

ত্বক উজ্জ্বল রাখা শুধু প্রসাধনী ব্যবহারেই সম্ভব নয়, খাবারটা সব থেকে বড় ভূমিকা রাখে। তুমি যা খাও তার প্রতিটা উপাদানই তোমার ত্বকের রং, মসৃণতা আর উজ্জ্বলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে থেকে খাবার থেকে তা আসে। ভেতর থেকে শরীর পরিষ্কার থাকলে ত্বকও স্বাভাবিক ভাবে সুন্দর হয়। তাই কোন খাবার গুলো ত্বকের জন্য ভালো এবং কোন গুলো ভালো না, সে গুলো জানতে তোমার জন্য উপকার। সঠিক খাবারই তোমার ত্বককে করে তুলতে পারে আরও স্বাস্থ্যকর ও আকর্ষণীয় করে তুলে।
ভাই, ভিটামিন C সমৃদ্ধ ফল ত্বককের ভেতর থেকে পুষ্টি দেয় এবং তোমার বাড়িয়ে ত্বক উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে। তুমি চাইলে প্রতিদিনের খাবারে লেবু, কমলা, মাল্টা বা কিউই এগুলো সব কিছু যোগ করতে পারো। এগুলো শুধু দাগ-ছোপ কমায় না ত্বককে আরও টাইট ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করে তোমার। সকাল সকাল হালকা উষ্ণ পানিতে লেবু মিশিয়ে খেলে শরীরও ডিটক্স হয়, ফলে মুখে স্বাভাবিক ভাবেই তোমার উজ্জ্বলতা আসে।
ভাই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ বেরি যেমন ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি বা রাস্পবেরি তোমার শরীরের ভেতরের টক্সিন কমতে দারুণ সাহায্য করে থাকে, আর এতে ত্বক উজ্জ্বলতা দেখা দেয়। তুমি সকালে দই বা ওটসের সঙ্গে এক মুঠো বেরি মিশিয়ে খেতে পার ভালো। এগুলো রক্ত পরিষ্কার করে, ত্বকের রঙ সমান করে এবং ফ্রির্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে বাঁচয়। নিয়মিত খেলেই ত্বক স্বাভাবিক ভাবেই আরও সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখাবে বুঝতে পারবে।
ভাই, সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক, ব্রোকলি বা লেটুস তোমার শরীরকে ভেতর থেকে অনেক পরিষ্কার রাখে সাহায্য করে এবং আর এতে থাকা ভিটামিন মিনারেল ত্বককে স্বাভাবিক ভাবে পুষ্টি দেয়। এসব শাকে থাকা ক্লোরোফিল তোমার রক্তকে বিশুদ্ধ করে তুলে, ফলে ত্বক উজ্জ্বল দেখায়। তুমি চাইলে সালাদ, স্মুদি বা ভাজিতে এগুলো সহজেই এক সাথে যোগ করে খেতে পারো। নিয়মিত খেলে ত্বক পরিবর্তন আসবে আসবে আস্তে আস্তে আরও পরিষ্কার, মসৃণ আর সতেজ হয়ে ওঠে।
ভাই, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ধরো ডিম, দই, মুরগি বা ডাল তোমার শরীরকে কোলাজেন তৈরি করতে সাহায্য করবে আর এতে ত্বক আরও টাইট ও স্বাস্থ্যকর হবে। কোলাজেন ভালো থাকলে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং সহজে ঢিলে যায় না। তুমি চাইলে প্রতিদিনের খাবারে সামান্য প্রোটিন খাবার যোগ করতে পারলে ভালো হোক সেটা সকালের ডিম, দুপুরের ডাল বা স্ন্যাক্সে এক বাটি দই। নিয়মিত খেলেই ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই প্রাণ ফিরে আসে।
