অনেকেই মনে করেন অনলাইনে আয় করতে হলে অবশ্যই ভালো ইংরেজি জানা লাগবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইংরেজি না জানলেও দক্ষতা থাকলে আয় করা একদম সম্ভব। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এখন লোকাল মার্কেট, সোশ্যাল মিডিয়া, ফেসবুক বিজনেস, ইউটিউব, ফ্রিল্যান্সিং এবং ই-কমার্সের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ বাংলা ভাষায় কাজ করে ইনকাম করছে। এই আর্টিকেলে আমি এমন ১০টি স্কিল শেয়ার করেছি যেগুলো আপনি ঘরে বসে, অল্প পুঁজি নিয়ে এবং ইংরেজি না জেনেও শিখতে ও ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি যদি স্টুডেন্ট হন, চাকরি খুঁজছেন, কিংবা অতিরিক্ত ইনকাম করতে চান এই স্কিলগুলো আপনার জন্য বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুরু করা এবং ধৈর্য ধরে লেগে থাকা। এই গাইডটি আপনাকে সেই পথটা সহজ করে দেখানোর জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
সূচিপত্র
1️ ডিজিটাল মার্কেটিং (বাংলায় কাজ করা যায় এমন অংশ)
2️ গ্রাফিক ডিজাইন (Canva / Photoshop)
3️ ভিডিও এডিটিং (YouTube / Facebook Content)
4️ ফটোগ্রাফি ও মোবাইল ফটোগ্রাফি
5️ ডাটা এন্ট্রি ও বেসিক কম্পিউটার কাজ
6️ ই-কমার্স বিজনেস (Facebook / Daraz / Shopify Local)
7️ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে লোকাল কাজ
8️ হস্তশিল্প / হ্যান্ডমেইড পণ্য তৈরি ও বিক্রি
9️ কন্টেন্ট ক্রিয়েশন (Facebook, TikTok, YouTube Shorts)
10 মোবাইল রিপেয়ারিং ও টেকনিক্যাল সার্ভিস
১. ডিজিটাল মার্কেটিং (English না জেনেও আয় করা সম্ভব)
আমি যখন ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা শুরু করি, তখন বুঝতে পারি English খুব বেশি না জানলেও এই স্কিল দিয়ে আয় করা যায়। ডিজিটাল মার্কেটিং মানে হলো অনলাইনে মানুষের কাছে পণ্য বা সার্ভিস পৌঁছে দেওয়া যেমন Facebook পোস্ট, বিজ্ঞাপন, ভিডিও কন্টেন্ট, মেসেজ মার্কেটিং ইত্যাদি। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের মন বুঝা, ট্রেন্ড ধরতে পারা এবং সঠিক কন্টেন্ট তৈরি করা। আমি শিখেছি কীভাবে Facebook Page grow করতে হয়, কীভাবে পোস্ট বুস্ট করতে হয় এবং কীভাবে লোকাল কাস্টমার টার্গেট করা যায়। এগুলো সব বাংলায় করলেও কাজ চলে এবং ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়।
আমি শুরুতে নিজের একটা Facebook Page খুলে নিয়মিত পোস্ট দিতাম। প্রথম দিকে ফল পাইনি, কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম কোন পোস্টে বেশি রিচ আসে, কোন টাইমে পোস্ট দিলে মানুষ বেশি দেখে। এরপর আমি লোকাল দোকানদারদের বললাম তাদের পেজ আমি ম্যানেজ করে দিতে পারি। এক দোকান থেকে শুরু করেছিলাম, এখন কয়েকজনের পেজ মেইনটেইন করি এবং মাসে নিয়মিত ইনকাম করি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে বুঝিয়েছে, ধৈর্য আর প্র্যাকটিস থাকলে English না জেনেও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সফল হওয়া সম্ভব।
শিক্ষা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
