দশ বছর প্রবাসে কাটানোর পর দেশে ফিরে মনে হলো, আমি শুধু জায়গা বদলাইনি আমি নিজেই বদলে গেছি। এই ফিরে আসা ছিল শুধু ভৌগোলিক নয়, ছিল মানসিক ও অনুভূতিরও। পরিচিত রাস্তাগুলো, মানুষগুলো, চারপাশের পরিবেশ—সবই যেন নতুন চোখে ধরা দিল। কোথাও আনন্দ, কোথাও কষ্ট, আবার কোথাও গভীর উপলব্ধি। সেই অভিজ্ঞতা, তুলনা আর অনুভূতির কথাগুলোই এই লেখায় ধরা থাকবে—যা না বলা গেলে মন হালকা হয় না।
১. ফিরে আসার মুহূর্ত: মনের ভেতরের ঝড়
২. বদলে যাওয়া দেশ, বদলে যাওয়া আমি
৫. পরিবার ও সম্পর্কের নতুন সমীকরণ
৬. যানজট, শব্দ ও দূষণের সঙ্গে যুদ্ধ
৭. বিদেশের শৃঙ্খলা বনাম দেশের বিশৃঙ্খলা
৮. কর্মসংস্থান ও পেশাগত পরিবেশ
৯. প্রযুক্তির অগ্রগতি: ভালো-মন্দ দুই-ই
১০. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র
১১. তরুণ প্রজন্ম: সম্ভাবনা ও সংকট
১২. সামাজিক মূল্যবোধ: আগের মতো আছে কি?
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে যখন দেশে ফিরি, তখনই বুঝি এই দেশটা শুধু জায়গা না, এটা তোমার শ্বাস-প্রশ্বাসের অংশ শুধু মাত্র। আগে যেটা সাধারণ মনে হতো, এখন সেটাতেই তুমি আলাদা একটা টান খুঁজে পাচ্ছো। তবে সবাই যে আগের মতো আছে, তা না; মানুষ, মানসিকতা, চারপাশ সবই বদলে গেছে কোন কিছু ঠিক নাই। তবু এই মাটির গন্ধ, পরিচিত মুখ আর নিজের ভাষার মাধুর্য তোমার ভিতরটা কাঁপিয়ে দিচ্ছে।
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে দেশে পা দিতেই তোমার যেন নতুন এক বাস্তবতায় ঢুকে পড়লো। চারপাশ এত চেনা, তবু তোমার কাছে সবই একটু অচেনা লাগছে। রাস্তা ঘাটে মানুষের ভিড়, পরিচিত শব্দ, পরিচিত গন্ধ সব মিলে কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি আসে তোমার। তুমি ভাবছো, এটাই তো তোমার দেশ, তবু এতদিন দূরে থাকার পর এখন নিজেকেই একটু ভিন্ন মনে হয়, অনদিন পর দেশে ফিরা।
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে যখন তুমি নিজের পাড়ায় হাঁটছিলে, তখন মনে হচ্ছিল সময়টা যেন হঠাৎ থেমে গেছে, আবার অনেক দূর এগিয়েও গেছে। পাশের দোকানদার এখনও চেনে, কিন্তু মুখের হাসিটা পাল্টে গেছে। তুমি দেখলে, নতুন ভবন উঠেছে, পুরোনো গাছগুলো নেই। তবু ভেতরে কোথাও একটা শান্তি আর অদ্ভুত শূন্যতা একসাথে বাসা বাঁধে তোমার মনে।
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে যখন তুমি বাসার ছাদে উঠে চারপাশে তাকাবে, তখন বুকের ভেতর কেমন একটা নরম কষ্ট আর শান্তি একসাথে কাজ করে, নিজের দেশের মাটি কখনো ভুলা যায় না। ছোটবেলার সেই আকাশ, সেই বাতাস সব এখনো আছে, কিন্তু তুমি আগের তুমি নাই অনেক পরবর্তন হয়ে গেছ। মানুষ জন আগের মতোই কথা বলে, হাসে, তবু তাদের ভেতরেও একটা অচেনা বদল টের পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে মনে হয়, তুমি যেন নিজের চেনা জগতেই নতুন অতিথি।
