

আমি যখন নতুন বাংলা ব্লগ শুরু করি, তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কীভাবে কপি-পেস্ট ছাড়া ইউনিক কনটেন্ট লেখা যায়। ইন্টারনেটে তথ্যের অভাব নেই, কিন্তু বেশিরভাগ বাংলা ব্লগেই দেখা যায় একই লেখা ঘুরে-ফিরে বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নতুন ব্লগাররা সহজেই বিভ্রান্ত হয় এবং মনে করে কপি করলেই বুঝি গুগলে র্যাঙ্ক করা সম্ভব। বাস্তবে বিষয়টা একদম উল্টো।
এই ব্লগে আমি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখানো চেষ্টা করেছি কেন কপি-পেস্ট কনটেন্ট নতুন বাংলা ব্লগের জন্য ক্ষতিকর এবং কীভাবে নিজের ভাষায়, নিজের চিন্তায় SEO-friendly কনটেন্ট লেখা যায়। এখানে কোনো তাত্ত্বিক কথা নয়, বরং বাস্তবে কাজ করে এমন নিয়ম, কৌশল ও উদাহরণ শেয়ার করা হয়েছে। আপনি যদি নতুন ব্লগার হন এবং গুগলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পেতে চান, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য একটি পরিষ্কার গাইড হিসেবে কাজ করবে।
1️ কপি-পেস্ট কনটেন্ট কেন নতুন বাংলা ব্লগের জন্য ক্ষতিকর
2️ গুগল কীভাবে কপি করা কনটেন্ট শনাক্ত করে
3️ ইউনিক বাংলা কনটেন্ট লেখার আগে সঠিক রিসার্চ করার নিয়ম
4️ নিজের ভাষায় কনটেন্ট লেখার সহজ কৌশল
5️ বাংলা ব্লগে রিরাইটিং বনাম কপি-পেস্ট: পার্থক্য কী
6️ SEO-friendly বাংলা কনটেন্ট লেখার সঠিক স্ট্রাকচার
7️ নতুন ব্লগারের জন্য বেস্ট ফ্রি প্লেজিয়ার চেক টুল
8️ কীওয়ার্ড স্টাফিং ছাড়া গুগলে র্যাঙ্ক করার উপায়
9️ কপি-পেস্ট ছাড়া কনটেন্ট লিখে দ্রুত ট্রাস্ট পাওয়ার কৌশল
10 নতুন বাংলা ব্লগে নিয়মিত ইউনিক কনটেন্ট লেখার প্র্যাকটিক্যাল রুটিন
আমি যখন প্রথম নতুন বাংলা ব্লগ শুরু করি, তখন সবচেয়ে বড় যে ভুলটা করতে দেখেছি (এবং অনেকে এখনো করে) তা হলো কপি-পেস্ট কনটেন্ট। শুরুতে মনে হয় অন্য জায়গা থেকে লেখা নিয়ে একটু এডিট করলেই হবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা একদম উল্টো। গুগল এখন এতটাই স্মার্ট যে একই ধরনের লেখা, বাক্যের গঠন, এমনকি ভাবও মিললে সেটাকে ডুপ্লিকেট কনটেন্ট হিসেবে ধরে নেয়। ফলে নতুন ব্লগে ট্রাফিক আসে না, পোস্ট ইনডেক্স হতে দেরি হয়, আর ধীরে ধীরে সাইটের উপর গুগলের বিশ্বাস কমে যায়।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি একসময় একটি বাংলা ব্লগে কয়েকটি আর্টিকেল লিখেছিলাম যেগুলো পুরোপুরি ইউনিক ছিল না। ফলাফল কী হয়েছিল? ২–৩ মাস পার হয়ে গেলেও কোনো পোস্ট ঠিকভাবে র্যাঙ্ক করছিল না। পরে যখন আমি কপি-পেস্ট বাদ দিয়ে নিজের ভাষায়, নিজের বোঝাপড়া থেকে কনটেন্ট লেখা শুরু করলাম, তখন ধীরে ধীরে গুগল সার্চ থেকে ভিজিটর আসতে শুরু করে। তখনই বুঝেছি ইউনিক কনটেন্টই আসল সম্পদ।