

আমি যখন বাংলা ব্লগিং শুরু করি, তখন সবচেয়ে সহজ পথ হিসেবে কপি-পেস্টকেই বেছে নিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, অন্য জায়গায় ভালো লেখা আছে—সেটা নিজের ব্লগে দিলেই চলবে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বুঝেছি, এই সিদ্ধান্তটাই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ কপি-পেস্ট কনটেন্ট শুধু SEO নষ্ট করে না, পুরো ওয়েবসাইটের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। নতুন বাংলা ব্লগারদের বেশিরভাগই এই ভুলটা করে, আর শুরুতেই হতাশ হয়ে যায়।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি নিজে এই ভুল করে গুগল ট্রাফিক হারিয়েছি, AdSense রিজেকশন পেয়েছি এবং মাসের পর মাস পরিশ্রম করেও কোনো ফল পাইনি। তখন ধীরে ধীরে বুঝতে শিখেছি—গুগল কনটেন্টের সংখ্যা দেখে না, দেখে কনটেন্টের মান, ইউনিকনেস এবং ব্যবহারকারীর জন্য উপকারিতা। ঠিক এই জায়গাতেই কপি-পেস্ট কনটেন্ট সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এই আর্টিকেলে আমি সহজ ভাষায় দেখাবো—বাংলা ব্লগে কপি-পেস্ট করলে কী সমস্যা হয়, কেন গুগল এটাকে পছন্দ করে না, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে কীভাবে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে এসে ইউনিক, SEO-friendly বাংলা কনটেন্ট লেখা যায়। আপনি যদি নতুন ব্লগার হন বা আগের ভুল ঠিক করতে চান, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য বাস্তব গাইড হিসেবে কাজ করবে।
1. বাংলা ব্লগে কপি-পেস্ট কনটেন্ট কী
2. কপি-পেস্ট কনটেন্ট কেন ক্ষতিকর
3. গুগল কীভাবে কপি কনটেন্ট শনাক্ত করে
4. কপি-পেস্ট করলে SEO র্যাংকিং কেন কমে যায়
5. নতুন বাংলা ব্লগে কপি কনটেন্টের বড় ঝুঁকি
6. AdSense ও Monetization-এ কপি কনটেন্টের প্রভাব
7. কপি-পেস্ট কনটেন্টের কারণে ট্রাফিক কমে যাওয়ার কারণ
8. ইউনিক বাংলা কনটেন্ট লেখার সহজ ও কার্যকর উপায়
9. কপি কনটেন্ট ঠিক করার SEO-friendly সমাধান
10. ভবিষ্যতে কপি-পেস্ট এড়ানোর সেরা কৌশল
আমি যখন নতুন ব্লগিং শুরু করি, তখন প্রথম যে ভুলটা করেছি তা হলো অন্য ওয়েবসাইট থেকে লেখা কপি করে নিজের ব্লগে পেস্ট করা। বাংলা ব্লগে কপি-পেস্ট কনটেন্ট বলতে বোঝায় অন্য কোনো ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব ডিসক্রিপশন বা AI টুল থেকে হুবহু লেখা নিয়ে নিজের ব্লগে প্রকাশ করা। এই ধরনের কনটেন্টে কোনো নতুন ভাবনা, নিজস্ব অভিজ্ঞতা বা আলাদা মূল্য যোগ হয় না। গুগলের চোখে এগুলো “Duplicate Content” হিসেবে ধরা পড়ে, যা একটি ব্লগের SEO-এর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি একসময় ১০–১২টি পোস্ট কপি-পেস্ট করে প্রকাশ করেছিলাম। শুরুতে মনে হয়েছিল ট্রাফিক আসবে, কিন্তু ২–৩ সপ্তাহ পর দেখি গুগল সার্চ থেকে ভিজিট প্রায় শূন্য। Google Search Console-এ “Crawled