ডায়াবেটিস একটি সাধারণ কিন্তু জটিল রোগ পরিবেশের ওপর হয়ে যায় , যা আমাদের শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবন ধারা মেনে চললে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সব কিছু মেনটেন না করতে পারলে কোন কিছু সঠিক ভাবে চলবে না । এই পোস্টে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় খাদ্য তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে, যা আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ ভুল খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্য নির্বাচন করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল লক্ষ্য।
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘ মেয়াদি রোগ এটা সবার থাকে কম আর বেশি, যেখানে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। শরীরের অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে না পারলে বা তৈরি হওয়া ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করলে এই সমস্যা দেখা দেয় বয়সে সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনে রোগ বালা সৃষ্টি হয়ে থাকে । ডায়াবেটিস মূলত দুই ধরনের টাইপ ১ এবং টাইপ ২ টাইপে ১ সাধারণত শিশু ও কিশোরদের মধ্যে দেখা যায় এবং এটি ইনসুলিনের ঘাটতির কারণে হয় ঘারতি পূর হয় না বলে মনে করে ডাক্তারে। টাইপ ২ বেশি দেখা যায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এবং এটি অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার ফলে হতে পারে খাবার সেভ নিয়ে আসতে পারে না অভ্যাস ওপর চলে যাই । সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করা হলে এই রোগ কিডনি, চোখ, হার্ট এবং নার্ভের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করে ডাক্তারের । তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি।
রোগ নিয়ন্ত্রণে জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস যদি এটা পরিবর্তন করতে পার তাহলে সে খুবই ভালো । খাদ্যের মাধ্যমে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ে বা কমে, তাই প্রতিদিন কী খাচ্ছো, তা খুব গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাপোড়া বা উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর কেন না সব কিছু নিয়ম তো করতে হয়। নিয়ম মেনে খাবার গ্রহণ করলে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে, ওষুধ বা ইনসুলিনের কার্যকারিতা ঠিক থাকে এবং জটিল রোগ প্রতিরোধ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া ও পরিমাণ বুঝে গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ কারণ সব ঠিক মানে তুমি ঠিক এটা সব সময় মানতে হবে। ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি খাদ্য নিয়ন্ত্রণই দীর্ঘ মেয়াদি সুরক্ষার মূল চাবি-কাঠি। তাই সবার আগে নিজের খাবারের প্রতি সচেতন হওয়া দরকার। তাহলে রোগ কখনো কাছে আসবে না।
শাকসবজি ও ফলমূল ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য তালিকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। শাক সবজিতে প্রচুর ফাইবার- ভিটামিন ও খনিজ থাকে যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। করলা, পুইশাক, পালং শাক, লাউ, ঢেঁড়স, করমসাগ ইত্যাদি নিয়মিত খাওয়া উপকারী তা আমাদের দেখে মেনে খেতে হবে। তবে আলু, মিষ্টি কুমড়া বা বেশি স্টার্চযুক্ত সবজি কম খাওয়া উচিত কারণ খাওয়া উপযোগী না । ফল মূলের মধ্যে পেপে, আপেল, আমড়া, কমলা, বেরি জাতীয় ফল উপকারী হলেও কলা, কাঁঠাল, আঙুর ও অতিমিষ্ট ফল পরিমাণমতো খেতে হবে। কারণ কিছু ফলে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকে। তাই ফল খাওয়ার সময় পরিমাণ ও টাইমিংয়ের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি। স্বাস্থ্যকর শাকসবজি ও উপযুক্ত ফল গ্রহণ রোগ নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকরী খাদ্য কৌশল।
রোগীদের জন্য প্রোটিন ও ফাইবার দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে । প্রোটিন শরীরের গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে আমাদেরকে সঠিক পরিমাণ প্রোটিন গ্রহন করতে হবে । ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, ছোলা ইত্যাদি ভালো প্রোটিনের উৎস। অন্যদিকে, ফাইবার খাবার হজমে সাহায্য করে এবং গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে, ফলে রক্তে চিনি হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, ওটস, চিয়া সিড, ব্রাউন রাইস এগুলোর মধ্যে প্রচুর ফাইবার থাকে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই উপাদানগুলো রাখলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে জটিলতা কমে যায়। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য প্রোটিন ও ফাইবারকে গুরুত্ব দিতে হবে প্রতিদিনের খাবারে।
রোগ নিয়ন্ত্রণে জন্য কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বুঝে খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ না জেনে কোন কিছু গ্রহন করা উচিত নয়। কার্বোহাইড্রেট শরীরে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমিত পরিমাণে ও সঠিক ধরনের কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করতে হয়। সাদা চাল, ময়দা, চিনি জাতীয় সহজ শর্করা বাদ দিয়ে বাদামি চাল, ওটস, শস্যজাতীয় খাবার ও সবজির মতো জটিল কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা ভালো। এসব খাবারে ফাইবার বেশি থাকে, যা হজম হতে সময় নেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরেধীরে বাড়ায়। একবারে বেশি না খেয়ে দিনে কয়েকবারে ভাগ করে খাওয়া আরও উপকারী। তাই খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেট অবশ্যই থাকবে, তবে সেটা পরিমাণ মতো হতে হবে এবং সঠিক উৎস থেকে নির্বাচন করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
রোগীদের জন্য সঠিক স্ন্যাক্স খাওয়া খুবই জরুরি, কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। মিষ্টি, তেলাচর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। পরিবর্তে বাদাম, মধু ছাড়া দই, শসা, গাজর ইত্যাদি স্ন্যাক্স হিসেবে বেছে নিতে হবে। এসব খাবারে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে, যা রক্তের সুগারের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। সঠিক স্ন্যাক্সের মাধ্যমে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বাঁচা যায়। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা তাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স রাখলে রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাবেন এবং সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব হবে। আমরা সব সময় সঠিক দিন গুলো চললে হবে।

রোগ নিয়ন্ত্রণে জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিনে একটা মানুষের পানি পান করতে হবে ৭.৫ লিটার । জল শরীর থেকে অতিরিক্ত শর্করা ও টক্সিন বের করতে সাহায্য করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক । অনেক সময় আমরা বেশি মিষ্টি বা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়, যা ডায়াবেটিসকে আরও জটিল করতে পারে। তাই পানি ছাড়া শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তবে শরীরের ডিহাইড্রেশন এড়াতে নিয়মিত পানি পান করাটা খুব জরুরি তাই আমরা বেশি বেশি পানি পান করব। এজন্য খাবারের সাথে সুষম পানি পান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য পাওয়া যায়।
রোগ নিয়ন্ত্রণে জন্য নিয়মিত ব্যায়াম অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। শারীরিক কাজ ও ব্যায়াম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করেন মানে নিয়ন্ত্রণ করার মূল কাজ। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম করা উচিত। ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে। শারীরিক সক্রিয়তা না থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করে তাদের সুস্থতা বজায় রাখতে পারেন। ব্যায়াম ছাড়াও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
উপরে লেখাতে কোন ভূল হলে দয়া করে মাফ করবেন অথবা জানাবেন