বর্তমান ডিজিটাল যুগে একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ঘরে বসেই একটি সফল অনলাইন ব্যবসা গড়ে তোলা আর স্বপ্ন নয়, বরং একটি বাস্তব ও অর্জনযোগ্য সুযোগ। ইন্টারনেট, স্মার্টফোন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন আমি চাইলে আমার দক্ষতা, জ্ঞান বা সৃজনশীলতাকে ব্যবহার করে বৈশ্বিক মার্কেটে পৌঁছাতে পারি ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই বসে। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি একটি বড় পরিবর্তন, কারণ এতে আমি পরিবার ও কাজের মধ্যে ব্যালান্স বজায় রেখেই নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারি।
আগে ব্যবসা শুরু করতে বড় পুঁজি, অফিস, স্টাফ ও লজিস্টিক দরকার হতো। এখন শুধু একটি ল্যাপটপ, ইন্টারনেট কানেকশন এবং শেখার মানসিকতাই যথেষ্ট। Freelancing, Online Coaching, E-Commerce, Content Creation কিংবা Digital Product — এসব মডেল আমাকে লো-রিস্কে শুরু করার সুযোগ দেয় এবং ধীরে ধীরে স্কেল করার স্বাধীনতা দেয়।
এই গাইডে আমি নারীদের জন্য এমন ১০টি High-Value Home Based Online Business Idea তুলে ধরেছি যেগুলো বাস্তবসম্মত, প্রফিটেবল এবং বর্তমান মার্কেটে ডিমান্ড রয়েছে। প্রতিটি আইডিয়াই এমনভাবে বাছাই করা হয়েছে যাতে একজন নতুন উদ্যোক্তাও স্টেপ-বাই-স্টেপ এগোতে পারে এবং নিজের জন্য একটি স্বাধীন, স্থায়ী ও সম্মানজনক ইনকাম সোর্স তৈরি করতে পারে।
এই লেখার উদ্দেশ্য শুধু আইডিয়া দেওয়া নয় — বরং আপনাকে অনুপ্রাণিত করা যেন আপনি নিজের সক্ষমতাকে বিশ্বাস করেন এবং আজই আপনার ডিজিটাল উদ্যোক্তা যাত্রা শুরু করেন।
সূচিপত্র
১. Freelancing Services Business
২. Online Coaching & Consulting
৩. E-Commerce / Dropshipping Store
৪. Social Media Management Agency
৫. Online Course & Digital Product Selling
৬. Virtual Assistant Business
৭. YouTube / Content Creation Business
৮. Affiliate Marketing Business
৯. Print on Demand / Custom Product Business
১০. Online Agency / Service Based Startup
Freelancing Services Business: ঘরে বসে অনলাইন ইনকামের স্মার্ট উপায়
আমি যখন Freelancing Services Business শুরু করি, তখন আমার মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি অনলাইন বিজনেস গড়া যেটা আমি ঘরে বসেই পরিচালনা করতে পারি এবং যেখানে স্কিলের মাধ্যমে আয় সম্ভব। এই বিজনেস মডেলে আমি আমার দক্ষতা যেমন Content Writing, Graphic Design, Digital Marketing বা Web Development ক্লায়েন্টদের কাছে সার্ভিস হিসেবে অফার করি। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে আমার কোনো বড় ইনভেস্টমেন্ট দরকার হয়নি, শুধু ল্যাপটপ, ইন্টারনেট এবং শেখার মানসিকতা ছিল যথেষ্ট।
আমি Fiverr, Upwork, Freelancer এবং LinkedIn-এর মতো প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল তৈরি করে আমার সার্ভিস প্রেজেন্ট করি। ধীরে ধীরে আমি আমার নিস বেছে নিই এবং সেই নিস অনুযায়ী পোর্টফোলিও বানাই। এর ফলে আমার কাজের মান স্পষ্ট হয় এবং ক্লায়েন্টদের বিশ্বাস তৈরি হয়। Freelancing Services Business আমাকে শুধু ফিনান্সিয়াল ফ্রিডম দেয়নি, বরং নিজের সময় নিজে ম্যানেজ করার সুযোগ দিয়েছে, যা একজন নারী উদ্যোক্তার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