currently not indexed” ও “Duplicate without user-selected canonical” এর মতো সমস্যা দেখায়। তখন বুঝেছি, কপি-পেস্ট কনটেন্ট দিয়ে ব্লগ টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি “ওজন কমানোর ঘরোয়া উপায়” নিয়ে অন্য একটি জনপ্রিয় বাংলা ব্লগের লেখা হুবহু কপি করলেন। গুগল আগে থেকেই সেই মূল ওয়েবসাইটটিকে চেনে, তাই আপনার কনটেন্টকে কোনো মূল্য দেবে না। বরং আপনার ব্লগের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যাবে। এজন্য আমি এখন সবসময় নিজের ভাষায়, নিজের অভিজ্ঞতা যোগ করে ইউনিক বাংলা কনটেন্ট লিখি এটাই দীর্ঘমেয়াদে সফল ব্লগিংয়ের একমাত্র উপায়।
আমি যখন ব্লগিং নিয়ে একটু সিরিয়াস হই, তখন বুঝতে পারি কপি-পেস্ট কনটেন্ট আসলে সময় বাঁচায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতি করে। কপি-পেস্ট কনটেন্ট ক্ষতিকর কারণ এতে গুগল আপনার ব্লগকে নতুন বা ভ্যালু যোগ করা কোনো উৎস হিসেবে বিবেচনা করে না। আমি নিজে লক্ষ্য করেছি, যেসব পোস্টে কপি করা লেখা ছিল সেগুলো কখনোই গুগলে ঠিকভাবে ইনডেক্স হয়নি, আর যেগুলো নিজের ভাষায় লেখা ছিল সেগুলো আস্তে আস্তে হলেও র্যাংক করতে শুরু করে।
ডিজিটাল মাকেটিং সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একবার আমি একই টপিক নিয়ে দুটি পোস্ট লিখেছিলাম। একটি ছিল অন্য ব্লগ থেকে কপি করা, আর অন্যটি ছিল পুরোপুরি নিজের ভাষায় লেখা। কপি-পেস্ট করা পোস্টটি ১ মাসেও গুগলে আসে নাই, কিন্তু ইউনিক পোস্টটি ১৫–২০ দিনের মধ্যে ইমপ্রেশন পেতে শুরু করে। তখন বুঝেছি, গুগল শুধু লেখা দেখে না সে দেখে আপনি পাঠককে নতুন কী দিচ্ছেন।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন শত শত বাংলা ব্লগে যদি একই “ফেসবুক থেকে ইনকাম করার উপায়” আর্টিকেল থাকে, তাহলে গুগল কেন আপনার ব্লগটাকেই দেখাবে? বরং যেই ব্লগে নিজের অভিজ্ঞতা, স্ক্রিনশট, আপডেট তথ্য থাকবে—সেই ব্লগই এগিয়ে যাবে। কপি-পেস্ট কনটেন্ট শুধু র্যাংকিং কমায় না, AdSense রিজেক্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই আমি এখন সবসময় কপি নয়, ক্রিয়েট করার দিকেই ফোকাস করি এটাই নিরাপদ ও লাভজনক পথ।
আমি আগে ভাবতাম, একটু ঘুরিয়ে লিখলে বা দুই একটা লাইন বদলালেই গুগল বুঝবে না। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি, গুগল কপি কনটেন্ট শনাক্ত করতে অত্যন্ত স্মার্ট অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। গুগল শুধু শব্দ মিলায় না, বরং বাক্যের গঠন, লেখার প্যাটার্ন, তথ্যের ক্রম এবং অর্থ (semantic meaning) পর্যন্ত বিশ্লেষণ করে। তাই হুবহু কপি হোক বা সামান্য পরিবর্তন দুটোকেই গুগল সহজেই ধরতে পারে।