আমার এক পরিচিত বন্ধু গ্রামের একটা বুটিক শপের জন্য Facebook মার্কেটিং করে। সে বাংলাতেই পোস্ট লেখে, ছবি দেয় এবং ইনবক্সে কাস্টমারের সাথে কথা বলে। এখন সেই শপ শুধু লোকাল না, ঢাকার কাস্টমারও পাচ্ছে। এইটা প্রমাণ করে ডিজিটাল মার্কেটিং স্কিল থাকলে English ছাড়াও অনলাইনে আয় করা যায়।
২. গ্রাফিক ডিজাইন (English না জানলেও অনলাইনে আয় করা যায়)
আমি যখন গ্রাফিক ডিজাইন শেখা শুরু করি, তখন বুঝতে পারি এখানে ভাষার চেয়ে চোখের সেন্স বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাফিক ডিজাইন মানে হলো ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে মানুষের মনোযোগ ধরা যেমন লোগো, পোস্টার, ফেসবুক ব্যানার, ইউটিউব থাম্বনেইল ইত্যাদি তৈরি করা। আমি Canva আর Photoshop দিয়ে কাজ করি এবং বেশিরভাগ সময় বাংলাতেই টেক্সট ব্যবহার করি। ক্লায়েন্টরা আসলে সুন্দর ডিজাইন চায়, তারা দেখে ডিজাইন কেমন, English আছে কি না সেটা নয়। তাই এই স্কিলটা আমার কাছে খুব শক্তিশালী মনে হয়েছে যারা English জানে না তাদের জন্য।
আমি শুরুতে নিজের জন্যই পোস্টার বানাতাম নিজের পেজ, নিজের ইউটিউব চ্যানেলের থাম্বনেইল। ধীরে ধীরে বন্ধু-বান্ধবরা বললো, “আমার জন্য একটা বানিয়ে দাও।” সেখান থেকেই ছোট ছোট কাজ পেতে শুরু করি। একসময় Fiverr আর Facebook গ্রুপ থেকে অর্ডার আসা শুরু হলো। প্রথম ইনকাম খুব বেশি না হলেও সেটা আমাকে ভীষণ মোটিভেট করেছিল। প্রতিদিন একটু একটু করে প্র্যাকটিস করায় এখন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত আর ভালো ডিজাইন করতে পারি।
আমার এক পরিচিত আপু ঘরে বসে শুধু ক্যানভা দিয়ে ফেসবুক পোস্ট ডিজাইন করে দেয় কয়েকটা বিজনেস পেজের জন্য। সে ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না, কিন্তু মাসে নিয়মিত আয় করে। এইটা দেখিয়ে দেয় গ্রাফিক ডিজাইন স্কিল থাকলে ভাষা কখনো বাধা হয় না।
৩. ভিডিও এডিটিং (English না জানলেও অনলাইনে আয় করা সম্ভব)
আমি যখন ভিডিও এডিটিং শেখা শুরু করি, তখন ভাবতাম এটা খুব কঠিন হবে। কিন্তু কাজ শুরু করার পর বুঝলাম এখানে ভাষার চেয়ে বেশি দরকার ক্রিয়েটিভিটি আর গল্প বলার ক্ষমতা। ভিডিও এডিটিং মানে হলো ভিডিও কাট করা, অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়া, মিউজিক বসানো, টেক্সট যোগ করা এবং ভিডিওটাকে আকর্ষণীয় করা। আমি CapCut আর Premiere Pro ব্যবহার করি এবং বেশিরভাগ সময় বাংলায় কাজ করি। ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক সব জায়গায় ভিডিও কন্টেন্টের চাহিদা বাড়ছে, তাই এই স্কিল দিয়ে খুব ভালো আয় করা সম্ভব।
আমি প্রথমে নিজের ছোট ভিডিও এডিট করতাম রিলস, শর্টস, ট্রাভেল ক্লিপ। ধীরে ধীরে আমার কাজের মান ভালো হলে অন্যরা আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। একজন ইউটিউবার আমাকে তার ভিডিও এডিট করতে দেয়। শুরুতে কম পারিশ্রমিক ছিল, কিন্তু নিয়মিত কাজ করায় অভিজ্ঞতা বাড়ে এবং রেটও বাড়াতে পেরেছি। এখন আমি ঘরে বসেই নিয়মিত কয়েকজনের ভিডিও এডিট করি।
ডিজিটাল মাকেটিং সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন
আমার এক পরিচিত ভাই শুধু ফেসবুক রিলস এডিট করে দেয় কয়েকটা পেজের জন্য। সে বাংলাতেই কথা বলে, কিন্তু তার ভিডিওগুলো ভাইরাল হয়। এই কারণেই পেজগুলো তাকে মাসিক পেমেন্ট দেয়। এটা প্রমাণ করে ভিডিও এডিটিং জানলে English জানা বাধ্যতামূলক না।
৪. ফটোগ্রাফি ও মোবাইল ফটোগ্রাফি (English না জানলেও আয় করা যায়)
আমি যখন ফটোগ্রাফি শেখা শুরু করি, তখন বুঝতে পারি ভালো ছবি তোলার জন্য বড় ক্যামেরা নয়, দরকার ভালো চোখ আর প্র্যাকটিস। ফটোগ্রাফি মানে হলো সঠিক আলো, এঙ্গেল আর মুহূর্ত ধরে রাখা। এখন স্মার্টফোন দিয়েই প্রফেশনাল লেভেলের ছবি তোলা যায়। আমি মোবাইল ফটোগ্রাফি দিয়েই শুরু করেছি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য প্রোডাক্ট, খাবার আর লাইফস্টাইল ছবি তুলেছি। এই স্কিলে English দরকার হয় না, দরকার হয় মানুষের পছন্দ বুঝা আর ভিজ্যুয়াল সেন্স।
আমি প্রথমে নিজের জিনিসের ছবি তুলতাম খাবার, ঘড়ি, জামা, গাছপালা। তারপর সেই ছবি Facebook আর Instagram এ দিতাম। ধীরে ধীরে মানুষ বলতে শুরু করলো, “ভাই, আমার পেজের জন্য ছবি তুলে দাও।” আমি ফ্রি দিয়ে শুরু করেছিলাম, পরে পেইড কাজ পাই। এখন আমি ছোট বিজনেসের জন্য প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করি এবং এটা আমার একটা ইনকাম সোর্স।
আমার এক পরিচিত আপু শুধু মোবাইল দিয়ে বুটিক শপের জামার ছবি তোলে। তার ছবি এত সুন্দর যে অনলাইন অর্ডার দ্বিগুণ হয়েছে। সে ইংরেজি জানে না, কিন্তু ফটোগ্রাফির কারণে তার নিয়মিত আয় হচ্ছে। এইটা দেখায় ফটোগ্রাফি স্কিল থাকলে ভাষা বাধা নয়।
৫. ডাটা এন্ট্রি ও বেসিক কম্পিউটার কাজ (English না জানলেও অনলাইনে আয় করা যায়)
আমি যখন ডাটা এন্ট্রি শেখা শুরু করি, তখন বুঝতে পারি এটা সবচেয়ে সহজ কিন্তু কার্যকর অনলাইন স্কিলগুলোর একটা। ডাটা এন্ট্রি মানে হলো তথ্য কপি করা, এক্সেল শিটে লেখা, ফর্ম পূরণ করা, নাম্বার ও ইনফরমেশন সাজানো। এখানে খুব বেশি ইংরেজি দরকার হয় না, বরং দরকার মনোযোগ আর সঠিকভাবে কাজ করার অভ্যাস। আমি MS Excel, Google Sheets আর সাধারণ কম্পিউটার অপারেশন শিখেছি, যা আমাকে ঘরে বসেই কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।
আমি শুরুতে ছোট ছোট কাজ করতাম নাম্বার টাইপ করা, পিডিএফ থেকে এক্সেলে ডাটা নেওয়া। প্রথমদিকে কাজ পেতে সময় লেগেছে, কিন্তু ধীরে ধীরে রেটিং বাড়ায় নিয়মিত ক্লায়েন্ট পাওয়া শুরু হয়। সবচেয়ে ভালো লাগতো কাজ শেষে টাকা হাতে আসার অনুভূতি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, ছোট কাজ দিয়ে শুরু করলেও ধৈর্য থাকলে বড় সুযোগ আসে।
আমার এক পরিচিত ভাই একটা ই-কমার্স দোকানের অর্ডার লিস্ট মেইনটেইন করে। সে শুধু এক্সেল আপডেট করে আর কাস্টমার ডাটা সাজায়। সে ইংরেজি খুব ভালো জানে না, কিন্তু এই কাজ দিয়েই তার মাসিক আয় হচ্ছে। এটা প্রমাণ করে ডাটা এন্ট্রি স্কিল থাকলে ভাষা কখনো বাধা হয় না।
৬. ই-কমার্স বিজনেস (English না জানলেও অনলাইনে ব্যবসা করা যায়)