online ব্যবসা আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
এই বিজনেসে স্কেল করার সুযোগও আছে আমি চাইলে ভবিষ্যতে একটি ছোট অনলাইন এজেন্সিতে রূপ দিতে পারি যেখানে অন্য ফ্রিল্যান্সাররাও কাজ করবে। তাই আমি মনে করি, Freelancing Services Business নারীদের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত, লো-রিস্ক এবং হাই-ভ্যালু অনলাইন বিজনেস আইডিয়াগুলোর একটি।
আমি প্রথম মাসে কোনো ইনকাম না পেলেও হাল ছাড়িনি। নিয়মিত স্কিল আপগ্রেড করেছি, প্রোফাইল অপ্টিমাইজ করেছি এবং ক্লায়েন্টের সাথে কমিউনিকেশন ইমপ্রুভ করেছি। তিন মাস পর প্রথম পেইড প্রজেক্ট পাই, যা আমাকে আত্মবিশ্বাস দেয়।
যেমন, রিনা নামের একজন হোমমেকার Content Writing শিখে Upwork-এ কাজ শুরু করেন এবং এক বছরের মধ্যে মাসে ৭০,০০০ টাকার বেশি আয় করতে সক্ষম হন ঘরে বসেই।
Online Coaching & Consulting: জ্ঞানকে আয়ে রূপান্তরের স্মার্ট উপায়
আমি যখন Online Coaching & Consulting শুরু করি, তখন আমি বুঝতে পারি যে আমার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানই আমার সবচেয়ে বড় অ্যাসেট। আমি আমার স্কিল, যেমন Career Guidance, Parenting Coaching, Fitness Consulting বা Business Mentoring এগুলো অনলাইনে মানুষের কাছে সমাধান হিসেবে তুলে ধরি। এর জন্য আমার অফিস বা বড় টিমের দরকার হয়নি; Zoom, Google Meet, Calendly আর একটি সিম্পল ওয়েবসাইটই যথেষ্ট ছিল।
আমাদের পেজের বিভিন্ন তথ্য পেতে ক্লিক করুন
আমি প্রথমে আমার নিস স্পষ্ট করি — আমি কাদের জন্য কাজ করতে চাই এবং কী সমস্যার সমাধান দিতে পারি। এরপর আমি আমার পার্সোনাল ব্র্যান্ড তৈরি করি সোশ্যাল মিডিয়া ও কনটেন্টের মাধ্যমে। নিয়মিত ভ্যালু দেওয়া পোস্ট, লাইভ সেশন আর ফ্রি টিপসের মাধ্যমে অডিয়েন্স তৈরি করি। যখন মানুষ আমাকে বিশ্বাস করতে শুরু করে, তখন পেইড সেশন অফার করি।
এই Online Coaching & Consulting আমাকে শুধু আয় দেয় না, বরং মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে — যেটা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি স্যাটিসফাইং। আমি চাইলে ১-টু-১ কোচিং করতে পারি বা গ্রুপ প্রোগ্রাম, কোর্স কিংবা মেম্বারশিপে রূপ দিতে পারি। তাই আমি মনে করি, Online Coaching & Consulting নারীদের জন্য একটি লং-টার্ম, ইমপ্যাক্টফুল এবং হাই-প্রফিটেবল হোম বেইজড বিজনেস মডেল।
আমি প্রথমে ফ্রি লাইভ সেশন চালু করি যেখানে মানুষ প্রশ্ন করতে পারত। এখান থেকেই আমি বুঝতে পারি কোন সমস্যাগুলো সবচেয়ে বেশি এবং সেগুলোর উপর পেইড প্রোগ্রাম ডিজাইন করি।
যেমন, নাসরিন নামের একজন ফিটনেস ট্রেইনার অনলাইন কোচিং শুরু করে ৬ মাসের মধ্যে ৩০০+ ক্লায়েন্ট তৈরি করেন এবং নিজের একটি সাবস্ক্রিপশন মডেল চালু করেন।
E-Commerce / Dropshipping Business: ঘরে বসে অনলাইন শপের স্মার্ট সমাধান
