

আমি যখন তথ্য প্রযুক্তি শেখার কথা ভাবি, আমি প্রথমেই ভাবি “আমি এটা কোথা থেকে শিখব?” অনেকেই ভাবে ভালো শেখার মানে টাকা খরচ করা, কিন্তু বাস্তবে আজ ইন্টারনেটে অসংখ্য ফ্রি রিসোর্স আছে যেগুলো দিয়ে বেসিক থেকে অ্যাডভান্সড পর্যন্ত শেখা সম্ভব। সমস্যা হলো রিসোর্সের অভাব না, বরং সঠিক রিসোর্স খুঁজে পাওয়া আর সেগুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা। এই গাইডে আমি সহজ ভাষায় সাজিয়ে দেখাতে চাই কোন কোন ফ্রি প্ল্যাটফর্মে কী শেখা যায়, কীভাবে এগুলো দিয়ে নিজের শেখার রোডম্যাপ বানানো যায়, আর কীভাবে বিনা খরচে নিজেকে দক্ষ করে তোলা সম্ভব। আমার লক্ষ্য হলো, আপনি যেন কনফিউশন নয়, ক্ল্যারিটি নিয়ে শেখা শুরু করতে পারেন।
1️ তথ্য প্রযুক্তি শেখার জন্য ফ্রি রিসোর্স কেন দরকার
2️ফ্রি অনলাইন কোর্স প্ল্যাটফর্ম (বাংলা + ইংরেজি)
3️ ইউটিউব চ্যানেল লিস্ট (IT শেখার জন্য)
4️ ফ্রি প্রোগ্রামিং প্র্যাকটিস ওয়েবসাইট
5️ ফ্রি ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার রিসোর্স
6️ ফ্রি গ্রাফিক ডিজাইন ও UI/UX রিসোর্স
7️ ফ্রি ডেটা সায়েন্স ও AI শেখার রিসোর্স
8️ ফ্রি সাইবার সিকিউরিটি শেখার রিসোর্স
9️ ফ্রি IT কমিউনিটি ও ফোরাম
10 কীভাবে ফ্রি রিসোর্স দিয়ে সম্পূর্ণ শেখার রোডম্যাপ বানাবেন
আমি মনে করি, তথ্য প্রযুক্তি শেখার পথে সবচেয়ে বড় বাধা স্কিল না টাকা। অনেকেই ভাবে ভালো শেখার জন্য বড় কোর্সে ভর্তি হতে হবে, দামি বই কিনতে হবে। কিন্তু বাস্তবে আজ ইন্টারনেটে এত ফ্রি IT রিসোর্স আছে যে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে প্রায় সবকিছু শেখা সম্ভব। ফ্রি কোর্স, ইউটিউব টিউটোরিয়াল, ওপেন ডকুমেন্টেশন আর প্র্যাকটিস প্ল্যাটফর্ম এগুলো শেখাকে গণতান্ত্রিক করেছে। আমি বলি, ফ্রি রিসোর্স মানে কম মান নয়, বরং সুযোগের দরজা সবার জন্য খোলা।
আমি নিজে শুরুতে কোনো পেইড কোর্স করিনি। ইউটিউব, ব্লগ আর ডকুমেন্টেশন দিয়েই বেসিক শিখেছি। পরে যখন আয় শুরু হয়েছে, তখন পেইডে গিয়েছি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে আগে শিখো, পরে খরচ করো। উল্টোটা করলে হতাশা বাড়ে।
তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
ধরুন, একজন ছাত্র ইউটিউব দেখে প্রোগ্রামিং শিখে ছোট গেম বানায়। একজন ফ্রিল্যান্সার ফ্রি SEO কোর্স দেখে প্রথম ক্লায়েন্ট পায়। এই উদাহরণগুলোই দেখায় ফ্রি রিসোর্স ঠিকভাবে ব্যবহার করলে ফল বাস্তব হয়।
