

আমি যখন তথ্য প্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার শুরু করার কথা ভাবি, তখন আমি শুধু একটা চাকরির কথা ভাবি না আমি একটা ভবিষ্যতের কথা ভাবি। কারণ আজকের দুনিয়ায় প্রায় সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে প্রযুক্তির সাথে জড়িত। আপনি ছাত্র হোন, চাকরিজীবী হোন বা উদ্যোক্তা তথ্য প্রযুক্তির স্কিল থাকলে আপনার সুযোগের পরিধি বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, নতুনদের জন্য এই জগতটা খুবই কনফিউজিং লাগে: কোথা থেকে শুরু করব, কী শিখব, কোন পথে যাব এই প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরতে থাকে। ঠিক এই কারণেই আমি এই রোডম্যাপটা বানিয়েছি। এখানে আমি আমার অভিজ্ঞতা, বাস্তব উদাহরণ আর পরিষ্কার দিকনির্দেশনার মাধ্যমে দেখাতে চাই কীভাবে একজন একদম নতুন মানুষ ধাপে ধাপে তথ্য প্রযুক্তিতে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারে। এই গাইডটা আমি লিখেছি যেন আপনি শুধু পড়েই না, বাস্তবে ব্যবহার করেও ফল পান।
1️ তথ্য প্রযুক্তি কী এবং কেন শিখবেন?
2️ তথ্য প্রযুক্তিতে ক্যারিয়ারের সুযোগ ও ক্ষেত্রসমূহ
3️ নতুনদের জন্য কোন স্কিল দিয়ে শুরু করা উচিত
4️ Programming vs Non-Programming IT Career Path
5️ ফ্রি ও পেইড রিসোর্স: কোথা থেকে শিখবেন
6️ শেখার সময় কী কী ভুল এড়িয়ে চলবেন
7️ প্র্যাকটিস ও প্রজেক্ট: কীভাবে নিজেকে দক্ষ করবেন
8️ পোর্টফোলিও ও সিভি তৈরি করার গাইড
9️ ফ্রিল্যান্সিং বনাম চাকরি: কোনটা আপনার জন্য ভালো
10 বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মার্কেটে জব/ক্লায়েন্ট পাওয়ার উপায়
আমি যখন “তথ্য প্রযুক্তি” বলি, আমি আসলে বুঝাই তথ্য সংগ্রহ করা, সংরক্ষণ করা, বিশ্লেষণ করা এবং সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করার পুরো প্রক্রিয়াটা। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সফটওয়্যার, ডেটাবেজ, ক্লাউড, সাইবার সিকিউরিটি এই সবকিছুই তথ্য প্রযুক্তির অংশ। আজকের দিনে ব্যাংকিং, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, এমনকি কৃষিতেও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। তাই আমি মনে করি, তথ্য প্রযুক্তি শেখা মানে শুধু একটা স্কিল শেখা না বরং ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। যেকোনো পেশায় থাকুন না কেন, ডিজিটাল দুনিয়ায় টিকে থাকতে হলে তথ্য প্রযুক্তির বেসিক জানা এখন বাধ্যতামূলক।
আমি নিজে যখন শুরু করি, তখন আমারও মনে হতো “এটা কি আমার জন্য কঠিন হবে?” কিন্তু একটু একটু করে শিখতে শিখতেই বুঝলাম, আসলে তথ্য প্রযুক্তি ভয় পাওয়ার বিষয় না, বরং এটা সুযোগের দরজা। একটা স্কিল শিখে আমি অনলাইনে কাজ করতে পেরেছি, নিজের সময়ের কন্ট্রোল আমার হাতে এসেছে, আর সবচেয়ে বড় কথা আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আগে যেখানে সুযোগ খুঁজতাম, এখন সুযোগ নিজেই তৈরি করতে পারি। এই পরিবর্তনটাই আমাকে বুঝিয়েছে কেন তথ্য প্রযুক্তি শেখা এত মূল্যবান।