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বলি, ধরুন “কনটেন্ট রাইটিং” নিয়ে ১০০টা বাংলা ব্লগ আছে, কিন্তু বেশিরভাগই একই লেখা কপি করেছে। আপনি যদি সেই একই তথ্য নিজের ভাষায়, নতুন উদাহরণ ও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়ে লেখেন, গুগল আপনাকেই আলাদা করে চিনবে। কারণ আপনার কনটেন্টে থাকবে নতুন ভ্যালু, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। তাই নতুন বাংলা ব্লগের জন্য কপি-পেস্ট কনটেন্ট শুধু ক্ষতিকরই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্লগ ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ।
আমি শুরুতে মনে করতাম, গুগল বুঝি শুধু শব্দ মিলিয়ে কপি করা কনটেন্ট ধরে। কিন্তু পরে বুঝেছি গুগল এর চেয়েও অনেক বেশি স্মার্ট। এখন গুগল শুধু শব্দ নয়, বাক্যের গঠন, লেখার স্টাইল, তথ্যের ক্রম, এমনকি লেখার উদ্দেশ্যও বিশ্লেষণ করে। একই তথ্য যদি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একভাবে লেখা হয়, গুগল সেটাকে অরিজিনাল না ধরে ডুপ্লিকেট বা লো-ভ্যালু কনটেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে।
ডিজিটাল মাকেটিং সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একবার আমি একটি পোস্ট নিজের ভাষায় রিরাইট করেছি, কিন্তু তথ্যের অর্ডার আর বাক্যের স্ট্রাকচার আগের লেখার মতোই ছিল। লেখাটা ইউনিক মনে হলেও গুগল সার্চে ভালো পারফর্ম করেনি। পরে যখন পুরো বিষয়টা নতুনভাবে ব্যাখ্যা করলাম, নিজের চিন্তা ও উদাহরণ যোগ করলাম, তখন সেই পোস্ট ইনডেক্স হলো দ্রুত এবং র্যাঙ্কও পাওয়া শুরু করল। তখনই বুঝলাম শুধু শব্দ বদলানোই যথেষ্ট না।
বাস্তব উদাহরণ দিলে, ধরুন ১০টি ওয়েবসাইটে লেখা আছে: “SEO কনটেন্ট র্যাঙ্ক করতে সাহায্য করে।” আপনি যদি শুধু লিখেন, “SEO লেখা র্যাঙ্ক বাড়ায়” তাহলে গুগল এটাকে নতুন কিছু ভাববে না। কিন্তু আপনি যদি নিজের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সমাধান যুক্ত করেন, তখন গুগল বুঝবে আপনার কনটেন্টে নতুন ভ্যালু আছে। তাই কপি করা কনটেন্ট গুগল খুব সহজেই শনাক্ত করতে পারে এবং নতুন বাংলা ব্লগের জন্য এটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
আমি যখন ইউনিক বাংলা কনটেন্ট লিখতে বসি, তখন প্রথমেই লেখা শুরু করি না। আগে বুঝে নিই—এই টপিক নিয়ে মানুষ আসলে কী জানতে চায়। গুগলে টপিকটি সার্চ করে প্রথম ৫–১০টি রেজাল্ট দেখি, কিন্তু কপি করার জন্য না বরং বুঝার জন্য। কোন প্রশ্নগুলো বারবার এসেছে, কোন তথ্যগুলো সবাই বলছে, আর কোন জায়গায় তথ্যের ঘাটতি আছে এই বিষয়গুলো নোট করি। এতে করে আমি বুঝতে পারি, আমার কনটেন্টে কোথায় নতুন ভ্যালু যোগ করা যায়।