই। শুরুতে শুধু প্রোডাক্টের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল, রেজাল্ট ছিল খুবই দুর্বল। পরে আমি ইউজার প্রবলেম ভিত্তিক ভিডিও অ্যাড বানাই, যেখানে আগে সমস্যা দেখানো হয়, তারপর সমাধান হিসেবে প্রোডাক্ট। সাথে ছিল লিমিটেড টাইম অফার। মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে কনভার্সন রেট প্রায় ২.৫ গুণ বেড়ে যায় এবং প্রতি সেলের খরচ কমে আসে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট বিক্রি করেন। আমি যদি শুধু বোতলের ছবি দেখাই, মানুষ স্কিপ করবে। কিন্তু আমি যদি “চুল পড়া নিয়ে চিন্তিত?” এই প্রশ্ন দিয়ে ভিডিও শুরু করি, রিয়েল রেজাল্ট দেখাই এবং শেষে “আজ অর্ডার করলে ফ্রি ডেলিভারি” এমন কল টু অ্যাকশন দিই, তাহলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম সত্যিকারের সেলস মেশিনে পরিণত হয়।
আমি মনে করি, গুগল অ্যাডস হলো সবচেয়ে হাই-ইনটেন্ট মার্কেটিং চ্যানেল। কারণ এখানে মানুষ নিজেই সমস্যা নিয়ে সার্চ করে আসে। আমি যখন গুগল সার্চ বিজ্ঞাপন ব্যবহার করি, তখন আমি এমন কাস্টমারের সামনে হাজির হই যারা ইতিমধ্যে কিনতে আগ্রহী। ফেসবুকে আমি আগ্রহ তৈরি করি, আর গুগলে গিয়ে আমি সেই আগ্রহকে সেলসে রূপান্তর করি। সঠিক কীওয়ার্ড, আকর্ষণীয় অ্যাড কপি এবং অপ্টিমাইজড ল্যান্ডিং পেজ এই তিনটি ঠিক থাকলে গুগল অ্যাডস খুব দ্রুত ফল দেয়।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি একবার একটি সার্ভিস-বেইজড বিজনেসের জন্য গুগল সার্চ অ্যাড চালাই। শুরুতে জেনেরিক কীওয়ার্ড নেওয়ায় ক্লিক আসছিল, কিন্তু কোয়ালিটি লিড পাচ্ছিলাম না। পরে আমি “বাই ইনটেন্ট” কীওয়ার্ড ব্যবহার করি, যেমন “best digital marketing service near me”। পাশাপাশি ডিসপ্লে রিটার্গেটিং যুক্ত করি। ফলাফল হিসেবে, একই বাজেটে লিড কোয়ালিটি অনেক উন্নত হয় এবং ক্লোজিং রেট বেড়ে যায়।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি অনলাইনে এসি সার্ভিস দেন। আমি যদি “AC servicing” সার্চ করা মানুষদের টার্গেট করে অ্যাড দেখাই এবং সাথে “আজ বুক করলে ১০% ছাড়” অফার দিই, তাহলে সেলস প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আসবে। গুগল সার্চ ও ডিসপ্লে অ্যাড সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি দ্রুত সেলস বৃদ্ধির সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।
আমি বিশ্বাস করি, মানুষ আগে বিশ্বাস করে, তারপর কেনে। কনটেন্ট মার্কেটিং সেই বিশ্বাস তৈরির সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। আমি যখন কনটেন্ট তৈরি করি, তখন সেলস পিচ দিয়ে শুরু করি না; বরং কাস্টমারের সমস্যা, কনফিউশন ও ভয় নিয়ে কথা বলি। ফেসবুক পোস্ট, ব্লগ, ভিডিও বা রিল যেখানেই হোক, আমার লক্ষ্য থাকে একটাই: “আমি কি এই মানুষটিকে ভ্যালু দিচ্ছি?” যখন ভ্যালু দেওয়া হয়, তখন সেলস আপনাআপনি আসে।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি একবার একটি ব্র্যান্ডের জন্য টানা ৬০ দিন কোনো ডাইরেক্ট সেলস পোস্ট দিইনি। শুধু এডুকেশনাল ও সমস্যা-ভিত্তিক কনটেন্ট শেয়ার করেছি। শুরুতে তারা চিন্তিত ছিল, কিন্তু ২ মাস পর দেখি ইনবক্সে কাস্টমার নিজে থেকেই জিজ্ঞেস করছে, “আপনাদের সার্ভিস কীভাবে নেব?” তখন ক্লোজ করা অনেক সহজ হয়ে যায় এবং প্রতি সেলের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি ছিল।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট বিক্রি করেন। আমি যদি নিয়মিত “ভুল স্কিন কেয়ার রুটিন”, “ব্রণের আসল কারণ” বা “ঘরে বসে স্কিন কেয়ার টিপস” নিয়ে কনটেন্ট দিই, মানুষ আমাকে এক্সপার্ট হিসেবে দেখবে। যখন সে কিনতে চাইবে, তখন অন্য কোথাও যাবে না। এভাবেই কনটেন্ট মার্কেটিং লং-টার্ম সেলসের শক্ত ভিত তৈরি করে।