ভাই, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মাছ, ডাল বা দই সবজি। তোমার শরীরকে ভেতর থেকে মজবুত রাখতে সাহায্য করবে এবং কোলাজেন বাড়াতে সাহায্য করবে। কোলাজেন ঠিকঠাক ভাবে তৈরি হলে ত্বক টান টান থাকে এবং তোমার ত্বক উজ্জ্বল দেখায়। তুমি চাইলে সকালের নাশতায় ডিম, দুপুরে ডাল আর রাতে হালকা প্রোটিন এ সব খাবার রাখতে পারো নিয়মিত প্রোটিন খেলে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই আরও সতেজ, নরম আর স্বাস্থ্যকর লাগে।
ভাই, ভিটামিন E সমৃদ্ধ বাদাম আর বীজ যেমন কাঠ বাদাম, কাজুবাদাম, সূর্যমুখীর বীজ বা আখরোট তোমার ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি করতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতা কমায়। এসব খাবারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা ত্বককে নরম রাখে বাধ্য করে এবং সূর্যের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে থাকে।এ সব প্রতিদিন খেলে ত্বক উজ্জ্বল দেখতে সাহায্য করবে। তুমি সকালে একমুঠো বাদাম বা স্ন্যাক্স হিসেবে কিছু বীজ খেতে পারো খুব সহজ আর উপকারী।
স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
ভাই, ভিটামিন A সমৃদ্ধ খাবার যেমন- গাজর, মিষ্টি আলু, ডিম বা কুমড়া এগুলো তোমার ত্বককে ভেতর থেকে পুন র্গঠন করতে সাহায্য করবে। এগুলো ত্বকের কোষ দ্রুত নবায়ন করে ফেলে, ফলে দাগ কমে আর তোমাকে ত্বক উজ্জ্বলতা দেখায়। তুমি চাইলে সালাদ, ভাজি বা স্যুপে এসব খাবার সহজেই যোগ করতে পারবে। নিয়মিত খেলে ত্বক আরও মসৃণ, টানটান আর স্বাস্থ্যকর লাগে যে উজ্জ্বলতা আসে, সেটা একদম স্বাভাবিক।
ভাই, জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন কুমড়ার বীজ, ডাল, ডিম বা সামুদ্রিক খাবার তোমার ত্বকের প্রদাহ কমাতে আর ব্রণ নিয়ন্ত্রণে অনকে সাহায্য করে থাকে। জিঙ্ক ত্বকের কোষ দ্রুত ঠিক করা যায়, ফলে দাগ কমে যায় এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে থাকে। তুমি চাইলে নাশতায় কিছু বীজ, দুপুরে ডাল বা সপ্তাহে একদিন সামুদ্রিক খাবার রাখতে পারবে। নিয়মিত খেলে ত্বক আরও পরিষ্কার, শান্ত আর স্বাস্থ্যকর লাগে।
ভাই, পানি যুক্ত ফল ও সবজি যেমনঃ শশা, তরমুজ, পেয়ারা বা কমলা তোমার শরীরকে সারা দিন হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করবে। যখন শরীর ঠিকঠাক ভাবে পানি ধরে রাখতে পারে, তখন তোমার ত্বক স্বাভাবিক ভাবেই নরম ও সতেজ থাকে আর এতে ত্বক উজ্জ্বল দেখা যায়। তুমি চাইলে নাশতা সময় বা বিকেলের স্ন্যাক্সে এগুলো সাথে রাখতে পারো। নিয়মিত খেলে ত্বক শুকনো লাগে না এবং ভেতর থেকে এক ধরনের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা এসে যায়।