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি একবার ইংরেজি একটি আর্টিকেল গুগল ট্রান্সলেট করে বাংলায় প্রকাশ করেছিলাম। মনে হয়েছিল এটা ইউনিক হবে, কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই পোস্টটি ইনডেক্স হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে Search Console-এ দেখি “Duplicate content” সংক্রান্ত ইস্যু। তখন বুঝেছি, শুধু ভাষা বদলালেই কনটেন্ট ইউনিক হয় না।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন একই টপিক নিয়ে ১০টি বাংলা ব্লগে প্রায় একই তথ্য, একই সাবহেডিং আর একই উদাহরণ ব্যবহার করা হয়েছে। গুগল তখন সবগুলো তুলনা করে যেটি সবচেয়ে আগে প্রকাশিত ও সবচেয়ে ভ্যালুয়েবল সেটাকেই প্রাধান্য দেয়। বাকি গুলোকে সে কপি বা লো-ভ্যালু কনটেন্ট হিসেবে ধরে নেয়। এজন্য আমি এখন সবসময় নিজের অভিজ্ঞতা, নিজের ভাষা এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করি। কারণ গুগলের চোখে সত্যিকারের ইউনিক কনটেন্ট মানে শুধু নতুন শব্দ নয়, নতুন ভ্যালু।
আমি যখন বুঝতে শুরু করি SEO কীভাবে কাজ করে, তখন সবচেয়ে পরিষ্কার যে বিষয়টি সামনে আসে তা হলো কপি-পেস্ট কনটেন্টের কোনো SEO ভ্যালু নেই। গুগলের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীকে সেরা ও সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য দেখানো। কপি করা কনটেন্টে যেহেতু নতুন কিছু থাকে না, তাই গুগল এমন পেজকে র্যাংক দেওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পায় না। আমি নিজেই দেখেছি, কপি-পেস্ট করা পোস্টগুলো ধীরে ধীরে সার্চ রেজাল্ট থেকে হারিয়ে যায়।
আমাদের পেজে বিভিন্ন তথ্য পেতে ক্লিক করুন
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একবার আমার একটি বাংলা পোস্ট প্রথমে কিছু ইমপ্রেশন পাচ্ছিল। পরে জানতে পারি, একই লেখা অন্য একটি সাইটেও আছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমার পেজের র্যাংক পুরোপুরি নেমে যায়। তখন বুঝেছি, ডুপ্লিকেট কনটেন্ট থাকলে গুগল একটিকে বেছে নেয়, আর বাকিগুলোকে পিছনে ফেলে দেয়।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন “অনলাইনে ইনকাম করার উপায়” নিয়ে যদি ৫০টি ব্লগে একই লেখা থাকে, তাহলে গুগল সেগুলোর মধ্যে শুধু এক–দুটোকে র্যাংক করবে। আপনার কনটেন্ট যতই সুন্দর হোক, যদি তা কপি হয়, তাহলে র্যাংক পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। এজন্য আমি এখন সবসময় ইউনিক, ইনফরমেটিভ ও ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক কনটেন্ট লিখি। কারণ ভালো SEO মানে শুধু কীওয়ার্ড নয়, ইউনিকনেস + ভ্যালু এই দুটোই একসাথে।