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগে আমি রিসার্চ ছাড়াই লেখা শুরু করতাম। ফলাফল ছিল লেখা ইউনিক হলেও ইউজাররা তেমন সময় দিত না, আর গুগল থেকেও ট্রাফিক আসত কম। পরে যখন পরিকল্পিতভাবে রিসার্চ করে লেখা শুরু করলাম, তখন কনটেন্ট শুধু ইউনিকই থাকল না, বরং ইউজারের সমস্যার সরাসরি সমাধান দিতে পারল। এতে Bounce Rate কমে গেল এবং পোস্ট র্যাঙ্ক করাও সহজ হলো।
কপি পেষ্ট সম্পর্কে আরো জানতে ক্লিক করে
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আপনি যদি “কপি-পেস্ট ছাড়া কনটেন্ট লেখার নিয়ম” নিয়ে লিখেন, তাহলে শুধু নিয়ম বললেই হবে না। মানুষ জানতে চায় কীভাবে শুরু করবে, কী ভুলগুলো এড়াবে, নতুন ব্লগার হিসেবে কী টুল ব্যবহার করা উচিত। আপনি যদি রিসার্চ করে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একসাথে দেন, তাহলে আপনার কনটেন্ট অন্য সব লেখার থেকে আলাদা হবে। সঠিক রিসার্চই ইউনিক ও হাই-ভ্যালু বাংলা কনটেন্টের ভিত্তি।
আমি যখন নিজের ভাষায় কনটেন্ট লেখার চেষ্টা করি, তখন প্রথমেই মনে রাখি আমি কার জন্য লিখছি। সার্চ ইঞ্জিনের জন্য নয়, একজন বাস্তব মানুষকে বোঝানোর জন্য লিখলে ভাষা স্বাভাবিক হয়ে আসে। অন্য কারও লেখা দেখে যদি কোনো ধারণা নেই, সেটাকে আগে মাথার ভেতর ভেঙে নিই, তারপর কাগজে বা স্ক্রিনে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করি। এতে করে লেখাটা আর কপি-পেস্টের মতো শোনায় না।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগে আমি অনেক সময় ইংরেজি আর্টিকেল পড়ে সেগুলো বাংলায় রিরাইট করতাম। শব্দ বদলালেও ভাব একই থাকত, ফলে কনটেন্ট আলাদা মনে হতো না। পরে আমি একটি নিয়ম বানালাম রেফারেন্স দেখা শেষ করে ১০–১৫ মিনিট কিছু না লিখে ভাবি, তারপর নতুন করে লেখা শুরু করি। এই পদ্ধতিতে লেখা অনেক বেশি ন্যাচারাল ও ইউনিক হয়েছে, আর গুগলেও ভালো রেজাল্ট পেয়েছি।
বাস্তব উদাহরণ দিলে, ধরুন কেউ লিখেছে “ভালো কনটেন্ট ইউজার এনগেজমেন্ট বাড়ায়।” আপনি যদি সেটাকে নিজের ভাষায় লিখেন “মানুষ তখনই পোস্টে সময় দেয়, যখন লেখাটা সত্যিই কাজে লাগে” এটাই নিজের ভাষা। একই তথ্য, কিন্তু প্রকাশের ধরন আলাদা। এভাবেই নিজের ভাষায় লেখা কনটেন্ট নতুন বাংলা ব্লগকে আলাদা পরিচয় দেয় এবং SEO-তেও দীর্ঘমেয়াদে উপকার করে।