ভাই, গাট ফ্রেন্ডলি খাবার যেমনঃ দই, কেফির, কিমচি বা ঘরে বানানো প্রোবায়োটিক পানীয় খাবার তোমার হজম করতে সাহায্য করে এবং ভেতরের টক্সিন কমায়। যখন পেট পরিষ্কার থাকে, তখন ত্বকেও তার প্রভাব পড়ে, আর ত্বক উজ্জ্বল লাগে সব কিছু সবটার কারণে হয়। তুমি চাইলে প্রতি দিনের নাশতায় এক বাটি দই বা সপ্তাহে কয়েক বার প্রোবায়োটিক খাবার খেতে পারো। নিয়মিত খেলে ত্বক আরও শান্ত, পরিষ্কার আর স্বাস্থ্যকর দেখায়।
আমাদের সকল সেবা পেতে ক্লিক করুন
ভাই, হলুদ, আদা আর রসুনের মতো অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান তোমার শরীরের ভেতরের প্রবাহ কমাতে অনেক সাহায্য করে থাকে। যখন প্রদাহ কম থাকে তখন মুখের দাগ-ছোপও দ্রুত হালকা হয়ে যায় এবং ত্বক উজ্জ্বল অনেক টা দেখা দেয়। তুমি চাইলে রান্নায় একটু হলুদ, স্যুপে আদা বা ভাজিতে রসুন যোগ করে তা খেতে পারো। নিয়মিত এসব উপাদান খেলে ত্বক স্বাভাবিক ভাবে আরও পরিষ্কার, শান্ত আর উজ্জ্বল লাগে।
ভাই, গ্রিন টি, লেবুপানি বা ডিটক্স ধরনের পানীয় তোমার শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে থাকে। এগুলো অ্যান্টি অক্সিডেন্টে ভরপুর, যা রক্ত পরিষ্কার করে থাকে এবং ত্বকের উপরিভাগে স্বাভাবিক সতেজতা রাখে। নিয়মিত এক–দুই কাপ গ্রিন টি খেলেই শরীর হালকা লাগে এবং ত্বক উজ্জ্বলতা দেখা দেয়। তুমি চাইলে সকালে বা বিকেলে এই ধরনের পানীয় খাবার রাখতে পারো খুব সহজেই এর উপকার অনুভব করবে।
ভাই, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার যেমন অ্যাভো কাডো, অলিভ অয়েল, চিয়া সিড বা আখরোট তোমার ত্বককে ভেতর থেকে ময়েশ্চারাইজ রাখতে সাহায্য করে। এগুলো ত্বকের প্রাকৃতিক তেল সঠিক রাখে, ফলে শুষ্কতা কমে এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়। তুমি চাইলে সালাদে অলিভ অয়েল দিতে পারবে, ওটসের সঙ্গে চিয়া সিড মেশাতে পারো বা স্ন্যাক্সে আখরোট খেতে পারবে। নিয়মিত খেলেই ত্বক আরও নরম, মসৃণ আর প্রাণবন্ত লাগে।
ভাই, ত্বক হাইড্রেট রাখে এমন পানীয় খাবার যেমনঃ নারকেল পানি, লেবু মিশ্রিত উষ্ণ পানি বা সাদা মাটা পানি তোমার শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। যখন শরীরে পানির ঘাটতি থাকে না, তখন ত্বক স্বাভাবিক ভাবেই নরম হয়ে থাকে এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখা দেয়। তুমি চাইলে দিনে কয়েক বার ছোট ছোট করে পানি পান করতে পারো। নিয়মিত পানি ঠিকভাবে খেলেই ত্বক আরও পরিষ্কার, টানটান আর প্রাণবন্ত লাগে।
ভাই, কিছু খাবার এড়িয়ে চললে ত্বক অনেক বেশি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে থাকে, যেমনঃ অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার, তেলে ভাজা বা প্রক্রিয়া জাত স্ন্যাক্স। এসব খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে থাকে, ফলে ব্রণ হতে পারে এবং উজ্জ্বলতা কমে যেতে পারে। তুমি যদি এসব কমিয়ে দাও, তাহলে রক্ত পরিষ্কার থাকে এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে। একটু নিয়ন্ত্রণেই ত্বক আরও স্বাস্থ্যকর, শান্ত আর সতেজ লাগে।