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে তুমি যখন চায়ের কাপে প্রথম চুমুক দিলে, তখন হঠাৎ যেন অনেক স্মৃতি একসাথে ফিরে এলো, পুরোনো কথা গুলো। এই স্বাদ বিদেশে কখনোই পাওনি তুমি। রাস্তার পাশের দোকানের ডাক, পাড়ার ছেলেদের আওয়াজ, দূরের মসজিদের আজান সব কিছু মিলে হৃদয়টা ভারী হয়ে গেল। তুমি বুঝলে, পৃথিবী ঘুরে অনেক কিছু পাওয়া যায়, কিন্তু নিজের মাটির টান কখনো মুছে যায় না, আজীবন থাকে।

১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে তুমি যখন পুরোনো রাস্তায় পা রাখলে, তখন বুকের ভেতর কেমন একটা চাপা আনন্দ কাজ করছিল, কারণ আমার সোনা বাংলাদেশ আমি তোমাই ভালোবাসি। সবই চেনা, আবার অনেক কিছুই নতুন লাগে তোমার কাছে, সময়ে সাথে সাথে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়। ছোটবেলার মাঠটা ছোট হয়ে গেছে, মানুষ গুলোও যেন একটু বদলে গেছে। তবু পাশে দাঁড়ানো পরিচিত একজন হাসল যখন, তখনই বুঝলে তুমি যত দূরেই যাও, এই জায়গাটা তোমার নিজেরই রয়ে গেছে, দূরে যাইনি।
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে তুমি যখন সন্ধ্যায় বাজারে হাঁটছিলে, তখন চারপাশের কোলাহল তোমার কানে যেন নতুন গান হয়ে বাজছিল, নিজের দেশের মধুর সূরে কন্ঠে আওজ কখনো ভুলতে পারবে না। বিদেশের নীরব, গোছানো জীবন থেকে বের হয়ে এই বিশৃঙ্খল ভিড়ে এসে তোমার মনটা কেমন অদ্ভুতভাবে হালকা লাগছিল। মানুষ জন তোমাকে ঘিরে কথা বলল, কেউ হাসল, কেউ অবাক হলো। তখনই তুমি বুঝলে এই ভিড়, এই শব্দ, এই জীবনটাই সত্যিকারের তোমার ভালোবাসা ছিল।
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে তুমি যখন রাতে পুরোনো বারান্দায় বসে আকাশ দেখছিলে, তখন মনে হচ্ছিল নক্ষত্র গুলোও যেন তোমাকে চিনে ফেলেছে, তোমার পরিবেশ কখনো ভুলবে না তোমাকে ডাকবে। দূরের শহরের আলো, গাড়ির শব্দ, মানুষের হাঁকডাক সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিচিত অনুভূতি ভেতরে জেগে উঠল। তুমি বুঝতে পারলে, এত বছর পরও এই জায়গাটা তোমাকে আপন করে নেয়, কোনো প্রশ্ন ছাড়াই, নিঃশর্তভাবে, পরিবেশ দেখে তোমার চোখে পানি ও আসে।
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে তুমি যখন বৃষ্টিতে ভেজা রাস্তায় দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকায়ে থাকা, তখন বুকের ভেতর কেমন একটা অজানা তৃষ্ণা মেটে যেতে থাকে, সুন্দর একটা মূহুর্তে। মাটির গন্ধ, কাদা-পানির শব্দ, পাশে হেঁটে যাওয়া মানুষের হাসি সব মিলিয়ে মনে হয় তুমি যেন হারিয়ে গিয়ে আবার নিজেকেই ফিরে পেয়েছ। তুমি বুঝে ফেলো, এই অনুভূতি টাকা বা আরাম দিয়ে কখনো কেনা যায় না, এটা অসম্ভব কথা পরিবার ছেড়ে নতুন একটা জায়গা কেউ ভালো থাকে না।
আমাদের আরো তথ্য পেতে ক্লিক করুন