আমি যখন একেবারে নতুন বাংলা ব্লগ শুরু করি, তখন সবচেয়ে বড় যে সত্যটা বুঝেছি তা হলো নতুন ব্লগের জন্য কপি কনটেন্ট সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ নতুন ওয়েবসাইটের কোনো অথরিটি, ট্রাস্ট বা হিস্ট্রি থাকে না। গুগল তখন প্রতিটি কনটেন্ট খুব কড়া ভাবে যাচাই করে। আমি নিজে লক্ষ্য করেছি, নতুন ব্লগে যদি শুরু থেকেই কপি-পেস্ট কনটেন্ট থাকে, তাহলে গুগল সেই সাইটকে বিশ্বাসই করতে চায় না।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমার একটি নতুন বাংলা সাইট ছিল যেখানে প্রথম ৫টি পোস্ট কপি করা ছিল। ২ মাস পার হয়ে গেলেও একটিও পোস্ট গুগলে ঠিকভাবে ইনডেক্স হয়নি। পরে যখন সেগুলো ডিলিট করে নিজের ভাষায় ইউনিক কনটেন্ট প্রকাশ করি, তখন ধীরে ধীরে ইমপ্রেশন আসা শুরু করে। তখন বুঝেছি, নতুন ব্লগে প্রথম কনটেন্টগুলোই গুগলের কাছে আপনার পরিচয়পত্র।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি আজ নতুন একটি বাংলা ব্লগ খুলে জনপ্রিয় কোনো সাইট থেকে লেখা কপি করে পোস্ট করলেন। গুগল যখন দেখবে একই লেখা আগে থেকেই অন্য একটি অথরিটি সাইটে আছে, তখন আপনার সাইটকে সে “লো-কোয়ালিটি” হিসেবে ট্যাগ করতে পারে। একবার এমন হলে ভবিষ্যতে ইউনিক কনটেন্ট দিলেও র্যাংক পেতে অনেক সময় লাগে। তাই আমি এখন সবসময় নতুন ব্লগে কপি নয়, শুরু থেকেই ইউনিক ও ভ্যালুয়েবল কনটেন্ট দেওয়ার ওপর জোর দিই এটাই নিরাপদ ও স্মার্ট সিদ্ধান্ত।
আমি যখন ব্লগ থেকে ইনকামের কথা ভাবতে শুরু করি, তখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় কপি-পেস্ট কনটেন্ট। কারণ AdSense সহ প্রায় সব ধরনের Monetization প্ল্যাটফর্মই ইউনিক ও অরিজিনাল কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দেয়। আমি নিজে একাধিকবার AdSense আবেদন করে রিজেক্ট খেয়েছি, আর প্রতিবারই কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে “Low value content” বা “Duplicate content”। তখন বুঝেছি, কপি কনটেন্ট দিয়ে ইনকাম করা প্রায় অসম্ভব।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একবার আমার একটি বাংলা ব্লগে ট্রাফিক মোটামুটি ভালো ছিল, কিন্তু বেশিরভাগ পোস্টই অন্য জায়গা থেকে কপি করা। AdSense রিভিউ টিম সাইটটি চেক করে দেখে কোনো নিজস্ব ভ্যালু নেই, তাই আবেদন বাতিল করে দেয়। পরে আমি আস্তে আস্তে সব কপি পোস্ট রিরাইট করে নিজের অভিজ্ঞতা যোগ করি। দ্বিতীয়বার আবেদন করার পর AdSense অ্যাপ্রুভ হয়। এই অভিজ্ঞতা আমাকে পরিষ্কারভাবে শিখিয়েছে—Monetization-এর মূল চাবিকাঠি হলো ইউনিক কনটেন্ট।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন দুটি বাংলা ব্লগ আছে। একটি ব্লগে শুধু কপি-পেস্ট আর্টিকেল, অন্যটিতে নিজের লেখা, বাস্তব অভিজ্ঞতা, স্ক্রিনশট ও আপডেট তথ্য। AdSense বা Affiliate নেটওয়ার্ক স্বাভাবিকভাবেই দ্বিতীয় ব্লগটিকেই বেছে নেবে। কারণ তারা এমন সাইট চায় যেটা ব্যবহারকারীর জন্য ভ্যালু তৈরি করে। তাই আমি এখন জানি, যদি সত্যি ব্লগ থেকে আয় করতে চান, তাহলে কপি নয় নিজের লেখা, নিজের অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ।