আমি যখন ফ্রি অনলাইন কোর্স প্ল্যাটফর্মের কথা বলি, আমি আসলে বুঝাই এমন ওয়েবসাইট যেখানে বিনামূল্যে কাঠামোবদ্ধভাবে শেখা যায়। যেমন: Coursera ফ্রি অডিট, edX, Khan Academy, freeCodeCamp, Google Digital Garage, আর বাংলায় 10 Minute School, Shikhbe Shobai-এর ফ্রি কনটেন্ট, YouTube-এর বাংলা কোর্স। এগুলোতে ভিডিও, কুইজ আর প্র্যাকটিস থাকে, ফলে শেখা শুধু দেখা নয়, করা হয়। আমি মনে করি, এই প্ল্যাটফর্মগুলো নতুনদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ শুরু।
আমাদের পেজের বিভিন্ন তথ্য পেতে ক্লিক করুন
আমি নিজে freeCodeCamp দিয়ে HTML, CSS শিখেছিলাম। ধাপে ধাপে গাইড ছিল, প্র্যাকটিস ছিল, তাই কনফিউশন কম ছিল। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে স্ট্রাকচার্ড শেখা সময় বাঁচায়।
ধরুন, একজন ছাত্র Khan Academy থেকে গণিত শেখে, Coursera-তে IT বেসিক অডিট করে, আর freeCodeCamp দিয়ে ওয়েব বানায়। এই মিক্সই তাকে শক্ত ভিত্তি দেয়।
আমি যখন ইউটিউব দিয়ে IT শেখার কথা বলি, আমি বুঝাই এটা হলো সবচেয়ে সহজ আর অ্যাক্সেসযোগ্য লার্নিং প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রোগ্রামিং, ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার সিকিউরিটি সব বিষয়ের ফ্রি ভিডিও আছে। ভালো চ্যানেলগুলো স্টেপ-বাই-স্টেপ শেখায়, রিয়েল প্রজেক্ট দেখায় আর নতুনদের জন্য সহজ ভাষা ব্যবহার করে। আমি মনে করি, ইউটিউব ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটা একটা ফ্রি বিশ্ববিদ্যালয়।
আমি নিজে অনেক কিছু ইউটিউব থেকেই শিখেছি ছোট ছোট ভিডিও দেখে প্র্যাকটিস করেছি। যখন কোনো কনসেপ্ট বুঝতাম না, অন্য ভিডিও দেখতাম। এই স্বাধীনতাটাই ইউটিউবের সবচেয়ে বড় শক্তি।
ধরুন, একজন ছাত্র বাংলা চ্যানেল দেখে HTML শেখে, আর ইংরেজি চ্যানেল দেখে JavaScript শেখে। এই মিক্সই তাকে ফ্লেক্সিবল লার্নার বানায়।
আমি মনে করি, প্রোগ্রামিং শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্র্যাকটিস। শুধু ভিডিও দেখা বা বই পড়া দিয়ে কোডিং শেখা যায় না, হাতে লিখতে হয়। তাই ফ্রি প্রোগ্রামিং প্র্যাকটিস ওয়েবসাইটগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেমন: HackerRank, Codeforces, LeetCode-এর ফ্রি অংশ, Codewars, freeCodeCamp এগুলোতে সমস্যা দেওয়া থাকে, আপনি সমাধান করেন, সাথে সাথে ফিডব্যাক পান। আমি বলি, এই সাইটগুলো জিমের মতো এখানে নিয়মিত গেলে স্কিল শক্ত হয়।
আমি নিজে শুরুতে কোড লিখে বুঝতে পারতাম না ঠিক হলো কিনা। যখন প্র্যাকটিস সাইটে কোড চালাতে শুরু করলাম, তখন ভুল ধরা পড়লো, আর ঠিক করার সুযোগ পেলাম। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে ভুল করাই শেখার পথ।
ধরুন, একজন ছাত্র প্রতিদিন HackerRank-এ ২টা সমস্যা সমাধান করে। ছয় মাস পরে সে ইন্টারভিউতে সহজে কোড লিখতে পারে। এই ছোট অভ্যাসই বড় পার্থক্য তৈরি করে।
