পুষ্টিকর খাবার সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি। সঠিক ও পুষ্টিসম্পন্ন খাবার আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং জীবনে নতুন শক্তি যোগ করে। এই লেখায় জানুন কীভাবে দৈনন্দিন খাবারে পুষ্টি বজায় রেখে সুস্থ জীবন যাপন করা যায়। আরো বিস্তারিত নিচে
- পুষ্টিকর খাবার কী ?
- কেন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি?
- পুষ্টিকর খাবার: সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম জীবনের প্রধান
- প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টির গুরুত্ব
- বয়স অনুযায়ী খাবারে বৈচিত্র্য আনা কেন জরুরি
- শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব
- শিশুর পানির চাহিদা পূরণ করাও খাবারের অংশ
- শিশুর খাবারে পরিমাণ ও সময়ের সঠিক নিয়ম মানা জরুরি
- শিশুর খাবারে পানি ও তরল খাবারের গুরুত্ব
- শিশুর খাদ্যাভাসে বৈচিত্র্য আনা জরুরি
পুষ্টিকর খাবার কী ?
পুষ্টিকর খাবার মানে এমন খাবার যে আমাদের শরীরের জন্য দারুন উপকার ও দরকার সব উপাদানই আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন। যেমন ধরা যাক প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, কার্বো হাইড্রেট ও ফ্যাট ফ্যাট । এসবগুলো শরীরের জন্য ঠিকঠাক ভাবে স্বাভাবিক করে। তুমি যদি এক প্লেট খাবারের সব তরকারি উপাদান পাবে তখনই সেটা করা যাবে একটি সুন্দর খাবার এবং পুষ্টিকর খাবার। যেমন তুমি ধরতে পারো ভাত খাচ্ছ সঙ্গে যদি থাকে ডাল সবজি ডিম বা মাছ মাংস তাহলে সেটা একটি কষ্টকর খাবার হয়ে যায়। খাবার খেলে শুধু পেট ভরে নেই সে খাবার খেলে শরীরে উপকার আসবে না বরং তোমাকে সবগুলো মেনে চলে এবং পুষ্টিকর খাবার হয় সে ধরনের খাবার খেতে হবে তোমাকে। কারণ তুষ্টিকর খাবার খেলে তোমার শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি ক্ষমতায় সুস্থতা বহন করবে এমন খাবার খেতে হবে। তাহলে দেখবে তোমার শরীরের একটি ক্ষমতা সুস্থতা প্রতিদিন তোমায় যদি কুষ্টিকার খাবার খাওয়া দরকার মনে করো তাহলে তুমি মনে করবে আমি একটি সুস্থ মানুষ। বাজারের সাধারণ খাবার খেলে তোমার শরীরের গঠন ঠিকভাবে গড়ে উঠবে না শরীর যেমন তেমনি থাকবে কিন্তু তোমার শরীর দুর্বল ভাব মনে হবে। তাই ছোট থেকে বড় সবার জন্য পুষ্টিকর খাবার দেখে নেওয়া খুবই জরুরী। সুস্থতা থাকার জন্য পুষ্টিকর খাবার আমাদেরকে অবশ্যই খেতে হবে।
কেন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি?