আমি যখন নতুন ছিলাম, তখন রিরাইটিং আর কপি-পেস্টের পার্থক্য ঠিকভাবে বুঝতাম না। মনে হতো কয়েকটা শব্দ বদলালেই বুঝি রিরাইট হয়ে যায়। কিন্তু সময়ের সাথে বুঝেছি, কপি-পেস্ট মানে অন্যের লেখা হুবহু বা সামান্য পরিবর্তন করে ব্যবহার করা, আর রিরাইটিং মানে একই বিষয়কে নিজের বোঝাপড়া, নিজের ভাষা ও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে নতুনভাবে তুলে ধরা। এই পার্থক্যটাই নতুন বাংলা ব্লগের ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেয়।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একসময় আমি একটি পোস্ট শুধু শব্দ পরিবর্তন করে প্রকাশ করেছিলাম। প্রথমে মনে হয়েছিল ঠিকই আছে, কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর দেখলাম পোস্টটি কোনো র্যাঙ্কই পাচ্ছে না। পরে যখন একই টপিক পুরোপুরি নতুন স্ট্রাকচারে, নিজের অভিজ্ঞতা ও উদাহরণ যোগ করে রিরাইট করলাম, তখন সেই পোস্ট আস্তে আস্তে গুগলে উঠতে শুরু করে। তখনই পরিষ্কার বুঝলাম রিরাইটিং মানে কপি নয়, নতুন করে লেখা।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, ধরুন একটি ব্লগে লেখা আছে: “SEO ছাড়া ব্লগ সফল হয় না।” কপি-পেস্ট করলে আপনি সেটাই লিখবেন। কিন্তু রিরাইটিং করলে আপনি লিখবেন“সঠিক SEO না জানলে ভালো লেখা থাকলেও ব্লগে ভিজিটর আসে না।” একই ধারণা, কিন্তু প্রকাশ ভিন্ন। এই ভিন্নতাই গুগল খোঁজে। তাই বাংলা ব্লগে কপি-পেস্ট নয়, বুদ্ধিমানের রিরাইটিংই হলো নিরাপদ ও SEO-ফ্রেন্ডলি পথ।
আমি যখন SEO-friendly বাংলা কনটেন্ট লিখি, তখন শুধু ভালো লেখা হলেই হবে এই চিন্তা করি না। লেখার একটি পরিষ্কার স্ট্রাকচার থাকা জরুরি। প্রথমে একটি স্পষ্ট H1 টাইটেল দিই, যেটা মূল কীওয়ার্ডকে ধারণ করে। এরপর কনটেন্টকে H2 ও H3 হেডিং দিয়ে ভাগ করি, যেন পাঠক সহজে বুঝতে পারে কোন অংশে কী আছে। ছোট প্যারাগ্রাফ, বুলেট পয়েন্ট আর সাবহেডিং ব্যবহার করলে লেখা পড়তে আরাম হয় এটাই গুগলও পছন্দ করে।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগে আমি বড় বড় প্যারাগ্রাফে লেখা দিতাম। তথ্য ভালো থাকলেও ইউজার দ্রুত স্ক্রল করে চলে যেত। পরে যখন স্ট্রাকচার ঠিক করলাম ইন্ট্রো, সমস্যা, সমাধান, উদাহরণ, উপসংহার তখন ইউজার পোস্টে বেশি সময় দিতে শুরু করল। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে SEO-তে; Average Time on Page বেড়েছে এবং র্যাঙ্কও উন্নত হয়েছে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আপনি যদি “কপি-পেস্ট ছাড়া কনটেন্ট লেখার নিয়ম” লিখেন, তাহলে এক প্যারাগ্রাফে সব না লিখে আলাদা আলাদা হেডিং দিন যেমন সমস্যা, সমাধান, টুলস, টিপস। এতে পাঠক দ্রুত প্রয়োজনীয় অংশ খুঁজে পায়। সঠিক স্ট্রাকচারই একটি সাধারণ বাংলা লেখাকে SEO-friendly ও হাই-ভ্যালু কনটেন্টে রূপান্তর করে।