ধরুন, আপনার একটা ছোট ব্যবসা আছে। আগে কাস্টমার খুঁজতে বাজারে যেতে হতো, এখন ফেসবুক পেজ আর ওয়েবসাইট দিয়েই কাস্টমার পাওয়া যায়। একজন স্টুডেন্ট আগে শুধু চাকরির অপেক্ষা করত, এখন ফ্রিল্যান্সিং করে বিদেশি ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করতে পারে। একজন কৃষক পর্যন্ত এখন মোবাইল অ্যাপ দিয়ে আবহাওয়ার তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নেয়। এই বাস্তব উদাহরণগুলোই দেখায় তথ্য প্রযুক্তি শুধু একটা বিষয় না, এটা মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার শক্তি। আর এই কারণেই আমি বিশ্বাস করি, এখনই তথ্য প্রযুক্তি শেখা মানে ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমান বিনিয়োগ।
আমি যখন তথ্য প্রযুক্তিতে ক্যারিয়ারের কথা বলি, তখন আমি শুধু একটা চাকরির কথা বলি না আমি অনেকগুলো সম্ভাবনার দরজা দেখি। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা অ্যানালাইসিস, সাইবার সিকিউরিটি, ক্লাউড কম্পিউটিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এগুলো সবই তথ্য প্রযুক্তির আলাদা আলাদা ক্ষেত্র। কেউ প্রোগ্রামিং ভালোবাসে, কেউ ডিজাইন, কেউ মার্কেটিং, কেউ ডেটা নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করে। তাই আমি মনে করি, তথ্য প্রযুক্তি এমন একটা ক্ষেত্র যেখানে প্রায় সবার জন্যই কিছু না কিছু আছে। সবচেয়ে ভালো দিক হলো এই সব কাজ শুধু অফিসে বসে করতে হয় না, ঘরে বসেও করা যায়, আবার বিদেশি কোম্পানির সাথেও কাজ করা যায়।
তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে আরো জানতে ক্লিক করুন
আমি নিজে যখন শুরু করি, তখন আমার সামনে শুধু “প্রোগ্রামার” অপশনটাই স্পষ্ট ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম এখানে অনেক রকম রোল আছে। আমি এমন মানুষ দেখেছি যারা শুধু ওয়েবসাইট বানিয়ে ভালো আয় করছে, কেউ ফেসবুক অ্যাড চালিয়ে ক্লায়েন্টের ব্যবসা বড় করছে, কেউ ডেটা রিপোর্ট বানিয়ে ম্যানেজমেন্টকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। এই বৈচিত্র্যটাই আমাকে মুগ্ধ করেছে। কারণ এতে আমি নিজের আগ্রহ অনুযায়ী পথ বেছে নিতে পারি, জোর করে এমন কিছু করতে হয় না যেটা আমি পছন্দ করি না।
ধরুন, একজন গ্রাফিক ডিজাইনার ফাইভার বা আপওয়ার্কে লোগো বানিয়ে বিদেশি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে ডলার আয় করছে। একজন ডেটা অ্যানালিস্ট বড় কোম্পানির সেলস ডেটা বিশ্লেষণ করে তাদের সিদ্ধান্ত সহজ করছে। একজন সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকিং থেকে রক্ষা করছে। এই বাস্তব উদাহরণগুলোই প্রমাণ করে তথ্য প্রযুক্তি মানে শুধু কোড লেখা না, বরং এটা একটা বিশাল জগত, যেখানে সুযোগের শেষ নেই। আর সেই কারণেই আমি বিশ্বাস করি, তথ্য প্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার মানে ভবিষ্যৎকে নিজের পক্ষে নিয়ে আসা।