আমাদেরকে পোস্টটি কার খাবার খাওয়া জরুরী কেন, কারণ এই খাবারগুলো আমাদের শরীরে প্রয়োজন শক্তিও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বাড়ায়। আমাদের খেয়েছি সুস্থ থাকার জন্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এটা বাধ্যতামূল। তুমি যদি প্রতিদিন ঠিক মতো খাবার খাও তাহলে শরীর ভালো থাকবে মন ভালো থাকবে মনে একটি প্রশান্তি পাবে। মনে কর তুমি দেখতে পাচ্ছ নিজের তারা ঠিকমত খাবার খাই না তাহলে দেখবে তাদের লেখাপড়ার অবস্থা কেমন তাদের লেখাপাড়ায় কখনো মন বসবে না কারণ শরীর দুর্বল হয়ে যায় এ কারণে কোন কিছুতে মন বসে না। আবার তুমি মনে করো বড়দেরও যদি সঠিক খাবার না থাকে তাহলে সহজে ক্লান্ত লাগে রোগ বালাই বেশি হয় এগুলো পুষ্টিকর খাবার না খাওয়ার কারণ। খাবার খেলে বৃহস্পতিটা প্রতি অঙ্গে সুন্দরভাবে কাজ করছে কাজল অনুভবে ক্লান্ত মনে ভাব করবে না। আমাদেরকে খেতে হবে। যেমন ধরো , ভিটামিন চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে, আয়রন রক্ত তৈরি করে, প্রোটিন শরীর গঠন করে। তাই রোগমুক্ত ও শক্তিশালী জীবন পেতে হলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার বিকল্প নেই।
শিশুদের খাবার সম্পর্কে আরো জানুন
পুষ্টিকর খাবারে কী কী উপাদান থাকা দরকার?
পুষ্টিকর খাবার খেতে চাও, তাহলে আমাদেরকে জানতে হবে। আমাদের এই খাবার কি কি উপাদান দরকার হতে হবে। আমাদের শরীরের ঠিকমতো চলার জন্য প্রোটিন কার্বোহাইড্রেট ফ্যাট ভিটামিন ও খনিজ দরকার হবে। এগুলো মধ্যে কোনগুলো হতে পারে যেমন তুমি ধরতে পারো মাছ মাংস ডিম এইগুলোতে প্রোটিন খাবার যা শরীর গঠনের সাহায্য করে। ভাত রুটি থেকে কার্বোহাইডেট যা শরীরকে শক্তি প্রদান করে। আবার বাদাম দুধ ডিম থাকে ভালো চর্বি বা ফ্যাট যা শরীরের তাপমাত্রা ঠিক করে রাখে সব সবজিও ফলমূল থাকে ভিটামিন খনিজ প্রতিরোধ করে থাকে । তাই তুমি যখন খাবার খাবে, তখন খেয়াল রাখো যেন খাবারে এই উপাদানগুলো ঠিকঠাক থাকে। কারণ একটাই উপাদান দিয়ে শরীর ভালো থাকে না, সব উপাদানই দরকার হয়। তাই সুষম খাবার খাওয়াটাই আসল চাবিকাঠি।
প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টির গুরুত্ব
আমাদেরকে প্রতিদিন খেয়াল রাখতে হবে খাবারের পুষ্টি ও না রাখলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই আমাদের সব সময় খেয়াল রাখতে হবে পুষ্টিকর খাবারের দিক। যদি না খাও হয় দেখবে মনো ঠিকঠাক কাজ করবে না কাজে প্রতি অলসতা বাড়বে। প্রতিদিন খাবার শুধু পেট ভরানোর জন্য নয় এটা তোমার শরীর মন এবং ভবিষ্যৎ জন্য বিনিয়োগ। আমরা যদি নিয়ম করে সকালে নাস্তা দুপুরের খাবার রাতের খাবারের সময় পুষ্টিকর জিনিস খাও তাহলে শরীরের শক্তি থাকবে পড়াশোনায় মন বসবে কাজ করতে মন বসবে সব কিছুতেই মন ভালো থাকবে। অনেকেই শুধু ভাত বা রুটিতে খেয়ে নেয়, কিন্তু পুষ্টি মানে হলো প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট—সবকিছু মিলিয়ে খাওয়া। প্রতিদিন যদি তুমি এসব খাওয়ার দিকে নজর দাও, তাহলে শরীরও ভালো থাকবে, অসুখ-বিসুখ থেকেও দূরে থাকতে পারবে। সুতরাং, প্রতিদিনের খাবার হোক পুষ্টিকর—এটাই হোক তোমার নিয়ম।
শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব
আমাদের শিশুদের শরীর গঠন মানসিক বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবার খুবই জরুরী হয়ে পড়ে। যদি আমরা একটা শিশুকে প্রতিদিন সময় মতন ঠিকঠাকভাবে খাবার না দেওয়া হয় তাহলে তার শরীর দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেতে পারে। তুমি তো ভালো করেই জানো ছোটবেলায় ঠিকমতো পুষ্টি না পেলে ভবিষ্যতে সেটা প্রভাব পড়ে থাকে। তাই শিশুদের খাবারের দুধ ডিম মাছ সবজি ফলমূল বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার তাদের সময়ে রাখতে হবে। শিশুরা দেখিতা নিজের ইচ্ছা মতন খেতে পারে যেন সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেকে ভাবে শুধু ভাত আর একটু তরকারি দিলেই চলবে—না, এটা যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন শিশুর বয়স অনুযায়ী খাবার তৈরি করতে হবে, যাতে সে খেতে আগ্রহী হয়। তাই শিশুর খাবার শুধু স্বাদের না, পুষ্টির দিক থেকেও হতে হবে চিন্তাভাবনার। শিশুর স্বাস্থ্যই দেশের ভবিষ্যৎ।
বয়স অনুযায়ী খাবারে বৈচিত্র্য আনা কেন জরুরি
আমাদের শিশুকে যদি সুস্থভাবে দেখতে চাই এবং বড় হয়ে তাহলে আমাদেরকে বয়স অনুযায়ী খাবার বৈচিত্র আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা তোদের শিশুদের জন্য অনেক উপহার। বাচ্চাদের একরকম খাবার খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে পড়ে যা ফলে খাওয়ার আগ্রহ কমে যায় তাই তুমি যদি প্রতিদিন একই খাবার প্রতিদিন খাবার খাওয়া ও তাহলে বাচ্চারা কখনো খাবে না তাই প্রতিদিনের খাবার ভিন্ন হতে হবে। জীবন তুমি মনে করো কখনো ভাতের সাথে ডিম দেবা কখনো খিচুড়ি রান্না করে দিবা কখনো মাংসৎ মানে প্রতিদিন এক ধরনের খাবার দিতে পারবেনা।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের খাবার দিতে হবে সকালে এক খাবার দুপুরের খাবার রাত্রে এক খাবার। তাহলে দেখবে শিশুরা আগ্রহ করে সব খাবার খেয়ে ফেলবে ফেলবে। এছাড়া, প্রতিটি বয়সে দেহের চাহিদা ভিন্ন হয়। যেমন ৬ মাসের শিশুর চাই নরম সেমি-সলিড খাবার, আর ৫ বছরের শিশুর চাই শক্ত ও সম্পূর্ণ খাবার। বৈচিত্র্যময় খাবার শিশুর শরীরে ভিটামিন, প্রোটিন ও মিনারেলের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। তাই তুমি খাবারে বৈচিত্র্য আনতে ভুলে যেও না।
শিশুর পানির চাহিদা পূরণ করাও খাবারের অংশ
তোদের শরীরে খাবারের পাশাপাশি আমিও অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন তোমাকে অনেক পান করতে বেশি বেশি আগ্রহ প্রকাশ করবে এবং তুমিও সুদের সামনে বেশি বেশি পানি খাবে তাহলে দেখবে বাচ্চারা আমার সাথে সাথে পানি খাবে। দেখো তোমরা অনেক সময় শুধু খাবার খাওয়াতে ব্যস্ত থাকি কিন্তু পানির খাবার কোন দিকে নজর দেয় না অথচ তুমি যদি দেখো শিশুদের ঘামছে খেলা বা জ্বর সর্দি ভুগছি তখন তার শরীর থেকে অনেক পরিমাণ পানি