আমি যখন নতুন বাংলা ব্লগে কনটেন্ট লেখা শুরু করি, তখন সবচেয়ে বড় ভয় ছিল অজান্তে কপি হয়ে যাচ্ছে কি না। নিজের ভাষায় লিখলেও অনেক সময় কিছু বাক্য অন্য কোথাও মিলতে পারে। তাই আমি প্রতিটি লেখা প্রকাশ করার আগে অবশ্যই একটি ফ্রি প্লেজিয়ার চেক টুল ব্যবহার করি। এতে করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে কনটেন্টটি গুগলের চোখে ইউনিক কি না। নতুন ব্লগারের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শুরুতেই যদি ডুপ্লিকেট সমস্যা হয়, তাহলে সাইটের ট্রাস্ট তৈরি হতে দেরি হয়।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একবার আমি নিজের লেখা একটি আর্টিকেল চেক না করেই প্রকাশ করেছিলাম। পরে একটি টুলে চেক করে দেখি, কয়েকটি লাইন অন্য ওয়েবসাইটের সাথে মিল আছে। তখন আমি সেই অংশগুলো আবার নিজের মতো করে লিখি। এই ছোট পরিবর্তনের পরই পোস্টটি দ্রুত ইনডেক্স হয়। তখন বুঝেছি প্লেজিয়ার চেক টুল শুধু কপি ধরার জন্য না, বরং কনটেন্টকে আরও ভালো করার জন্যও কাজে আসে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বলি, ধরুন আপনি ১০০% নিজের ভাষায় লিখেছেন, কিন্তু “SEO কনটেন্ট গুগলে র্যাঙ্ক করতে সাহায্য করে”—এই বাক্যটি বহু সাইটে আছে। টুল সেটা ধরিয়ে দেবে। তখন আপনি লিখতে পারেন—“ঠিকভাবে অপটিমাইজ করা কনটেন্ট গুগলে দৃশ্যমানতা বাড়ায়।” অর্থ একই, কিন্তু প্রকাশ আলাদা। এভাবেই ফ্রি প্লেজিয়ার চেক টুল নতুন বাংলা ব্লগারকে নিরাপদ ও SEO-friendly কনটেন্ট তৈরিতে সাহায্য করে।
আমি যখন SEO শেখা শুরু করি, তখন মনে করতাম একই কীওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করলেই বুঝি গুগলে র্যাঙ্ক হবে। পরে বুঝেছি, এটাকেই বলে কীওয়ার্ড স্টাফিং, আর এটা গুগলের চোখে একটি বড় ভুল। এখন গুগল চায় স্বাভাবিক লেখা, যেখানে কীওয়ার্ড এমনভাবে বসানো হবে যেন পাঠক বুঝতেই না পারে এটা SEO করা। তাই আমি সবসময় আগে মানুষের জন্য লিখি, পরে SEO ঠিক করি।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একসময় আমি একটি পোস্টে একই কীওয়ার্ড অপ্রয়োজনে অনেকবার ব্যবহার করেছিলাম। ফলাফল ছিল উল্টো পোস্ট র্যাঙ্ক তো করেইনি, বরং কিছুদিন পর ভিজিটরও কমে গেছে। পরে আমি সেই লেখাটি এডিট করে কীওয়ার্ড কমালাম, এর বদলে মিলযুক্ত শব্দ (synonyms) ও সম্পর্কিত শব্দ ব্যবহার করলাম। এই পরিবর্তনের পরই পোস্টের পারফরম্যান্স ভালো হতে শুরু করে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আপনি যদি “বাংলা কনটেন্ট লেখার নিয়ম” কীওয়ার্ড ব্যবহার করেন, তাহলে সেটা প্রতি লাইনে বসানোর দরকার নেই। এর বদলে “ইউনিক বাংলা লেখা”, “SEO-friendly কনটেন্ট”, “নতুন ব্লগারদের লেখার কৌশল” এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করুন। এতে করে লেখা স্বাভাবিক থাকবে, পাঠক সন্তুষ্ট হবে, আর গুগলও বুঝবে আপনার কনটেন্টটি সত্যিই ভ্যালু দিচ্ছে।