আমি যখন E-Commerce / Dropshipping Business শুরু করি, তখন আমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল এখানে আমাকে স্টক কিনে রাখতে হয় না এবং ঝুঁকিও তুলনামূলক কম। আমি একটি নির্দিষ্ট নিস বেছে নিই, যেমন বিউটি প্রোডাক্ট, কিচেন গ্যাজেট বা বেবি প্রোডাক্ট। এরপর আমি Shopify ও Facebook Shop ব্যবহার করে আমার অনলাইন স্টোর তৈরি করি। কাস্টমার যখন অর্ডার দেয়, তখন আমি সরাসরি সাপ্লায়ারের কাছ থেকে প্রোডাক্ট শিপ করাই এতে আমার সময় ও ইনভেস্টমেন্ট দুটোই বাঁচে।
আমি প্রোডাক্ট রিসার্চ করি ট্রেন্ডিং আইটেম, কাস্টমারের সমস্যা ও সার্চ ডিমান্ড দেখে। এরপর প্রোডাক্টের ছবি, ডিসক্রিপশন ও রিভিউ দিয়ে স্টোর অপ্টিমাইজ করি যেন কাস্টমার বিশ্বাস পায়। Facebook Ads ও Influencer Marketing দিয়ে আমি আমার প্রথম সেল পাই। ধীরে ধীরে বুঝতে পারি কোন প্রোডাক্ট বেশি কাজ করছে এবং সেই অনুযায়ী স্টোর স্কেল করি।
এই বিজনেস আমাকে লোকেশন ফ্রিডম দেয় এবং আমি চাইলে দেশি বা ইন্টারন্যাশনাল দুই মার্কেটেই কাজ করতে পারি। তাই আমার কাছে E-Commerce / Dropshipping Business নারীদের জন্য একটি স্কেলেবল, অটোমেটেড ও হাই-প্রফিট পটেনশিয়াল হোম বেইজড অনলাইন বিজনেস।
আমি প্রথমে ভুল নিস বেছে নিয়েছিলাম, তাই সেল আসেনি। পরে কাস্টমারের সমস্যা বুঝে প্রোডাক্ট বদলাই, তখন থেকেই রেজাল্ট আসতে শুরু করে।
যেমন, সুমি নামের একজন উদ্যোক্তা বেবি কেয়ার নিসে Dropshipping স্টোর খুলে এক বছরের মধ্যে মাসে ১ লাখ টাকার বেশি টার্নওভার করেন।
Social Media Management Agency: ব্র্যান্ডের গ্রোথে ঘরে বসে কাজের সুযোগ
আমি যখন Social Media Management Agency শুরু করি, তখন আমি বুঝতে পারি যে ছোট ব্যবসা, কোচ, ইনফ্লুয়েন্সার ও ব্র্যান্ডগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তারা নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি ও অডিয়েন্স ম্যানেজ করতে পারে না। আমি এই সমস্যার সমাধান হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস অফার করি, যেখানে আমি তাদের Facebook, Instagram, LinkedIn বা TikTok অ্যাকাউন্ট পরিকল্পিতভাবে গ্রো করাতে সাহায্য করি।
আমি প্রথমে একটি নির্দিষ্ট নিস বেছে নিই — যেমন কোচ, বিউটি ব্র্যান্ড বা লোকাল বিজনেস। এরপর আমি কনটেন্ট ক্যালেন্ডার, পোস্ট ডিজাইন, ক্যাপশন রাইটিং, কমেন্ট ও মেসেজ রিপ্লাই এবং বেসিক অ্যানালিটিক্স রিপোর্টিং অন্তর্ভুক্ত করে আমার সার্ভিস প্যাকেজ তৈরি করি। এতে ক্লায়েন্ট পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে তারা কী পাচ্ছে।
আমি আমার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল দিয়েই আমার স্কিল প্রমাণ করি গ্রোথ দেখাই, এনগেজমেন্ট বাড়াই এবং কেস স্টাডি বানাই। এর ফলে নতুন ক্লায়েন্ট আসতে শুরু করে রেফারেল ও কনটেন্টের মাধ্যমে। Social Media Management Agency আমাকে রিকারিং ইনকাম দেয়, কারণ ক্লায়েন্টরা মাসিক ভিত্তিতে কাজ নেয়। তাই আমি মনে করি এটি নারীদের জন্য একটি স্টেবল, স্কেলেবল ও হাই-ডিমান্ড অনলাইন বিজনেস মডেল।
আমি প্রথম ক্লায়েন্ট পেয়েছিলাম ফ্রি ট্রায়াল দিয়ে। এক মাস ভালো রেজাল্ট দেওয়ার পর তারা পেইড সাবস্ক্রিপশনে কনভার্ট হয়।
যেমন, মেহের নামের একজন উদ্যোক্তা বিউটি ব্র্যান্ড নিসে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট করে ১০টি রিটেইনার ক্লায়েন্ট তৈরি করেন এবং মাসে নিয়মিত আয় করেন।