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে তুমি যখন পুরোনো স্কুলের সামনে দাঁড়াও, তখন চারপাশের স্মৃতিগুলো একে একে জীবিত হয়ে ওঠে, তোমার পুরোনো কথা গুলো তোমার কানে লাগে। সেই গেট, সেই মাঠ, বন্ধুবান্ধবের হাসির শব্দ সব যেন বাতাসে ভাসে, সে ভালোবাসা তো ভুলা যাই না। তুমি অনুভব করো, সময় অনেক দূর এগিয়ে গেছে, কিন্তু তোমার ভিতরের শিশুটাকে এ জায়গা এখনও আগের মতোই ছুঁতে পারে। তখনই বোঝো, কিছু সম্পর্ক কখনো হারায় না, সারাজীবন পাশে থাকে যায়।
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে তুমি যখন নিজ ঘরের দরজাটা খুলে ঢুকলে, বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত কাঁপুনি উঠল। দেয়ালের রং ফিকে হয়েছে, আসবাবপত্র পুরোনো, তবু জায়গাটা তোমার কাছে সবচেয়ে আপন প্রিয় মধুর লাগে। জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া বাতাস তোমাকে আলতো করে ছুঁয়ে যায়। তুমি ভাবো, এই ছোট্ট ঘরটাই কত স্বপ্ন, কত অপেক্ষা বুকে ধরে এতদিন পড়ে ছিল।
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে তুমি যখন রাতের রাস্তায় একা হাঁটো, তখন চারপাশের নিস্তব্ধতার মাঝেও পরিচিত একটা স্পন্দন টের পাও, আসলে বলে বুঝতে পারা যায় না। দোকান গুলো বন্ধ, আলো কমে গেছে, কিন্তু বাতাসে ভেসে বেড়ায় চেনা স্মৃতির গন্ধ। তুমি বুঝে যাও, এই অন্ধকারও তোমার, এই নীরবতাও তোমার। বিদেশে যেটা ছিল বিলাস, এখানে সেটা হয়ে ওঠে বাস্তবতার অংশ, সে জায়গায় ছেড়ে সোনা মাটি আবার চলে এসেছো।
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে তুমি যখন পুরোনো বন্ধুদের কারও সাথে হঠাৎ দেখা করো, তখন কিছুক্ষণের জন্য সময় যেন পেছনে ফিরে যায়, পুরোনা কথা গুলো তোমার সামনে চলে আসে। হাসি, হাত মেলানো, পুরোনো গল্প সবই নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। যদি ও জীবনের দৌড়ে সবাই আলাদা পথে হাঁটছে, তবু সেই মুহূর্তে মনে হয় কিছু বন্ধন কখনোই ছেঁড়ে না। তুমি বুঝতে পারো, এই সম্পর্ক গুলোই তোমার আসল সম্পদ, যা কখনো তোমাকে ভুলবে না সম্পর্ক থেকে যাবে সারাজীবন।
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে তুমি যখন সকালে ঘুম ভেঙে জানালার বাইরে তাকাও, তখন পাখির ডাক আর রোদের আলো তোমাকে এক নতুন শুরু উপহার দেয়, মধুর কন্ঠে পাখি ডাক। বিদেশে যেখানে দিন শুরু হতো তাড়াহুড়ায়, এখানে তা ধীরে, নিজের ছন্দে, নিজের মতে। তুমি অনুভব করো, সময়টা এখানে একটু বেশি আপন, একটু বেশি মানবিক, সময় সাথে দিন। আর সেই অনুভূতিটুকুই তোমাকে ভেতর থেকে শক্ত করে তোলে তুমি বুঝতে পারো না।
১০ বছর বিদেশ কাটানো শেষে তুমি যখন সন্ধ্যায় আকাশের দিকে চেয়ে থাকো, তখন মনে হয় এতদিনের যাত্রাটা যেন শেষের পথে এসে দাঁড়িয়েছে, দেশে আহাওয়া । জীবন অনেক কিছু দেখিয়েছে, অনেক কিছু শিখিয়েছে, তবু এই মাটির নিচেই তোমার শিকড় সবচেয়ে গভীর, তোমার জন্মভূমি। তুমি বুঝে যাও, পৃথিবীর যেখানেই যাও না কেন, শেষ ঠিকানাটা সব সময়ই এই দেশ, এই আকাশ, এই মানুষগুলো, তোমার দেশে তোমাকে যেতে হবে।