আমি যখন ফ্রি ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার রিসোর্সের কথা বলি, আমি বুঝাই এমন জায়গা যেখানে টাকা খরচ না করেই অনলাইনে ব্যবসা বাড়ানোর কৌশল শেখা যায়। SEO, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, কন্টেন্ট মার্কেটিং এই সব স্কিল আজ খুব চাহিদাসম্পন্ন। গুগলের ফ্রি কোর্স, হাবস্পটের একাডেমি, ইউটিউব টিউটোরিয়াল এগুলো শেখাকে সহজ করেছে। আমি মনে করি, ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা মানে নিজের বা অন্যের ব্যবসার ভ্যালু বাড়ানো।
আমি নিজে প্রথমে ফ্রি SEO কোর্স করে নিজের ব্লগে ট্রাফিক বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। যখন ফল পেলাম, তখনই বুঝলাম এটা শুধু থিওরি না, এটা বাস্তব স্কিল। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে প্রয়োগ ছাড়া শেখা অসম্পূর্ণ।
ধরুন, একজন উদ্যোক্তা ফ্রি কোর্স দেখে নিজের ফেসবুক পেজ গ্রো করে, আর একজন ফ্রিল্যান্সার সেই স্কিল দিয়ে ক্লায়েন্ট পায়। এই উদাহরণগুলোই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের শক্তি দেখায়।
আমি যখন ফ্রি গ্রাফিক ডিজাইন আর UI/UX রিসোর্সের কথা বলি, আমি বুঝাই এমন টুল আর প্ল্যাটফর্ম যেখানে ভিজ্যুয়াল ডিজাইন শেখা যায় বিনা খরচে। Canva, Figma Community, Adobe Express, Behance টিউটোরিয়াল এগুলো নতুনদের জন্য দারুণ শুরু। এখানে আপনি লেআউট, কালার থিওরি, টাইপোগ্রাফি আর ইউজার এক্সপেরিয়েন্সের বেসিক শিখতে পারেন। আমি মনে করি, ডিজাইন শেখা মানে শুধু সুন্দর বানানো না, ব্যবহারবান্ধব বানানো শেখা।
আমি নিজে প্রথমে Canva দিয়ে পোস্টার বানিয়েছি। ধীরে ধীরে বুঝেছি ডিজাইন মানে শুধু রঙ না, ভারসাম্য। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে সহজ টুল দিয়েই ভালো কাজ শুরু করা যায়।
ধরুন, একজন ছাত্র Figma দিয়ে অ্যাপের লেআউট বানায়, আর একজন উদ্যোক্তা Canva দিয়ে নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করে। এই উদাহরণগুলোই দেখায় ডিজাইন এখন সবার নাগালে।
আমি যখন ডেটা সায়েন্স আর AI শেখার ফ্রি রিসোর্সের কথা বলি, আমি বুঝাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে শক্তিশালী স্কিলগুলো এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। Python, ডেটা অ্যানালাইসিস, মেশিন লার্নিং এগুলো আগে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানো হতো, এখন অনলাইনে ফ্রি শেখা যায়। Kaggle, Google AI, Coursera ফ্রি অডিট, ইউটিউব এগুলো শেখার দরজা খুলে দিয়েছে। আমি মনে করি, ডেটা সায়েন্স শেখা মানে ভবিষ্যতের ভাষা শেখা।