বেরিয়ে যায় এর ঘাটতি পূরণের জন্য তুমি তাকে নিয়মিত পানি খাওয়ার চেষ্টা করবে পানি খাওয়াতে আগ্রহ প্রকাশ করা হবে তাকে। এটাও তার খাদ্য তালিকার একটা অংশ। বিশেষ করে গরমকালে পানি ও তরল খাবার যেমন ডাবের পানি, স্যুপ, ফলের রস এগুলো শিশুকে সুস্থ রাখে। তাই মনে রাখো, খাবারের তালিকায় শুধু পুষ্টিকর খাবার নয়, পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবারও রাখা জরুরি। এতে করে শিশুর হজম ভালো থাকে এবং সে সবসময় ফ্রেশ ও সক্রিয় থাকে।
শিশুর খাবারে পরিমাণ ও সময়ের সঠিক নিয়ম মানা জরুরি
আমাদের শিশুদেরকে শুধু ভালো খাবার দিলেই চলবে না। খাবারের পরিমাণ ও সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিতে হবে। শিশুরা যদি একসাথে বিভিন্ন ধরনের অনেক খাবার খেয়ে ফেলে তাহলে তাদের পেটে গ্যাস হতে পারে বা বমি করতে পারে রাখতে হবে আমাদেরকে আবার কখন অনেক সময় ঠিকমতো খাবার খাওয়ানো না হলে বেশি শিশুদের খিদে মরে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন নিষ্ঠুর সময় ধরে ছোট ছোট ভাগ করে খাবার খাওয়াতে হবে যাতে সে সঠিকভাবে খেতে শিখে এবং খাবার প্রতি আগ্রহ রাখে। শিশুদের জন্য দিনে ৫–৬ বার খাবার দেওয়াই ভালো। সকালে নাস্তা, দুপুরে ভাত, বিকেলে হালকা নাস্তা, রাতে আবার সহজপাচ্য খাবার দেওয়া যেতে পারে। নিয়ম মেনে খাওয়ালে শিশুর শরীর গঠন ভালো হবে এবং তার অভ্যাসটাও সুন্দর হবে।
শিশুর খাবারে পানি ও তরল খাবারের গুরুত্ব
শিশুদের শরীরের পানি প্রয়োজন অনেক বেশি হয়ে পড়ে কারণ তারা সারাদিন খেলাধুলা অনেক কাজ করে দৌড়াদৌড়ি করে এসব সময়ের মধ্যে তাদের থেকে অনেক ঘাম ঝরে অনেক পানি কমে যায় কমে যায় শরীর থেকে এবং শরীরের অনেক শক্তি ব্যয় হয়। শিশুদের সুস্থ থাকার জন্য তাহলে তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ও তরণ খাবার দিতে হবে খাবারের পাশাপাশি দিনে অন্তত আজ থেকে ছয় বার পানি খাওয়াতে হবে জরুরী প্রয়োজন। দেখা যায় অনেক কিছু পানি খেতে চায় না তখন তুমি ফলের রস বানিয়ে বা ডাবের পানি বা তরল খাবার দিতে পারো। এগুলোও শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। তরল খাবার শিশুর হজমেও সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে গরমকালে পানি ও তরল খাবার আরও বেশি দরকার। তাই প্রতিদিন শিশুর খাবারের তালিকায় পানি ও তরল খাবার রাখো নিয়ম করে।
শিশুর খাদ্যাভাসে বৈচিত্র্য আনা জরুরি
আমাদের শিশুদের সুস্থতার জন্য তার খাদ্য অভ্যাস বিভিন্ন ধরনের খাবার থাকা খুবই জরুরি প্রয়োজন। শুধু ভাত ডাল খাওয়ানোর যথেষ্ট নয় শাকসবজি ফলমুন ডিম দুধগুলো দিতে হবে। এতে শিশুদের শরীর সব ধরনের কষ্টের দান পৌঁছে যাবে এবং তাদের দেহে মস্তিষ্কে ভালোভাবে বিকাশিত হবে। খাদ্যে বৈচিত্র্য থাকলে শিশুর খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং সে এক রকম খাবার খেয়ে বিরক্ত হয় না। তাই প্রতিদিনই চেষ্টা করো শিশুর খাবারে নতুন নতুন পুষ্টিকর উপকরণ যোগ করার, যাতে সে সুস্থ ও শক্তিশালী হয়ে বড় হয়।