আমি যখন ই-কমার্স বিজনেস শুরু করি, তখন ভাবতাম এটা শুধু বড় কোম্পানির জন্য। কিন্তু পরে বুঝলাম Facebook আর লোকাল মার্কেটপ্লেস থাকায় এখন যে কেউ ই-কমার্স করতে পারে। ই-কমার্স মানে হলো অনলাইনে পণ্য দেখানো, অর্ডার নেওয়া আর ডেলিভারি দেওয়া। আমি Facebook Page খুলে পণ্য পোস্ট করি, ইনবক্সে কাস্টমারের সাথে কথা বলি এবং কুরিয়ার দিয়ে পাঠাই। এখানে English জানা জরুরি নয়, কারণ বেশিরভাগ কাস্টমার বাংলাতেই কথা বলে। সবচেয়ে দরকার বিশ্বাস তৈরি করা আর ভালো সার্ভিস দেওয়া।
আমি প্রথমে খুব অল্প পুঁজিতে শুরু করি নিজের পরিচিতদের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে পোস্ট দিতাম। শুরুতে দিনে এক-দুইটা অর্ডার আসতো, কিন্তু ধীরে ধীরে রিভিউ বাড়ায় অর্ডার বাড়তে থাকে। কাস্টমার সন্তুষ্ট হলে তারা আবার অর্ডার দেয়। এখন আমি নিয়মিতভাবে অনলাইনে বিক্রি করি এবং এটা আমার একটা বড় ইনকাম সোর্স।
আমার এক পরিচিত আপু শুধু Facebook দিয়ে হোমমেড কেক বিক্রি করে। সে প্রতিদিন স্টোরিতে কেকের ছবি দেয় আর অর্ডার নেয়। তার কোনো ওয়েবসাইট নেই, ইংরেজিও জানে না, কিন্তু মাসে ভালো ইনকাম করছে। এটা দেখায় ই-কমার্স করতে বড় জ্ঞান নয়, স্মার্ট কাজই যথেষ্ট।
৭. লোকাল ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন সার্ভিস (English না জানলেও আয় করা যায়)
আমি যখন ফ্রিল্যান্সিং শব্দটা প্রথম শুনি, তখন ভাবতাম এটা শুধু বিদেশিদের সাথে ইংরেজিতে কথা বলার কাজ। পরে বুঝলাম লোকাল মার্কেটেই অনেক কাজ আছে। লোকাল ফ্রিল্যান্সিং মানে হলো নিজের স্কিল ব্যবহার করে আশেপাশের মানুষ বা ব্যবসার জন্য অনলাইন সার্ভিস দেওয়া যেমন পেজ ম্যানেজমেন্ট, পোস্ট ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি, ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি। এখানে সব কথা বাংলাতেই হয়, তাই English জানা জরুরি নয়। আমি Facebook গ্রুপ, পরিচিত নেটওয়ার্ক আর লোকাল বিজনেসের মাধ্যমে কাজ পাই।
আমি শুরুতে ছোট দোকান আর সার্ভিস প্রোভাইডারদের মেসেজ দিতাম, বলতাম আমি অনলাইন প্রমোশন বা ডিজাইন করে দিতে পারি। অনেকেই রেসপন্স দেয়নি, কিন্তু কয়েকজন আগ্রহ দেখায়। সেখান থেকেই প্রথম কাজ পাই। ধীরে ধীরে কাজ ভালো করলে রেফারেন্স আসে। এখন নতুন ক্লায়েন্ট খুঁজতে হয় না, পুরনো ক্লায়েন্টই নতুন ক্লায়েন্ট নিয়ে আসে।
আমার এক পরিচিত ভাই একজন রেস্টুরেন্টের Facebook Page মেইনটেইন করে। সে প্রতিদিন মেনুর ছবি দেয়, অফার পোস্ট করে। রেস্টুরেন্টের সেল বাড়ায় মালিক তাকে মাসিক পেমেন্ট দেয়। সে ইংরেজি জানে না, কিন্তু এই স্কিল দিয়েই তার নিয়মিত আয় হচ্ছে। এটা প্রমাণ করে লোকাল ফ্রিল্যান্সিং খুব শক্তিশালী সুযোগ।
৮. হস্তশিল্প ও হ্যান্ডমেইড পণ্য (English না জানলেও আয় করা যায়)
আমি যখন হস্তশিল্পের দিকে আসি, তখন বুঝতে পারি নিজের হাতের কাজ দিয়েও অনলাইনে আয় করা সম্ভব। হস্তশিল্প মানে হলো হাতে তৈরি জিনিস যেমন গয়না, ব্যাগ, পেইন্টিং, হোম ডেকোর, কাস্টম গিফট ইত্যাদি। এই কাজগুলোতে ভাষা নয়, দরকার সৃজনশীলতা আর ধৈর্য। আমি নিজে হাতে বানানো জিনিসের ছবি তুলে অনলাইনে পোস্ট করি এবং অর্ডার নিই। মানুষ ইউনিক জিনিস পছন্দ করে, তাই হ্যান্ডমেইড পণ্যের চাহিদা সবসময় থাকে।
আমি প্রথমে নিজের জন্য বানানো কিছু জিনিস পোস্ট করতাম। মানুষ কমেন্ট করতো, দাম জিজ্ঞেস করতো। সেখান থেকেই প্রথম অর্ডার পাই। শুরুতে খুব নার্ভাস ছিলাম, ঠিকমতো বানাতে পারবো কিনা। কিন্তু কাস্টমার সন্তুষ্ট হলে আবার অর্ডার দেয়। এই অভিজ্ঞতা আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে যে আমার হাতের কাজের মূল্য আছে।