আমি নিজে Kaggle-এ ডেটা নিয়ে খেলতে খেলতে অনেক কিছু শিখেছি। প্রথমে বুঝিনি, পরে আস্তে আস্তে প্যাটার্ন ধরতে পেরেছি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে ডেটা ভয়ংকর না, মজার।
ধরুন, একজন ছাত্র স্কুলের রেজাল্ট ডেটা বিশ্লেষণ করে ট্রেন্ড বের করে। এই ছোট কাজই তাকে বড় স্কিল দেয়।
আমি যখন সাইবার সিকিউরিটি শেখার ফ্রি রিসোর্সের কথা বলি, আমি বুঝাই ডিজিটাল দুনিয়াকে নিরাপদ রাখার স্কিল এখন সবচেয়ে জরুরি। নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, পেন-টেস্টিং, এথিক্যাল হ্যাকিং, ডেটা প্রোটেকশন এগুলো ভবিষ্যতের হাই-ডিমান্ড স্কিল। TryHackMe, Hack The Box-এর ফ্রি লেভেল, ইউটিউব টিউটোরিয়াল এগুলো দিয়ে শুরু করা যায়। আমি মনে করি, সাইবার সিকিউরিটি শেখা মানে ডিজিটাল রক্ষাকবচ বানানো।
আমি নিজে TryHackMe দিয়ে বেসিক শিখেছি। সেখানে গেমের মতো করে শেখানো হয়, তাই শেখা মজা লাগে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে নিরাপত্তা শেখা মানে ভয় না, শক্তি।
ধরুন, একজন ছাত্র স্কুলের ওয়াইফাই সিকিউরিটি টেস্ট করে দুর্বলতা খুঁজে পায়। এই ছোট কাজই তাকে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের পথে নেয়।
আমি যখন ফ্রি IT কমিউনিটি আর ফোরামের কথা বলি, আমি বুঝাই এটা হলো সেই জায়গা যেখানে মানুষ একা শেখে না, একসাথে শেখে। Stack Overflow, GitHub Discussions, Reddit-এর সাবরেডিট, Facebook গ্রুপ, Discord সার্ভার এগুলোতে প্রশ্ন করা যায়, অন্যের প্রশ্নের উত্তর পড়া যায়, নতুন আইডিয়া পাওয়া যায়। আমি মনে করি, কমিউনিটি মানে শুধু সাহায্য না, এটা শেখার গতি বাড়ানোর ইঞ্জিন।
আমি নিজে অনেকবার ফোরামে প্রশ্ন করে সমস্যার সমাধান পেয়েছি। আবার অন্যের প্রশ্ন পড়ে নিজের জ্ঞানও বেড়েছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে শেখা মানে শুধু নেওয়া না, দেওয়া।
ধরুন, একজন নতুন ডেভেলপার Stack Overflow-এ প্রশ্ন করে সমাধান পায়, আরেকজন GitHub-এ ওপেন সোর্সে কন্ট্রিবিউট করে অভিজ্ঞতা বাড়ায়। এই উদাহরণগুলোই কমিউনিটির শক্তি দেখায়।
আমি মনে করি, ফ্রি রিসোর্স যতই ভালো হোক, রোডম্যাপ না থাকলে মানুষ হারিয়ে যায়। তাই আমি বলি আগে লক্ষ্য ঠিক করুন, তারপর স্কিল লিস্ট বানান, তারপর প্রতিটা স্কিলের জন্য ফ্রি রিসোর্স খুঁজুন। সপ্তাহভিত্তিক পরিকল্পনা করুন, প্র্যাকটিস যুক্ত করুন, আর রিভিউ রাখুন। এই কাঠামোই শেখাকে টেকসই করে।
আমি নিজে শুরুতে এলোমেলো শিখতাম, ফলে অগ্রগতি ধীর ছিল। যখন রোডম্যাপ বানালাম, তখন শেখা দ্রুত হলো। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে পরিকল্পনা মানে অর্ধেক সাফল্য।
ধরুন, একজন ছাত্র সপ্তাহে HTML, পরের সপ্তাহে CSS শেখে, মাস শেষে সাইট বানায়। এই রোডম্যাপই তাকে ধারাবাহিক করে।