আমি যখন বুঝতে পারলাম কপি-পেস্ট কনটেন্ট দিয়ে নতুন বাংলা ব্লগে টিকে থাকা যায় না, তখন আমার পুরো ফোকাস চলে গেল গুগল ও পাঠকের ট্রাস্ট তৈরির দিকে। ট্রাস্ট মানে শুধু র্যাঙ্ক না, বরং মানুষ যেন লেখার উপর বিশ্বাস করে। আমি চেষ্টা করি প্রতিটি লেখায় বাস্তব তথ্য, পরিষ্কার ব্যাখ্যা এবং নিজের শেখা জিনিসগুলো শেয়ার করতে। এতে করে পাঠক বুঝতে পারে এই কনটেন্টটা সত্যিই কাজে লাগার জন্য লেখা।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যখন আমি কপি-পেস্ট বাদ দিয়ে নিয়মিত ইউনিক কনটেন্ট প্রকাশ করা শুরু করলাম, তখন প্রথম দিকে ট্রাফিক খুব বেশি ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে একই পোস্টে মানুষ বারবার আসতে শুরু করল, কমেন্ট ও শেয়ার বাড়ল। এই ইউজার সিগন্যালগুলোই গুগলকে বুঝিয়ে দেয় যে সাইটটি বিশ্বাসযোগ্য। কয়েক মাস পর দেখলাম নতুন পোস্টগুলো আগের তুলনায় দ্রুত ইনডেক্স হচ্ছে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আপনি যদি শুধু অন্যের লেখা অনুবাদ করেন, পাঠক একবার আসবে, কিন্তু ফিরে আসবে না। কিন্তু আপনি যদি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন কী ভুল করেছেন, কীভাবে সমাধান পেয়েছেন তাহলে পাঠক আপনাকে চিনবে। এই পরিচিতি ও বিশ্বাসই হলো ট্রাস্ট। আর এই ট্রাস্টই কপি-পেস্ট ছাড়া লেখা কনটেন্টকে গুগলে দীর্ঘমেয়াদে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
আমি নতুন বাংলা ব্লগে নিয়মিত ইউনিক কনটেন্ট লেখার জন্য নিজের জন্য একটি সহজ কিন্তু কার্যকর রুটিন তৈরি করেছি। প্রতিদিন না পারলেও নির্দিষ্ট কিছু দিন ঠিক করে রাখি যেদিন শুধু রিসার্চ করব, আর যেদিন লিখব। এতে করে মাথায় চাপ কম থাকে এবং কনটেন্টের মানও ভালো হয়। আমি সপ্তাহে অন্তত ২–৩টি পোস্ট লেখার লক্ষ্য রাখি, কারণ ধারাবাহিকতাই নতুন ব্লগের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগে আমি ইচ্ছেমতো লিখতাম কখনো টানা কয়েকদিন, আবার অনেকদিন কিছুই না। এর ফলে ব্লগে কোনো গ্রোথ হচ্ছিল না। পরে যখন নির্দিষ্ট রুটিন বানালাম রিসার্চ, লেখা, এডিট, পাবলিশ তখন কাজ অনেক গুছানো হলো। গুগলও নিয়মিত আপডেট হওয়া ব্লগকে বেশি গুরুত্ব দেয়, এটা আমি নিজেই ফলাফল দেখে বুঝেছি।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আপনি যদি প্রতি রবিবার ২ ঘণ্টা শুধু কনটেন্ট প্ল্যান করেন আর সপ্তাহে ২ দিন লেখা শেষ করেন, তাহলে মাসে ৮–১০টি ইউনিক পোস্ট পাবেন। এই ধারাবাহিক ইউনিক কনটেন্টই ধীরে ধীরে আপনার বাংলা ব্লগকে অথরিটি বানাবে। নিয়মিত প্র্যাকটিস ছাড়া কপি-পেস্ট ছাড়া কনটেন্ট লেখা সম্ভব নয় এই রুটিনই তার সবচেয়ে বাস্তব সমাধান।