আমি যদি কাউকে একদম শুরু করার গাইড দিই, আমি সবসময় বলি আগে বেসিক ডিজিটাল লিটারেসি ঠিক করো। কম্পিউটার ব্যবহার, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেইল, গুগল সার্চ, ফাইল ম্যানেজমেন্ট এগুলো না জানলে সামনে এগোনো কঠিন হয়। এরপর আমি সাজেস্ট করি একটি কোর স্কিল বেছে নিতে: ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং বা ডেটা অ্যানালাইসিস যেটা আপনার আগ্রহের সাথে যায়। কারণ আগ্রহ না থাকলে মাঝপথে মানুষ হাল ছেড়ে দেয়। তাই আমি বিশ্বাস করি, শুরুটা হওয়া উচিত সহজ, বাস্তবধর্মী এবং আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই।
আমাদের পেজের বিভিন্ন তথ্য পেতে ক্লিক করুন
আমি নিজে শুরুতে অনেক কিছু একসাথে শিখতে গিয়েছিলাম কোডিং, ডিজাইন, মার্কেটিং সবই ধরতে চেয়েছিলাম। ফলাফল হলো, কিছুই ভালোভাবে শেখা হয়নি। পরে আমি ফোকাস করলাম একটা স্কিলের উপর, নিয়মিত প্র্যাকটিস শুরু করলাম, ছোট ছোট প্রজেক্ট করলাম। তখনই আমার শেখা স্পষ্ট হলো, আত্মবিশ্বাস বাড়লো, আর সুযোগ আসতে শুরু করলো। এই অভিজ্ঞতা থেকেই আমি বুঝেছি নতুনদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো ফোকাস না রাখা।
ধরুন, একজন ছাত্র ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখে নিজের একটা ওয়েবসাইট বানাল, সেখানে নিজের কাজ দেখাল, তারপর সেখান থেকেই প্রথম ক্লায়েন্ট পেল। আবার কেউ ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে একটা লোকাল দোকানের ফেসবুক পেজ গ্রো করলো, আর সেই রেজাল্ট দেখিয়ে নতুন কাজ পেল। এই ছোট ছোট উদাহরণগুলোই দেখায় সঠিক স্কিল + নিয়মিত প্র্যাকটিস = বাস্তব ফলাফল। আর এভাবেই নতুনরা তথ্য প্রযুক্তির জগতে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারে।
আমি যখন প্রোগ্রামিং আর নন-প্রোগ্রামিং পথের কথা বলি, আমি আসলে বলি আপনি কোড লিখে কাজ করবেন, নাকি কোড ছাড়াই টেকনোলজির সাথে কাজ করবেন। প্রোগ্রামিং পথে আছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ডেটা সায়েন্স। এখানে লজিক, সমস্যা সমাধান আর নিয়মিত কোডিং প্র্যাকটিস দরকার। আর নন-প্রোগ্রামিং পথে আছে গ্রাফিক ডিজাইন, UI/UX, ডিজিটাল মার্কেটিং, SEO, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, IT সাপোর্ট। এখানে ক্রিয়েটিভিটি, কমিউনিকেশন আর টুল ব্যবহারের দক্ষতা বেশি দরকার। তাই আমি মনে করি, সঠিক পথ বেছে নেওয়া মানে নিজের শক্তি আর দুর্বলতাকে আগে চেনা।
আমি নিজে শুরুতে ভাবতাম IT মানেই কোডিং। পরে বুঝলাম, এটা পুরো সত্য না। আমি এমন অনেক মানুষ দেখেছি যারা কোড না লিখেও টেক সেক্টরে দারুণ সফল। কেউ ডিজাইন দিয়ে ব্র্যান্ড বানাচ্ছে, কেউ SEO দিয়ে ট্রাফিক বাড়াচ্ছে, কেউ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট দিয়ে বড় টিম চালাচ্ছে। এই বৈচিত্র্য আমাকে শিখিয়েছে নিজের সাথে যে পথটা মানায়, সেটাই আসল সঠিক পথ।