Online Course & Digital Product Business: জ্ঞানকে ডিজিটাল সম্পদে রূপান্তর
আমি যখন Online Course & Digital Product Business শুরু করি, তখন আমি বুঝতে পারি যে একবার তৈরি করা জিনিস বহুবার বিক্রি করা যায় — এটিই এই মডেলের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি প্রথমে আমার স্কিল ও অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করি এবং দেখি কোন সমস্যার সমাধান আমি ভালো দিতে পারি। এরপর আমি সেই টপিকের উপর একটি অনলাইন কোর্স, ই–বুক, টেমপ্লেট বা প্ল্যানার তৈরি করি। এটি আমি আমার ওয়েবসাইট, Gumroad বা Teachable-এর মতো প্ল্যাটফর্মে আপলোড করি।
আমি কোর্সের কনটেন্ট স্ট্রাকচার করি বিগিনার–টু–অ্যাডভান্স লেভেলে, যাতে লার্নাররা সহজে বুঝতে পারে এবং রেজাল্ট পায়। ফ্রি ভ্যালু কনটেন্ট, ওয়েবিনার ও ইমেইল লিস্টের মাধ্যমে আমি অডিয়েন্স তৈরি করি এবং সেখান থেকেই সেল জেনারেট হয়।
এই বিজনেস আমাকে প্যাসিভ ইনকামের সুযোগ দেয় এবং আমি চাইলে একা পরিচালনা করতে পারি বা ভবিষ্যতে টিম তৈরি করতে পারি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমি আমার জ্ঞানকে একটি ডিজিটাল অ্যাসেটে রূপান্তর করি যা বারবার আমাকে আয় এনে দেয়। তাই আমার কাছে Online Course & Digital Product Business নারীদের জন্য একটি লং-টার্ম, স্কেলেবল ও হাই-প্রফিটেবল হোম বেইজড অনলাইন বিজনেস।
আমি প্রথমে ফ্রি মিনি কোর্স দিই, যাতে মানুষ আমার স্টাইল বুঝতে পারে। সেখান থেকেই পেইড কোর্সের কনভার্শন শুরু হয়।
যেমন, তানিয়া নামের একজন ডিজাইনার Canva টেমপ্লেট বিক্রি করে মাসে নিয়মিত পাঁচ অঙ্কের ইনকাম তৈরি করেন।
Virtual Assistant Business: রিমোট সাপোর্ট দিয়ে স্থায়ী ইনকামের সুযোগ
আমি যখন Virtual Assistant Business শুরু করি, তখন আমার লক্ষ্য ছিল এমন একটি সার্ভিস তৈরি করা যেখানে আমি অন্য উদ্যোক্তা ও কোম্পানির সময় বাঁচাতে পারি। আমি ইমেইল ম্যানেজমেন্ট, ক্যালেন্ডার শিডিউলিং, ডাটা এন্ট্রি, CRM আপডেট, কাস্টমার সাপোর্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাসিস্ট্যান্সের মতো সার্ভিস অফার করি। এগুলো এমন কাজ যা প্রায় সব অনলাইন ব্যবসার দরকার হয় কিন্তু মালিকরা নিজেরা করতে চায় না।
আমি প্রথমে একটি নির্দিষ্ট টাইপের ক্লায়েন্ট বেছে নিই যেমন কোচ, ই–কমার্স স্টোর বা রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। এরপর আমি তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার্ভিস প্যাকেজ বানাই। এতে ক্লায়েন্ট বুঝতে পারে আমি ঠিক কীভাবে তাদের ব্যবসায় সাহায্য করব।
আমি আমার প্রোফাইল তৈরি করি Upwork, LinkedIn ও আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে এবং আমার দক্ষতা প্রমাণ করার জন্য ছোট কেস স্টাডি শেয়ার করি। এই Virtual Assistant Business আমাকে রিকারিং ইনকাম দেয় কারণ ক্লায়েন্টরা মাসিক ভিত্তিতে আমাকে রাখে। তাই আমার কাছে এটি নারীদের জন্য একটি লো-রিস্ক, হাই-ডিমান্ড ও স্টেবল অনলাইন বিজনেস মডেল।
আমি প্রথমে এক ক্লায়েন্টের সাথে ঘণ্টাভিত্তিক কাজ করি। ভালো রেজাল্ট দেওয়ার পর তারা আমাকে মাসিক রিটেইনারে নেয়।