আমি এখনো মনে করি, বর্তমান সময়ে ভিডিও মার্কেটিং না করলে ডিজিটাল মার্কেটিং অসম্পূর্ণ। মানুষ লেখা পড়ার চেয়ে ভিডিও দেখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, বিশেষ করে শর্ট-ফর্ম কনটেন্ট যেমন রিলস, শর্টস বা টিকটক। আমি ভিডিওতে সরাসরি মানুষের সাথে কথা বলতে পারি, আবেগ দেখাতে পারি এবং বিশ্বাস তৈরি করতে পারি যা কোনো স্ট্যাটিক পোস্টে সম্ভব নয়। তাই সেলস বাড়াতে আমি ভিডিওকে সবসময় প্রাধান্য দিই।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি একবার একই প্রোডাক্টের জন্য ছবি ও ভিডিও দুই ধরনের ক্যাম্পেইন চালাই। ছবির অ্যাডে রিচ ভালো ছিল, কিন্তু সেলস কম। পরে আমি ৩০–৪৫ সেকেন্ডের সমস্যা-সমাধান ভিত্তিক ভিডিও ব্যবহার করি, যেখানে বাস্তব রেজাল্ট দেখানো হয়। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ভিডিও অ্যাড থেকে আসা কনভার্সন ছবির তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি হয়। তখন বুঝি, ভিডিও কনটেন্ট সরাসরি সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি ফিটনেস কোচ। আমি যদি শুধু পোস্টে লিখি “ওজন কমান সহজে”, মানুষ বিশ্বাস করবে না। কিন্তু আমি যদি একটি শর্ট ভিডিওতে রিয়েল ক্লায়েন্টের আগে-পরে রেজাল্ট, তার কথা এবং আমার গাইডলাইন দেখাই তাহলে মানুষ আমাকে বিশ্বাস করবে এবং সেলস বাড়বে। ভিডিও মার্কেটিং এখন আর অপশন নয়, এটি প্রয়োজন।
আমি মনে করি, নতুন কাস্টমার আনার চেয়ে পুরোনো কাস্টমার থেকে আবার সেলস করা অনেক সহজ ও লাভজনক। ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং সেই সুযোগটাই তৈরি করে। আমি এই দুটি চ্যানেল ব্যবহার করি সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য, শুধু অফার পাঠানোর জন্য নয়। নিয়মিত ভ্যালু দেওয়া, আপডেট দেওয়া এবং সঠিক সময়ে সঠিক মেসেজ পাঠানো এই তিনটি ঠিক থাকলে রিপিট সেলস স্বাভাবিকভাবেই আসে।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি একবার একটি ই-কমার্স ব্র্যান্ডের জন্য ইমেইল অটোমেশন সেট করি। ওয়েলকাম মেইল, কার্ট অ্যাবান্ডন মেইল এবং রিপিট কাস্টমার অফার চালু করি। মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে মোট সেলসের প্রায় ৩০% আসতে শুরু করে ইমেইল থেকেই। হোয়াটসঅ্যাপে পার্সোনাল ফলোআপ যোগ করার পর কনভার্সন আরও বেড়ে যায়। তখন বুঝি, লিস্ট মানেই অ্যাসেট।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি অনলাইনে কোর্স বিক্রি করেন। আমি যদি একজন স্টুডেন্টকে কোর্স শেষ করার পর ফ্রি টিপস, সাকসেস স্টোরি এবং লিমিটেড ডিসকাউন্ট অফার পাঠাই, তাহলে সে আবার কিনবে। হোয়াটসঅ্যাপে একটি ছোট রিমাইন্ডার অনেক সময় বড় সেলস এনে দেয়। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং রিপিট সেলসের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।