আমার এক পরিচিত আপু হাতে বানানো পুঁতির গয়না বিক্রি করে। সে Facebook Page খুলে নিয়মিত ছবি দেয়। এখন তার দেশের বাইরে থেকেও অর্ডার আসে। সে ইংরেজি জানে না, কিন্তু ছবি আর কাজের মানই তার ভাষা। এটা দেখায় হস্তশিল্প দিয়ে গ্লোবাল সুযোগও তৈরি করা যায়।
৯. কন্টেন্ট ক্রিয়েশন (English না জানলেও অনলাইনে আয় করা যায়)
আমি যখন কন্টেন্ট ক্রিয়েশন শুরু করি, তখন ভাবতাম মানুষ আমাকে কেন দেখবে। পরে বুঝলাম মানুষ পারফেক্ট ভিডিও নয়, রিয়েল মানুষ দেখতে চায়। কন্টেন্ট ক্রিয়েশন মানে হলো নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা দৈনন্দিন জীবন ভিডিও, ছবি বা লেখার মাধ্যমে শেয়ার করা। আমি Facebook Reels আর YouTube Shorts বানাই, যেখানে বাংলায় কথা বলি। এখানে English জানা দরকার হয় না, বরং দরকার নিজের মতো করে গল্প বলা আর মানুষের সাথে কানেক্ট করা। এই স্কিল দিয়ে ব্র্যান্ড প্রমোশন, স্পন্সরশিপ আর অ্যাফিলিয়েট ইনকাম করা যায়।
আমি শুরুতে নিয়মিত ভিডিও দিতাম কিন্তু ভিউ আসতো কম। তবুও থামিনি। একসময় একটা ভিডিও ভাইরাল হলো, তখন ফলোয়ার বাড়তে শুরু করলো। এরপর কিছু পেজ আমাকে প্রমোশনের অফার দেয়। প্রথমবার যখন একটা ভিডিওর জন্য টাকা পাই, তখন বুঝলাম এইটা সত্যিকারের সুযোগ। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে কনসিস্টেন্সি আর ধৈর্য থাকলে ফল আসবেই।
আমার এক পরিচিত ভাই গ্রামে বসে ফার্মিং লাইফের ভিডিও বানায়। সে গরু, মাছ, ক্ষেতের ভিডিও দেয়। তার ভিডিও জনপ্রিয় হওয়ায় এখন কোম্পানি তার সাথে কাজ করে। সে ইংরেজি জানে না, কিন্তু তার কন্টেন্টের ভ্যালুই তার শক্তি। এটা দেখায় কন্টেন্ট ক্রিয়েশন যে কারো জন্য সুযোগ।
১০. মোবাইল রিপেয়ারিং ও টেকনিক্যাল সার্ভিস (English না জানলেও আয় করা যায়)
আমি যখন মোবাইল রিপেয়ারিং শেখা শুরু করি, তখন বুঝতে পারি এটা খুব বাস্তব আর দরকারি স্কিল। এখন প্রায় সবার হাতে স্মার্টফোন, আর সমস্যা হলে মানুষ দ্রুত ঠিক করাতে চায়। মোবাইল রিপেয়ারিং মানে হলো ডিসপ্লে পরিবর্তন, ব্যাটারি চেঞ্জ, সফটওয়্যার সমস্যা ঠিক করা, চার্জিং পোর্ট ঠিক করা ইত্যাদি। এখানে ভাষা কোনো বিষয় না, দরকার হাতেকলমে স্কিল আর বিশ্বাসযোগ্যতা। আমি লোকাল ট্রেনিং নিয়ে ধীরে ধীরে এই কাজ শিখেছি।
আমি প্রথমে নিজের আর বন্ধুদের ফোন ঠিক করতাম। অনেক সময় ভুলও করেছি, আবার ঠিকও করেছি। সেই ভুল থেকেই শেখা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। পরে একটা ছোট দোকানে পার্টটাইম কাজ করি, যেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন সমস্যা দেখতে পাই। এখন আমি নিজেই ছোট পরিসরে সার্ভিস দিই এবং এইটা আমার নিয়মিত ইনকামের উৎস।
আমার এক পরিচিত ভাই গ্রামে মোবাইল সার্ভিসিং শপ খুলেছে। আশেপাশের মানুষ তার কাছেই ফোন ঠিক করায়। সে ইংরেজি জানে না, কিন্তু তার কাজ ভালো বলে সবাই তাকে বিশ্বাস করে। এইটা প্রমাণ করে টেকনিক্যাল স্কিল থাকলে লোকাল মার্কেটেই ভালো আয় করা সম্ভব।