ধরুন, একজন প্রোগ্রামার একটা অ্যাপ বানিয়ে হাজার মানুষের সমস্যা সমাধান করছে। আবার একজন ডিজিটাল মার্কেটার সেই অ্যাপের ইউজার বাড়িয়ে দিচ্ছে। একজন UX ডিজাইনার অ্যাপটাকে ব্যবহারবান্ধব করছে, আর একজন প্রজেক্ট ম্যানেজার পুরো টিমকে একসাথে এগিয়ে নিচ্ছে। এই উদাহরণগুলোই দেখায় কোডিং আর নন-কোডিং দুইটাই সমান গুরুত্বপূর্ণ, শুধু ভূমিকা আলাদা। তাই আমি বলি, নিজের জায়গাটা চিনে নিন, তারপর সেই পথেই গভীরভাবে এগোন।
আমি যখন শেখার রিসোর্সের কথা বলি, আমি দুইটা ভাগ করি ফ্রি আর পেইড। ফ্রি রিসোর্সে আছে ইউটিউব টিউটোরিয়াল, ব্লগ, ওপেন কোর্স, ডকুমেন্টেশন, আর কমিউনিটি ফোরাম। এগুলো দিয়ে আপনি বেসিক থেকে ভালো একটা লেভেল পর্যন্ত যেতে পারেন। আর পেইড রিসোর্সে আছে অনলাইন কোর্স, বুটক্যাম্প, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম যেখানে স্ট্রাকচার্ড শেখা, অ্যাসাইনমেন্ট আর ফিডব্যাক পাওয়া যায়। আমি মনে করি, শুরুটা ফ্রি দিয়ে করা বুদ্ধিমানের, তারপর দরকার হলে পেইডে যাওয়া সবচেয়ে সেফ পথ।
আমি নিজে প্রথমে শুধু ফ্রি রিসোর্স দিয়েই শুরু করেছিলাম। ইউটিউব দেখে শিখেছি, আর্টিকেল পড়েছি, ছোট প্রজেক্ট করেছি। একটা সময় এসে বুঝলাম আমি আটকে যাচ্ছি, তখন একজন মেন্টরের দরকার হলো। তখনই আমি একটা পেইড কোর্সে ইনভেস্ট করলাম, যেটা আমাকে শর্টকাট না, বরং ক্লিয়ার পথ দেখিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে টাকা খরচ করা খারাপ না, ভুল জায়গায় খরচ করাই খারাপ।
ধরুন, একজন স্টুডেন্ট ইউটিউব দেখে ওয়েব ডিজাইন শিখল, নিজের সাইট বানাল, তারপর একটা ছোট পেইড কোর্স করে ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট শিখল। ফলে সে শুধু কাজ করতে পারল না, কাজ ধরে রাখতেও পারল। আবার কেউ ফ্রি রিসোর্সে বেসিক শিখে ইন্টার্নশিপ পেল, আর সেখানে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা নিল। এই উদাহরণগুলোই দেখায় সঠিক সময় সঠিক রিসোর্স বেছে নিলেই শেখা হয় দ্রুত আর কার্যকর।
আমি দেখি, নতুনরা শেখার সময় সবচেয়ে বেশি যে ভুলটা করে সেটা হলো খুব দ্রুত ফল চাওয়া। তথ্য প্রযুক্তি শেখা কোনো ৭ দিনের ম্যাজিক না, এটা একটা প্রসেস। আরেকটা বড় ভুল হলো একসাথে অনেক কিছু ধরার চেষ্টা করা। এতে ফোকাস নষ্ট হয়, গভীরতা আসে না। অনেকে আবার শুধু ভিডিও দেখে থেমে যায়, প্র্যাকটিস করে না। আমি মনে করি, শেখার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অধৈর্যতা, অগোছালো পরিকল্পনা আর নিয়মিত প্র্যাকটিসের অভাব।
আমি নিজে এই তিনটা ভুলই করেছি। প্রথমে ভাবতাম এক মাসে এক্সপার্ট হয়ে যাবো। তারপর দশটা কোর্স একসাথে শুরু করলাম, কোনোটাই শেষ করলাম না। আর প্র্যাকটিস? সেটা তো প্রায় বাদই ছিল। পরে যখন ফোকাস করলাম একটা স্কিলে, একটা রোডম্যাপ ধরলাম, আর নিয়মিত হাতে-কলমে কাজ করলাম তখনই রেজাল্ট আসতে শুরু করল। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, কম শেখা কিন্তু গভীরভাবে শেখাই আসল শক্তি।
ধরুন, একজন ছাত্র প্রতিদিন ১ ঘণ্টা কোড লেখে, ছোট প্রজেক্ট করে, নোট নেয় ছয় মাস পর সে বাস্তবভাবে কাজ করতে পারে। আর আরেকজন দিনে ৫ ঘণ্টা ভিডিও দেখে কিন্তু প্র্যাকটিস করে না ছয় মাস পরও সে কনফিউজড থাকে। এই দুইজনের পার্থক্যটাই দেখায় শেখার গুণগত মান সময়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি বলি, ভুলগুলো চিনে নিন, তারপর সচেতনভাবে এগুলো এড়িয়ে চলুন।
