

আমি যখন প্রথম মাইগ্রেনের অভিজ্ঞতা পাই, তখন বুঝতে পারিনি এটা শুধু একটা মাথাব্যথা না এটা এমন একটা ব্যথা যেটা পুরো দিনটাই কেড়ে নিতে পারে। আলো সহ্য হয় না, শব্দ বিরক্ত লাগে, কাজের মনোযোগ থাকে না, আর সবচেয়ে কষ্টের বিষয় বাইরে থেকে কেউ বুঝতেও পারে না ভেতরে কতটা যন্ত্রণা চলছে। তখনই আমি বুঝেছি, মাইগ্রেন শুধু মাথার সমস্যা নয়, এটা আমাদের স্নায়বিক সিস্টেমের একটা সিগনাল যে কোথাও একটা ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।
এই লেখাটায় আমি খুব কঠিন মেডিক্যাল ভাষা ব্যবহার করিনি। আমি এখানে নিজের অভিজ্ঞতা, বাস্তব উদাহরণ আর সহজ ব্যাখ্যার মাধ্যমে বলবো মাইগ্রেন কী, কেন হয়, কী কী ট্রিগার আছে, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীভাবে প্রাকৃতিকভাবে এটাকে কমানো যায়। কারণ আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটা মাথাব্যথার পেছনে একটা কারণ থাকে, আর সেই কারণটা বুঝতে পারলেই সমাধান অনেক সহজ হয়ে যায়।
এই গাইডটা তাদের জন্য যারা প্রতিদিন ব্যথার সঙ্গে লড়াই করে, যারা ওষুধের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে চায় না, আর যারা নিজের শরীরকে একটু ভালোভাবে বুঝতে চায়। যদি এই লেখাটা কাউকে একদিনও ব্যথা থেকে একটু স্বস্তি দিতে পারে তাহলেই আমার লেখা সার্থক।
1. মাইগ্রেন কী? — সাধারণ মাথাব্যথা থেকে পার্থক্য
2. Uমাইগ্রেন কেন হয়? — ট্রিগার ও স্নায়বিক কারণ
3. মাইগ্রেনের সাধারণ ও প্রাথমিক লক্ষণসমূহ
4. খাবার ও মাইগ্রেন — কোনটা বাড়ায়, কোনটা কমায়
5. পানি, ডিহাইড্রেশন ও মাথাব্যথার সম্পর্ক
6. ঘুমের রুটিন ঠিক করা কেন জরুরি
7. স্ট্রেস কমানোর প্রাকৃতিক কৌশলসমূহ
8. ৭টি প্রাকৃতিক উপায় যেগুলো মাইগ্রেন কমাতে সাহায্য করে
9. কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি
10. মাইগ্রেন নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা
আমি আগে ভাবতাম মাথাব্যথা মানেই প্যারাসিটামল খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু যখন প্রথম মাইগ্রেনের অভিজ্ঞতা হলো, তখন বুঝলাম এটা সাধারণ মাথাব্যথা না। মাইগ্রেন হলো একটা স্নায়বিক সমস্যা যেখানে মাথার এক পাশ ধুকধুক করে ব্যথা করে, সাথে আলো সহ্য হয় না, শব্দ বিরক্ত লাগে, বমি বমি ভাব আসে, কখনো চোখের সামনে ঝিলমিল বা ব্লার দেখা দেয়। এটা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত থাকতে পারে এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম একেবারে থামিয়ে দিতে পারে।
সাধারণ মাথাব্যথা সাধারণত স্ট্রেস, ঘুম কম হওয়া বা পানি কম খাওয়ার কারণে হয় এবং বিশ্রাম নিলেই কমে। কিন্তু মাইগ্রেন নিজের মতো করে আসে, নিজের মতো করে থাকে, আর নিজের মতো করেই চলে যায় ওষুধে কমলেও পুরোপুরি বোঝা না গেলে বারবার ফিরে আসে। আমি বুঝেছি, মাইগ্রেন হলো শরীরের একটা সতর্ক সংকেত “কিছু একটা ঠিক নেই।”
চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন
আমার এক বান্ধবী বলতো, “আমার মাথা ব্যথা না, মাথা ফেটে যাচ্ছে।” আলো জ্বালালে কষ্ট, ফোন দেখলে কষ্ট সে শুধু অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকতে পারতো। তখন বুঝলাম এটা সাধারণ ব্যথা না, এটা মাইগ্রেন।
ধরো, পা কেটে গেলে ব্যথা হয় আর হাত ভাঙলে ব্যথা হয় দুটো ব্যথা হলেও এক না। মাইগ্রেন আর সাধারণ মাথাব্যথার পার্থক্যও ঠিক তেমন।