যেমন, নীলা নামের একজন উদ্যোক্তা তিনটি ই–কমার্স স্টোরের জন্য VA হিসেবে কাজ করে নিয়মিত মাসিক আয় তৈরি করেছেন।
YouTube / Content Creation Business: কনটেন্ট থেকে ব্র্যান্ড ও ইনকাম গড়া
আমি যখন YouTube / Content Creation Business শুরু করি, তখন আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কনটেন্টের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানো। আমি একটি নির্দিষ্ট নিস বেছে নিই — যেমন স্কিল শেখানো, লাইফস্টাইল, বিউটি, ফিনান্স বা প্যারেন্টিং। এরপর আমি নিয়মিত ভিডিও, শর্টস ও সোশ্যাল কনটেন্ট তৈরি করি যাতে অডিয়েন্সের সাথে একটি সম্পর্ক তৈরি হয়।
আমি কনটেন্টের কোয়ালিটি, থাম্বনেইল, টাইটেল ও SEO অপ্টিমাইজেশনে ফোকাস করি যাতে ভিডিওগুলো সার্চে আসে এবং রিচ পায়। ধীরে ধীরে আমার সাবস্ক্রাইবার ও ওয়াচ টাইম বাড়ে, এবং তখন AdSense, Sponsorship, Affiliate Marketing ও নিজের প্রোডাক্টের মাধ্যমে ইনকাম শুরু হয়।
এই বিজনেস আমাকে একটি পার্সোনাল ব্র্যান্ড দেয় যা ভবিষ্যতে অনেক সুযোগ খুলে দেয় যেমন কোর্স, কোচিং বা ব্র্যান্ড কলাবোরেশন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমি যা শিখছি, সেটাই শেয়ার করে আয় করতে পারি। তাই আমি মনে করি YouTube / Content Creation Business নারীদের জন্য একটি ক্রিয়েটিভ, স্কেলেবল ও হাই-গ্রোথ পটেনশিয়াল হোম বেইজড অনলাইন বিজনেস।
আমি প্রথম তিন মাস খুব কম ভিউ পেয়েছিলাম, কিন্তু নিয়মিত কনটেন্ট দেওয়ার ফলে ধীরে ধীরে অডিয়েন্স তৈরি হয়।
যেমন, লামিয়া নামের একজন উদ্যোক্তা ফিনান্স নিসে YouTube চ্যানেল খুলে এক বছরের মধ্যে Sponsorship ও Affiliate থেকে ইনকাম শুরু করেন।
Affiliate Marketing Business: প্রোডাক্ট ছাড়াই অনলাইন আয়ের স্মার্ট উপায়
আমি যখন Affiliate Marketing Business শুরু করি, তখন আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছিল এখানে আমার নিজের প্রোডাক্ট বানাতে হয় না, শুধু অন্যের প্রোডাক্ট প্রমোট করেই কমিশন পাওয়া যায়। আমি প্রথমে একটি নিস বেছে নিই যেমন হেলথ, বিউটি, ফিনান্স, সফটওয়্যার বা অনলাইন টুলস। এরপর আমি একটি ব্লগ, YouTube চ্যানেল বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজ তৈরি করি যেখানে আমি ভ্যালু কনটেন্ট দিই এবং সেই কনটেন্টের সাথে সম্পর্কিত অ্যাফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করি।
আমি SEO, কনটেন্ট মার্কেটিং ও ইমেইল লিস্ট বিল্ডিংয়ের উপর ফোকাস করি যাতে অর্গানিক ট্রাফিক আসে। মানুষ যখন আমার রিভিউ, টিউটোরিয়াল বা কম্পারিজন দেখে উপকার পায়, তখন তারা আমার লিংক দিয়ে কেনাকাটা করে এবং আমি কমিশন পাই।
এই বিজনেস আমাকে লোকেশন ফ্রিডম দেয় এবং একবার কনটেন্ট তৈরি হলে সেটা দীর্ঘদিন ইনকাম করে। আমি চাইলে এটাকে একটি মিডিয়া বিজনেসে রূপ দিতে পারি। তাই আমার কাছে Affiliate Marketing Business নারীদের জন্য একটি লো-রিস্ক, স্কেলেবল ও প্যাসিভ ইনকাম পটেনশিয়াল অনলাইন বিজনেস মডেল।
আমি প্রথমে অনেক কনটেন্ট বানিয়েও ইনকাম পাইনি। পরে SEO শিখে সার্চ ট্রাফিক আসায় কমিশন শুরু হয়।
যেমন, ফারহানা নামের একজন উদ্যোক্তা সফটওয়্যার রিভিউ ব্লগ চালিয়ে প্রতি মাসে নিয়মিত অ্যাফিলিয়েট কমিশন পান।