আমি একসময় বুঝতেই পারিনি কেন হঠাৎ করে আমার বাংলা ব্লগের ট্রাফিক কমে যাচ্ছে। পরে বিশ্লেষণ করে দেখি, মূল কারণ ছিল কপি-পেস্ট কনটেন্ট। গুগল যখন বুঝতে পারে যে আপনার কনটেন্ট অন্য জায়গা থেকে নেওয়া, তখন সে ধীরে ধীরে সেই পেজগুলোর ভিজিবিলিটি কমিয়ে দেয়। আমি লক্ষ্য করেছি, প্রথমে ইমপ্রেশন কমে, তারপর ক্লিক কমে, আর একসময় পুরো পোস্টই সার্চ রেজাল্ট থেকে হারিয়ে যায়।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমার একটি পোস্ট প্রথমে দিনে ৫০–৬০ ভিজিট পেত। পরে জানতে পারি একই লেখা আরও কয়েকটি সাইটে আছে। এক মাসের মধ্যেই সেই পোস্টের ট্রাফিক নেমে আসে প্রায় শূন্যে। তখন বুঝেছি, গুগল কপি কনটেন্টকে শাস্তি না দিলেও ধীরে ধীরে উপেক্ষা করে দেয় যেটা আরও বেশি ক্ষতিকর।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন একজন ইউজার গুগলে কোনো প্রশ্ন সার্চ করল। গুগল যদি দেখে একই উত্তর ১০টি সাইটে আছে, তাহলে সে কেবল একটি বা দুইটি দেখাবে। বাকি সাইটগুলো কোনো ট্রাফিকই পাবে না। আপনার সাইটে যদি ইউনিক ভ্যালু, নিজের অভিজ্ঞতা বা আলাদা তথ্য না থাকে, তাহলে ইউজারও সেখানে থাকতে চাইবে না। তাই আমি এখন সবসময় এমন কনটেন্ট লিখি যা শুধু গুগলের জন্য নয়, মানুষের জন্য উপকারী। কারণ মানুষ খুশি হলে ট্রাফিক নিজে থেকেই আসে।
আমি যখন কপি-পেস্টের ক্ষতি বুঝতে পারি, তখন নিজেকে প্রশ্ন করি কপি না করলে ইউনিক বাংলা কনটেন্ট লিখব কীভাবে? সময়ের সাথে সাথে অভিজ্ঞতা থেকে আমি কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর উপায় শিখেছি। ইউনিক কনটেন্ট লেখার জন্য সবচেয়ে আগে আমি টপিকটা ভালোভাবে বুঝি, তারপর নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করি। আমি কখনোই অন্য সাইট খুলে রেখে লিখি না, বরং আগে পড়ি, নোট নেই, তারপর নিজে লিখি। এতে লেখার ভেতরে স্বাভাবিক ইউনিকনেস চলে আসে।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি এখন প্রতিটি বাংলা আর্টিকেলে নিজের দেখা সমস্যা, নিজের শেখা বিষয় এবং নিজের মতামত যোগ করি। এতে কনটেন্ট শুধু ইউনিকই হয় না, পাঠকের কাছেও বিশ্বাসযোগ্য হয়। একবার আমি একটি পোস্টে নিজের করা ভুল ও তার সমাধান লিখেছিলাম সেই পোস্টটি অন্য সব পোস্টের তুলনায় বেশি সময় ধরে র্যাংক করেছে। তখন বুঝেছি, অভিজ্ঞতা মানেই ইউনিকনেস।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন “ইউটিউব থেকে ইনকাম” টপিক। সবাই যদি একই তথ্য লেখে, তাহলে আলাদা হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু আপনি যদি লেখেন আপনি কীভাবে শুরু করেছেন, প্রথম ভিডিওতে কী সমস্যা হয়েছিল, কীভাবে সমাধান করেছেন তাহলে সেই কনটেন্ট কেউ কপি করতে পারবে না। তাই আমি এখন জানি, ইউনিক বাংলা কনটেন্ট লেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজের অভিজ্ঞতা + নিজের ভাষা + পাঠকের সমস্যা সমাধান এই তিনটা একসাথে রাখা।