আমি যখন খেয়াল করতে শুরু করি ঠিক কখন আমার মাইগ্রেন হয়, তখন একটা প্যাটার্ন ধরা পড়ে। বুঝলাম মাইগ্রেন হঠাৎ আসে না, এর পেছনে কিছু ট্রিগার থাকে। যেমন বেশি স্ট্রেস, কম ঘুম, অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা, পানি কম খাওয়া, অতিরিক্ত স্ক্রিন দেখা, তীব্র আলো বা শব্দ, এমনকি কিছু খাবারও (চকলেট, চিজ, কফি বেশি) মাইগ্রেন ট্রিগার করতে পারে। এগুলো মাথার স্নায়ুকে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে তোলে, আর তখনই মাইগ্রেন শুরু হয়।
বিজ্ঞানী ভাষায়, মাইগ্রেন তখন হয় যখন মাথার রক্তনালীগুলো হঠাৎ সংকুচিত ও প্রসারিত হয় এবং ট্রাইজেমিনাল নার্ভ নামের একটা স্নায়ু অতিরিক্ত সেনসিটিভ হয়ে যায়। এতে ব্যথার সিগন্যাল খুব জোরে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। তাই এটা শুধু মাথার সমস্যা না, এটা পুরো স্নায়বিক সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া।
অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন
আমি লক্ষ্য করেছি, আমি যদি দুপুরে খাবার মিস করি বা রাতে খুব দেরিতে ঘুমাই, পরদিন সকালে প্রায় নিশ্চিতভাবেই মাইগ্রেন হয়। আগে ভাবতাম কাকতালীয়, এখন জানি এটা ট্রিগার।
ধরো, আগুন জ্বালাতে দেশলাই লাগে। ট্রিগারগুলো হলো সেই দেশলাই, আর মাইগ্রেন হলো আগুন। দেশলাই বাদ দিলে আগুন জ্বলবে না।
আমি আগে ভাবতাম মাইগ্রেন মানেই শুধু তীব্র মাথাব্যথা। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝেছি, মাইগ্রেন আসার আগেই শরীর অনেক সিগনাল দেয় শুধু আমরা সেগুলো ধরতে পারি না। শুরুতে হালকা ক্লান্ত লাগা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, মন খিটখিটে হওয়া, মিষ্টি বা নোনতা কিছু খেতে ইচ্ছে করা, বারবার হাই তোলা এগুলো প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এরপর আসে আসল পর্ব মাথার এক পাশ ধুকধুক ব্যথা, আলো ও শব্দ অসহ্য লাগা, চোখে ঝিলমিল বা দাগ দেখা (aura), বমি ভাব বা বমি হওয়া।
আমি বুঝেছি, এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো ধরতে পারলে অনেক সময় মাইগ্রেন পুরোপুরি ওঠার আগেই থামানো যায় পানি খেয়ে, বিশ্রাম নিয়ে, আলো কমিয়ে।
আমার এক পরিচিত বলতো, “আমার মাইগ্রেন হওয়ার আগে আমি অকারণে খুব রেগে যাই।” পরে খেয়াল করে দেখেছে রাগ বাড়লেই ২–৩ ঘণ্টার মধ্যে ব্যথা শুরু হয়। এখন সে তখনই বিশ্রাম নেয়।
ধরো, ঝড় আসার আগে আকাশ ভারী হয়, বাতাস বদলায়। মাইগ্রেনের লক্ষণগুলোও ঠিক তেমন ঝড়ের আগের আকাশ।
আমি যখন নিজের মাইগ্রেনের ডায়েরি রাখতে শুরু করি, তখন সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ছিল খাবারের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক আছে। কিছু খাবার আমার মাইগ্রেন বাড়ায়, আবার কিছু খাবার ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। যেমন অতিরিক্ত চা-কফি, চকলেট, চিজ, প্রোসেসড মাংস, সফট ড্রিঙ্কস, খুব বেশি ঝাল বা খুব বেশি মিষ্টি এগুলো আমার জন্য ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। আবার পানি, শাকসবজি, ফল, বাদাম, দই, আদা, আর নিয়মিত সময়মতো খাওয়া আমার মাথাকে অনেক শান্ত রাখে।
আমি বুঝেছি, অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে রক্তে সুগার কমে যায়, তখনও মাইগ্রেন ট্রিগার হয়। তাই “কি খাচ্ছি”র পাশাপাশি “কখন খাচ্ছি” সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