আমি মনে করি, বিজ্ঞাপন যত ভালোই হোক ল্যান্ডিং পেজ দুর্বল হলে সেলস হবে না। অনেকেই অ্যাডে টাকা খরচ করে, কিন্তু পেজে গিয়ে কাস্টমার কনফিউজড হয়ে ফিরে যায়। আমি যখন কোনো ল্যান্ডিং পেজ বানাই বা অপ্টিমাইজ করি, তখন নিজেকে কাস্টমারের জায়গায় রেখে ভাবি “আমি কি এখানে এসে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি কী কিনছি এবং কেন কিনব?” স্পষ্ট হেডলাইন, সমস্যা-সমাধান ভিত্তিক কনটেন্ট, সোশ্যাল প্রুফ ও শক্তিশালী কল টু অ্যাকশন এই চারটি আমার কাছে বাধ্যতামূলক।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি একবার একটি সার্ভিস ওয়েবসাইটে শুধু হেডলাইন ও বাটনের টেক্সট পরিবর্তন করি। আগে ছিল জেনেরিক লেখা, পরে সরাসরি কাস্টমারের সমস্যার কথা বলা হয়। কোনো নতুন অ্যাড চালানো ছাড়াই কনভার্সন রেট প্রায় ৪০% বেড়ে যায়। তখন বুঝি, ছোট অপ্টিমাইজেশনও বড় সেলস এনে দিতে পারে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি অনলাইনে ডায়েট প্ল্যান বিক্রি করেন। আমি যদি ল্যান্ডিং পেজে আগে ক্লায়েন্ট রেজাল্ট, সহজ ভাষায় উপকারিতা এবং “আজ শুরু করুন” বাটন দিই, তাহলে মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে সহজ বোধ করে। ল্যান্ডিং পেজ ও ওয়েবসাইট অপ্টিমাইজেশন মানেই বিজ্ঞাপনের পুরো ক্ষমতা কাজে লাগানো।
আমি সবসময় বলি, ডিজিটাল মার্কেটিং অনুমানের খেলা নয় এটি ডাটার খেলা। ডাটা অ্যানালিটিক্স আমাকে বলে দেয় কোন অ্যাড কাজ করছে, কোনটা কাজ করছে না, কাস্টমার কোথায় এসে থেমে যাচ্ছে এবং কেন সেলস হচ্ছে বা হচ্ছে না। আমি যখন ডাটা দেখি, তখন আবেগ দিয়ে নয় সংখ্যা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিই। এই অভ্যাসটাই আমাকে ধারাবাহিকভাবে সেলস বাড়াতে সাহায্য করে।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি একবার লক্ষ্য করি একটি ক্যাম্পেইনে ক্লিক ভালো, কিন্তু সেলস কম। গুগল অ্যানালিটিক্স ও ফেসবুক পিক্সেল ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখি বেশিরভাগ মানুষ পেমেন্ট পেজে গিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। আমি সেখানে ট্রাস্ট ব্যাজ, সহজ চেকআউট এবং ক্যাশ অন ডেলিভারি অপশন যোগ করি। ফলাফল হিসেবে কোনো নতুন অ্যাড ছাড়াই সেলস উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তখন বুঝি, সমস্যা সবসময় ট্রাফিকে নয় বিহেভিয়ারে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি অনলাইন শপ চালান। আমি যদি দেখি মোবাইল ইউজার বেশি, কিন্তু কনভার্সন ডেস্কটপে বেশি হচ্ছে, তাহলে আমি মোবাইল পেজ স্পিড ও ডিজাইন ঠিক করব। ডাটা অ্যানালিটিক্স ও কাস্টমার বিহেভিয়ার বিশ্লেষণ মানেই অন্ধকারে তীর ছোড়া বন্ধ করে নিশ্চিত সেলসের দিকে এগোনো।
আমি মনে করি, বড় বাজেট না থাকাই সেলস না হওয়ার কারণ নয় ভুল রোডম্যাপই আসল সমস্যা। আমি সবসময় বাজেট অনুযায়ী স্ট্র্যাটেজি বানাই, কপি করি না। ৫ হাজার টাকা বাজেট আর ৫ লাখ টাকা বাজেট দুটোর রোডম্যাপ এক হতে পারে না। আমি আগে ঠিক করি লক্ষ্য কী: ব্র্যান্ডিং, লিড নাকি সরাসরি সেলস। তারপর সেই লক্ষ্য অনুযায়ী চ্যানেল, কনটেন্ট ও বিজ্ঞাপন সাজাই। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে এবং ফল পাওয়া যায়।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি একবার একটি ছোট বিজনেসের জন্য মাসে মাত্র ১০ হাজার টাকার বাজেটে কাজ করি। বড় অ্যাড না চালিয়ে আমি কনটেন্ট, রিটার্গেটিং এবং হোয়াটসঅ্যাপ ফলোআপে ফোকাস করি। ৩ মাসের মধ্যে তাদের নিয়মিত সেলস শুরু হয় এবং পরে বাজেট বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তখন বুঝি, সঠিক রোডম্যাপ বাজেটকে নয় বাজেট রোডম্যাপকে অনুসরণ করে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি নতুন অনলাইন বিজনেস শুরু করেছেন। আমি হলে প্রথমে অর্গানিক কনটেন্ট, তারপর ছোট বাজেটে টেস্ট অ্যাড, এরপর যেটা কাজ করছে সেটায় স্কেল করতাম। এই ধাপে ধাপে রোডম্যাপই আপনাকে নিরাপদভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে সেলস বাড়াতে সাহায্য করবে।