Print on Demand / Custom Product Business: ডিজাইন থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত অটোমেটেড ইনকাম
আমি যখন Print on Demand / Custom Product Business শুরু করি, তখন আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছিল এখানে আমাকে স্টক কিনে রাখতে হয় না এবং প্রোডাক্ট তৈরি, প্রিন্ট ও শিপিং সব অটোমেটেডভাবে হয়। আমি একটি নির্দিষ্ট নিস বেছে নিই যেমন মোটিভেশনাল কোট, কিউট ইলাস্ট্রেশন, মা–বেবি থিম বা ফেস্টিভ ডিজাইন। এরপর আমি সেই ডিজাইনগুলো টি-শার্ট, মগ, ফোন কেস বা ওয়াল আর্টে ব্যবহার করি।
আমি Shopify বা Etsy-এর মতো প্ল্যাটফর্মে স্টোর খুলে Printful বা Printify-এর সাথে কানেক্ট করি। কাস্টমার অর্ডার দিলে তারা প্রিন্ট ও ডেলিভারি করে দেয়, আর আমি শুধু মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিংয়ে ফোকাস করি। সোশ্যাল মিডিয়া, পিন্টারেস্ট ও ইনফ্লুয়েন্সার দিয়ে আমি ট্রাফিক আনি।
এই বিজনেস আমাকে একটি ক্রিয়েটিভ ব্র্যান্ড বানানোর সুযোগ দেয় এবং আমি চাইলে লোকাল বা গ্লোবাল মার্কেটে কাজ করতে পারি। তাই আমার কাছে Print on Demand / Custom Product Business নারীদের জন্য একটি লো-রিস্ক, স্কেলেবল ও ব্র্যান্ডেবল অনলাইন বিজনেস মডেল।
আমি প্রথমে খুব জেনেরিক ডিজাইন দিয়েছিলাম, তাই সেল আসেনি। নিস স্পেসিফিক ডিজাইন করতেই কনভার্শন বাড়ে।
যেমন, আয়েশা নামের একজন উদ্যোক্তা মাদারহুড থিমের মগ ও টি-শার্ট বিক্রি করে Etsy থেকে নিয়মিত অর্ডার পান।
Online Agency / Service Based Startup: স্কিল থেকে স্কেলেবল ডিজিটাল বিজনেস
আমি যখন Online Agency / Service Based Startup শুরু করি, তখন আমার লক্ষ্য ছিল আমার নিজের স্কিলের বাইরে গিয়ে অন্যদের স্কিলকে একত্র করে একটি বড় ডিজিটাল ব্যবসা তৈরি করা। আমি প্রথমে একটি নির্দিষ্ট সার্ভিস বেছে নিই — যেমন SEO, Lead Generation, Funnel Building, Web Design বা Ads Management। এরপর আমি ক্লায়েন্টদের জন্য রেজাল্ট-ভিত্তিক প্যাকেজ তৈরি করি যাতে তারা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে আমি কী ভ্যালু দিচ্ছি।
আমি নিজে ক্লায়েন্ট আনতে ফোকাস করি এবং কাজের এক অংশ ট্রাস্টেড ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে করাই। এতে আমি টিম ছাড়াই একটি এজেন্সির মতো অপারেট করতে পারি। আমি SOP, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টুল ও রিপোর্টিং সিস্টেম ব্যবহার করে কোয়ালিটি কন্ট্রোল করি।
এই বিজনেস আমাকে রিকারিং রেভিনিউ দেয়, কারণ বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট মাসিক ভিত্তিতে সার্ভিস নেয়। আমি চাইলে এটাকে গ্লোবাল এজেন্সিতে রূপ দিতে পারি। তাই আমার কাছে Online Agency / Service Based Startup নারীদের জন্য একটি হাই-গ্রোথ, স্কেলেবল ও প্রফেশনাল অনলাইন বিজনেস মডেল।
আমি প্রথমে সব কাজ নিজে করতাম। পরে টিম যুক্ত করার ফলে আমি ক্লায়েন্ট ও গ্রোথে ফোকাস করতে পারি।
যেমন, সাবিনা নামের একজন উদ্যোক্তা Lead Generation এজেন্সি চালু করে ১৫টি রিটেইনার ক্লায়েন্ট তৈরি করেন এবং মাসিক স্থায়ী ইনকাম গড়েন।