আমি মনে করি, শেখা আর দক্ষ হওয়া এক জিনিস না। আসল দক্ষতা আসে প্র্যাকটিস আর প্রজেক্ট থেকে। আপনি যতই ভিডিও দেখুন বা বই পড়ুন, হাতে-কলমে কাজ না করলে সেটা বাস্তব স্কিল হয় না। তাই আমি সবসময় বলি প্রতিটা নতুন কনসেপ্ট শিখলেই সেটাকে ছোট একটা প্রজেক্টে লাগান। যেমন: ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখলে একটা নিজের ওয়েবসাইট বানান, ডিজিটাল মার্কেটিং শিখলে একটা পেজ গ্রো করে দেখান। এইভাবে শেখা আর কাজ একসাথে চললে দক্ষতা দ্রুত বাড়ে।
আমি নিজে যখন শুরু করি, তখন শুধু কোর্স শেষ করাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু জব বা ক্লায়েন্ট আসার সময় দেখলাম কেউ কোর্সের সার্টিফিকেট চায় না, সবাই কাজ দেখতে চায়। তখনই আমি নিজের জন্য প্রজেক্ট বানানো শুরু করলাম। প্রথমে খুব সাধারণ ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে জটিল হলো। সেই প্রজেক্টগুলোই পরে আমার পোর্টফোলিও হলো, আর সেটাই আমার প্রথম কাজ এনে দিল।
ধরুন, একজন ছাত্র তিনটা ছোট ওয়েবসাইট বানাল, দুটো ফেসবুক পেজ গ্রো করল, আর একটা ডেটা রিপোর্ট বানাল। এগুলো দেখিয়েই সে ইন্টার্নশিপ পেল, কারণ তার কাছে প্রমাণ ছিল সে পারে। আবার কেউ GitHub-এ নিয়মিত কোড আপলোড করে, ফলে রিক্রুটাররা তার কাজ দেখতে পায়। এই উদাহরণগুলোই দেখায় প্র্যাকটিস আর প্রজেক্টই স্কিলকে বাস্তব রূপ দেয়।
আমি মনে করি, তথ্য প্রযুক্তিতে পোর্টফোলিও হলো আপনার আসল পরিচয়, আর সিভি হলো তার সংক্ষিপ্ত সারাংশ। শুধু সার্টিফিকেট দেখিয়ে এখানে খুব কমই সুযোগ মেলে, সবাই দেখতে চায় আপনি বাস্তবে কী করতে পারেন। তাই আমি বলি নিজের কাজগুলো সুন্দরভাবে সাজান: প্রজেক্টের স্ক্রিনশট, লাইভ লিংক, ব্যবহার করা টুল, সমস্যাটা কী ছিল আর আপনি কীভাবে সমাধান করেছেন এই জিনিসগুলো থাকলে পোর্টফোলিও শক্তিশালী হয়। আর সিভিতে রাখবেন ক্লিয়ার স্কিল লিস্ট, সংক্ষিপ্ত অভিজ্ঞতা আর আপনার যোগাযোগের তথ্য অপ্রয়োজনীয় কথা নয়।
আমি নিজে প্রথমে একটা খুব সাধারণ সিভি বানিয়েছিলাম শুধু পড়াশোনা আর কোর্সের নাম ছিল। ফলাফল? কোনো রেসপন্স পাইনি। পরে আমি সিভি আপডেট করলাম, প্রজেক্ট যোগ করলাম, পোর্টফোলিও লিংক দিলাম। তখনই রেসপন্স আসতে শুরু করল। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে আপনি কী জানেন সেটা কম গুরুত্বপূর্ণ, আপনি কী করতে পারেন সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ধরুন, একজন ওয়েব ডেভেলপার নিজের তিনটা সাইট দেখাল, তাদের পারফরম্যান্স ডেটা দিল, আর ক্লায়েন্টের ফিডব্যাক যোগ করল সে সহজেই ইন্টারভিউ পায়। একজন ডিজাইনার Behance বা Dribbble-তে কাজ আপলোড করে ক্লায়েন্ট পায়। এই বাস্তব উদাহরণগুলোই প্রমাণ করে শক্তিশালী পোর্টফোলিও মানেই সুযোগের দরজা খোলা।