আমি লক্ষ্য করেছি, আমি যদি দুপুরে খাবার দেরি করি আর বিকেলে কফি খাই, সন্ধ্যার দিকে প্রায়ই মাথা ধরবে। এখন আমি সময়মতো খাই আর কফি সীমিত করেছি ব্যথা অনেক কম।
ধরো, শরীর একটা যন্ত্র। ভুল ফুয়েল দিলে ইঞ্জিন নক করে, ঠিক ফুয়েল দিলে মসৃণ চলে। মাইগ্রেনের ক্ষেত্রেও খাবার হলো সেই ফুয়েল।
আমি আগে কখনো ভাবিনি পানি কম খাওয়াও মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে। কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছি ডিহাইড্রেশন মানে শুধু তৃষ্ণা লাগা না, এটা মাথাব্যথার একটা বড় ট্রিগার। শরীরে পানি কম হলে রক্ত ঘন হয়ে যায়, মাথার রক্তপ্রবাহে চাপ পড়ে, আর সেখান থেকেই ব্যথা শুরু হতে পারে। আমি যদি সারাদিনে খুব কম পানি খাই, বা বেশি চা-কফি খাই, তাহলে সন্ধ্যার দিকে মাথা ভারী লাগে সেটাই অনেক সময় মাইগ্রেনে পরিণত হয়।
আমি বুঝেছি, মাইগ্রেন কমানোর সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক উপায় হলো নিয়মিত পানি খাওয়া। ছোট ছোট চুমুক করে সারাদিনে ৮–১০ গ্লাস পানি মাথার স্নায়ুকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
আমার এক বান্ধবী দিনে খুব কম পানি খেতো, কিন্তু সফট ড্রিঙ্কস বেশি খেতো। তার প্রায়ই মাইগ্রেন হতো। সে শুধু সফট ড্রিঙ্কস বাদ দিয়ে পানি বাড়ানোর পর তার ব্যথার ফ্রিকোয়েন্সি অর্ধেকে নেমে আসে।
ধরো, গাছে পানি না দিলে পাতা ঝুলে পড়ে। শরীরেও ঠিক তেমন পানি না পেলে স্নায়ু দুর্বল হয়, আর তখন ব্যথা বাড়ে।
আমি আগে ভাবতাম কম ঘুমালেই শুধু ক্লান্ত লাগে। কিন্তু বুঝেছি ঘুমের সঙ্গে মাইগ্রেনের খুব গভীর সম্পর্ক আছে। আমি যদি রাতে দেরিতে ঘুমাই, বা প্রতিদিন ঘুমানোর সময় বদলাই, তাহলে আমার মস্তিষ্কের বায়োলজিক্যাল ক্লক নষ্ট হয়ে যায়। এতে স্নায়ু বেশি সেনসিটিভ হয়ে পড়ে, আর তখনই মাইগ্রেনের সুযোগ তৈরি হয়। আবার বেশি ঘুমালেও সমস্যা হতে পারে তাই আমি শিখেছি, মাইগ্রেনের জন্য সবচেয়ে ভালো হলো নিয়মিত সময়মতো ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানো।
ঘুমের সময় মস্তিষ্ক নিজেকে “রিসেট” করে, স্নায়ুর উত্তেজনা কমায়। এই রিসেট না হলে ব্যথা জমতে থাকে।
আমি লক্ষ্য করেছি, শুক্রবার রাতে দেরি করে ঘুমালে শনিবার সকালে প্রায়ই মাইগ্রেন হয়। এখন আমি ছুটির দিনেও ঘুমানোর সময় ঠিক রাখি ব্যথা অনেক কম।
ধরো, ফোন রিস্টার্ট না দিলে হ্যাং করে। মস্তিষ্কের রিস্টার্ট হলো ঘুম সেটা না হলে সিস্টেম স্লো হয়ে ব্যথা দেয়।
আমি বুঝেছি, আমার মাইগ্রেনের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো স্ট্রেস। আমি যত বেশি টেনশনে থাকি, মাথা তত দ্রুত ব্যথার দিকে যায়। কারণ স্ট্রেসে কর্টিসল নামের হরমোন বাড়ে, যেটা স্নায়ুকে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে তোলে। তাই মাইগ্রেন কমাতে শুধু ওষুধ না, মাথাকে শান্ত করাও জরুরি।
আমি নিজের জন্য কয়েকটা সহজ কৌশল বানিয়েছি প্রতিদিন ৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নেওয়া, সন্ধ্যায় ফোন থেকে একটু দূরে থাকা, হালকা হাঁটা, নামাজ/মেডিটেশন, আর যেটা সবচেয়ে কাজ করে নিজের সাথে কথা বলা, “সব কিছু এখনই ঠিক করতে হবে না।”
আমার এক পরিচিত অফিসের চাপ নিয়ে সারাদিন টেনশনে থাকতো, আর সপ্তাহে ২–৩ দিন মাইগ্রেন হতো। সে শুধু সন্ধ্যায় ২০ মিনিট হাঁটা আর রাতে ফোন কমানো শুরু করার পর ব্যথার ফ্রিকোয়েন্সি অর্ধেকে নেমে আসে।