আমি যখন বুঝতে পারি আমার ব্লগে কপি-পেস্ট কনটেন্ট আছে, তখন ভয় না পেয়ে ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান করি। সবচেয়ে আগে আমি সব কপি পোস্ট চিহ্নিত করি যেগুলো নিজের লেখা নয় বা অন্য সাইটের সঙ্গে মিল আছে। এরপর সিদ্ধান্ত নিই কোন পোস্ট রিরাইট করব আর কোন পোস্ট ডিলিট করাই ভালো। কারণ সব কনটেন্ট ঠিক করা সম্ভব হয় না, কিন্তু ভুল জায়গায় রেখে দিলে পুরো সাইটের SEO ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি একবার প্রায় ২০টি পুরোনো পোস্ট নতুন করে নিজের ভাষায় লিখেছিলাম। একই টপিক রেখেছি, কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা, আপডেট তথ্য ও নতুন উদাহরণ যোগ করেছি। রিরাইট করার ২–৩ সপ্তাহ পর গুগল আবার সেগুলো ক্রল করে এবং ধীরে ধীরে ইমপ্রেশন ফিরতে শুরু করে। তখন বুঝেছি, সঠিকভাবে রিরাইট করলে কপি কনটেন্টও উদ্ধার করা সম্ভব।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনার একটি পোস্ট “ফ্রিল্যান্সিং কী” পুরোপুরি কপি করা। আপনি চাইলে সেটি ডিলিট না করে নিজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নতুন করে লিখতে পারেন কীভাবে শুরু করবেন, নতুনরা কী ভুল করে, বাস্তব টিপস ইত্যাদি যোগ করে। পাশাপাশি Internal Linking, সঠিক Heading (H2–H3), ও ভালো Meta Description ব্যবহার করলে SEO আরও শক্ত হয়। তাই আমি এখন জানি, কপি কনটেন্ট মানেই শেষ নয়—ঠিকভাবে ঠিক করলে সেটাও SEO-friendly ইউনিক কনটেন্টে রূপান্তর করা যায়।
আমি এখন ব্লগিং করার সময় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা গুরুত্ব দিই, তা হলো ভবিষ্যতে যেন আর কখনো কপি-পেস্ট কনটেন্টে না যাই। কারণ একবার খারাপ অভ্যাস তৈরি হলে পুরো ওয়েবসাইটের ক্ষতি হয়ে যায়। তাই আমি শুরুতেই নিজের জন্য কিছু নিয়ম ঠিক করে নিয়েছি যেমন, কোনো লেখা প্রকাশের আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করি: এটা কি সত্যিই আমার ভাষা ও অভিজ্ঞতা থেকে লেখা? যদি উত্তর না হয়, তাহলে সেই লেখা আমি প্রকাশই করি না।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি এখন টপিক রিসার্চ করার সময় একাধিক সোর্স দেখি, কিন্তু লেখার সময় কোনো সোর্স খোলা রাখি না। আগে নোট বানাই, তারপর নিজের মতো করে লিখি। এতে কনটেন্ট স্বাভাবিকভাবেই ইউনিক হয়। এছাড়া আমি নিয়মিত পুরোনো পোস্ট আপডেট করি, যাতে তথ্য নতুন থাকে এবং গুগলের কাছে ব্লগটি অ্যাকটিভ মনে হয়।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি প্রতিদিন ৫০০ শব্দ কপি করার বদলে ৩০০ শব্দ নিজের ভাষায় লেখেন। প্রথমে ধীরে মনে হলেও কয়েক মাস পর দেখবেন আপনার লেখার গতি ও মান দুটোই বেড়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, গুগল ও পাঠক দুজনের কাছেই আপনার ব্লগের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। তাই আমি এখন জানি, ভবিষ্যতে কপি-পেস্ট এড়ানোর সেরা কৌশল হলো ধৈর্য, নিজের অভিজ্ঞতা এবং পাঠকের সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া এটাই দীর্ঘমেয়াদে সফল ব্লগিংয়ের চাবিকাঠি।