আমি মনে করি, ফ্রিল্যান্সিং আর চাকরি এই দুইটা হলো তথ্য প্রযুক্তিতে কাজ করার দুইটা আলাদা স্টাইল। চাকরিতে স্থির আয়, টিম সাপোর্ট আর নির্দিষ্ট সময় থাকে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে থাকে স্বাধীনতা, নিজের সময়ের কন্ট্রোল আর আয়ের সম্ভাব্য সীমাহীনতা। তবে এখানে অনিশ্চয়তাও আছে। তাই আমি বলি, কোনটা ভালো সেটা নির্ভর করে আপনার মানসিকতা, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা আর জীবনের অবস্থার উপর। কেউ স্টেবিলিটি চায়, কেউ ফ্লেক্সিবিলিটি চায় দুটোই সঠিক, শুধু পছন্দ আলাদা।
আমি নিজে প্রথমে চাকরি করেছি। সেখানে আমি শেখার সুযোগ পেয়েছি, টিমওয়ার্ক বুঝেছি, ডিসিপ্লিন শিখেছি। পরে যখন নিজের উপর আত্মবিশ্বাস এলো, তখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলাম। তখন বুঝলাম এখানে স্বাধীনতা বেশি, কিন্তু দায়িত্বও বেশি। ক্লায়েন্ট খুঁজতে হয়, নিজেকে মার্কেট করতে হয়, আর কাজের কোয়ালিটি নিজেই মেইনটেইন করতে হয়। এই দুই অভিজ্ঞতাই আমাকে বুঝিয়েছে একটার সাথে আরেকটার তুলনা নয়, বরং নিজের সাথে মিলটাই আসল।
ধরুন, একজন নতুন গ্র্যাজুয়েট একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করে বেসিক শিখল। পরে সে ফ্রিল্যান্সিংয়ে গিয়ে একই স্কিল দিয়ে ডাবল আয় করছে। আবার কেউ শুরু থেকেই ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের ব্র্যান্ড বানিয়েছে। এই উদাহরণগুলোই দেখায় পথ আলাদা হলেও লক্ষ্য একটাই: নিজের স্কিল দিয়ে মূল্য তৈরি করা।
আমি মনে করি, আজকের দিনে শুধু স্থানীয় বাজারে সীমাবদ্ধ থাকলে অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়। বাংলাদেশে যেমন সফটওয়্যার কোম্পানি, স্টার্টআপ আর এজেন্সিতে চাকরির সুযোগ আছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মার্কেটে আছে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম, রিমোট জব আর স্টার্টআপ জব। তাই আমি বলি নিজের প্রোফাইল এমনভাবে বানান যেন লোকাল আর গ্লোবাল দুই জায়গাতেই গ্রহণযোগ্য হয়। শক্তিশালী পোর্টফোলিও, ক্লিয়ার কমিউনিকেশন আর পেশাদার আচরণ এই তিনটাই এখানে সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
আমি নিজে প্রথমে শুধু লোকাল মার্কেটে চেষ্টা করতাম। পরে যখন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল বানালাম, তখন বুঝলাম প্রতিযোগিতা বেশি, কিন্তু সুযোগও অনেক বেশি। প্রথম ক্লায়েন্ট পেতে সময় লেগেছিল, কিন্তু একবার রিভিউ আর অভিজ্ঞতা জমলে কাজ নিয়মিত আসতে শুরু করে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে ধৈর্য আর ধারাবাহিকতা এখানে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
ধরুন, একজন ডেভেলপার LinkedIn-এ নিয়মিত পোস্ট করে রিক্রুটারের নজরে পড়ল, আর রিমোট জব পেল। একজন ফ্রিল্যান্সার Upwork-এ ভালো প্রোফাইল বানিয়ে ইউরোপিয়ান ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করছে। এই উদাহরণগুলোই দেখায় সঠিক জায়গায় সঠিকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারলেই বাজার নিজে থেকেই খুলে যায়।