ধরো, প্রেশার কুকারে যদি ভালভ না থাকে, সেটা ফেটে যায়। স্ট্রেস রিলিজের পথ না থাকলে মাথাও ঠিক তেমনই ফেটে ব্যথা দেয়।
আমি বুঝেছি, মাইগ্রেন পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো ম্যাজিক নেই, কিন্তু কিছু প্রাকৃতিক অভ্যাস আছে যেগুলো নিয়মিত করলে ব্যথার ফ্রিকোয়েন্সি আর তীব্রতা দুটোই কমে।
১) নিয়মিত পানি খাওয়া,
২) সময়মতো খাওয়া,
৩) প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট হাঁটা,
৪) ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা,
৫) আদা বা পুদিনা চা,
৬) ঠান্ডা বা গরম সেঁক মাথায় দেওয়া,
৭) গভীর শ্বাস/মেডিটেশন — এই সাতটা আমার কাছে সবচেয়ে কাজের।
আমি এগুলোকে আলাদা আলাদা না দেখে একটা প্যাকেজ হিসেবে দেখি। একটা করলে কিছুটা উপকার, সব করলে বড় পরিবর্তন।
আমি একসময় সপ্তাহে ৩ দিন মাইগ্রেনে ভুগতাম। যখন আমি কফি কমালাম, পানি বাড়ালাম, রাতে সময়মতো ঘুমালাম আর প্রতিদিন হাঁটলাম ২ মাসে সেটা সপ্তাহে ১ দিনে নেমে আসে।
ধরো, একটা ফুটো নৌকা। তুমি একটা ফুটো বন্ধ করলে পানি কম ঢুকবে, কিন্তু সব ফুটো বন্ধ করলে নৌকা ভাসবে। এই ৭টা উপায় একসাথে করলে মাইগ্রেন সত্যি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আমি শিখেছি, সব মাথাব্যথা ঘরোয়া উপায়ে ঠিক করা যায় না। কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি। যেমন হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হওয়া, মাথাব্যথার সাথে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, চোখে হঠাৎ ঝাপসা বা ডাবল দেখা, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, বা মাথায় আঘাত লাগার পর ব্যথা শুরু হওয়া। এগুলো সাধারণ মাইগ্রেন না হয়ে অন্য কোনো গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
আমি বুঝেছি, যদি মাসের পর মাস মাইগ্রেন চলতেই থাকে, ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে, বা ওষুধেও কাজ না করে তখন এটা আর “স্বাভাবিক” না, এটা মেডিক্যাল ইস্যু।
আমার এক পরিচিত সব মাথাব্যথাকে মাইগ্রেন ভেবে ঘরোয়া উপায় করতো। পরে দেখা গেল তার সাইনাস ইনফেকশন ছিল। দেরি করার কারণে কষ্ট বেশি হয়েছিল।
ধরো, ফায়ার অ্যালার্ম শুধু রান্নাঘরের ধোঁয়ার জন্য না, আগুন লাগলেও বাজে। শরীরের অ্যালার্ম বাজলে সেটা চেক করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আমি যখন মাইগ্রেন নিয়ে কথা বলি, তখন দেখি অনেক ভুল ধারণা ঘুরে বেড়ায়। সবচেয়ে বড় ভুল হলো “মাইগ্রেন মানে শুধু মাথাব্যথা।” আসলে এটা পুরো স্নায়বিক সমস্যার অংশ। আরেকটা ভুল “মাইগ্রেন হলে সারাজীবন ওষুধ খেতে হবে।” বাস্তবে লাইফস্টাইল ঠিক করলে অনেকেরই ওষুধের দরকার কমে যায়। আবার কেউ কেউ ভাবে “এটা শুধু মেয়েদের হয়” বা “এটা মানসিক সমস্যা এগুলো দুটোই ভুল। পুরুষেরও হয়, আর এটা কল্পনা না, বাস্তব শারীরিক প্রতিক্রিয়া।
আরেকটা ভুল ধারণা হলো “সহ্য করলেই ঠিক হয়ে যাবে।” আসলে ব্যথা সহ্য করলে সেটা জমে গিয়ে আরও সেনসিটিভ হয়ে উঠতে পারে।
আমার এক আত্মীয় বলতো, “তুমি তো নরম, তাই তোমার মাইগ্রেন।” এই কথা শুনে আমি কষ্ট পেয়েছিলাম। পরে ডাক্তার বললেন, এটা জেনেটিক ও নিউরোলজিকাল শক্ত-দুর্বল হওয়ার প্রশ্ন না।
ধরো, চোখে চশমা লাগলে মানুষ লজ্জা পায় না। মাইগ্রেনের জন্য সাহায্য নিলেও লজ্জার কিছু নেই এটা স্বাস্থ্য, অহংকার না।