

অনিয়মিত হচ্ছে, হঠাৎ ওজন বাড়ছে, আর মুখে ব্রণ আগের চেয়ে বেশি হচ্ছে তখন আমি ভেবেছিলাম এটা হয়তো বয়স, স্ট্রেস বা লাইফস্টাইলের স্বাভাবিক পরিবর্তন। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, বিষয়টা শুধু বাইরের নয়, ভেতরের হরমোনের। সেখান থেকেই আমার PCOS সম্পর্কে জানার শুরু। PCOS বা Polycিস্টিক ওভারি সিনড্রোম এখন বিশ্বের লক্ষ লক্ষ নারীর জীবনের বাস্তবতা, কিন্তু তবুও আমরা অনেকেই জানি না এটা আসলে কী, কেন হয়, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীভাবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
এই লেখাটায় আমি খুব মেডিক্যাল ভাষায় কথা বলবো না। আমি এখানে সাধারণ মানুষের ভাষায়, বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে বলবো PCOS কী, কেন হয়, এর লক্ষণ কী, কার ঝুঁকি বেশি, আর সবচেয়ে বড় কথা লাইফস্টাইল দিয়ে কীভাবে এটাকে অনেকটাই কন্ট্রোল করা যায়। কারণ আমি বিশ্বাস করি, ভয় পাওয়ার চেয়ে বোঝা বেশি দরকার। PCOS মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়, মা হওয়া অসম্ভব নয়, সুন্দরভাবে বাঁচা অসম্ভব নয় শুধু নিজের শরীরকে একটু বুঝতে হয়, একটু সময় দিতে হয়।
এই গাইডটা যদি কোনো একজন মানুষকেও নিজের শরীর নিয়ে সচেতন করতে পারে, তাহলে আমার লেখা সার্থক হবে।
1. PCOS কী? — সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা
2. PCOS কেন হয়? — মূল কারণ ও হরমোনের ভূমিকা
3. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও PCOS-এর সম্পর্ক
4. PCOS হওয়ার ঝুঁকি কার বেশি? (Risk factors)
5. PCOS-এর সাধারণ ও গোপন লক্ষণসমূহ
6. PCOS কি স্থায়ী রোগ? নিয়ন্ত্রণ বনাম নিরাময়
7. PCOS-এ খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা (Diet for PCOS)
8. PCOS-এর জন্য কার্যকর লাইফস্টাইল পরিবর্তন
9. ব্যায়াম, ঘুম ও স্ট্রেস — তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক
10. কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি? ও ভুল ধারণা
আমি যখন প্রথম “PCOS” শব্দটা শুনি, তখন সত্যি বলতে একটু ভয়ই পেয়েছিলাম। পরে বুঝলাম PCOS মানে Polycystic Ovary Syndrome, এটা এমন একটা হরমোনজনিত সমস্যা যেখানে নারীর শরীরে পুরুষ হরমোন (এন্ড্রোজেন) স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে যায় এবং ডিম্বাশয় ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এর ফলে মাসিক অনিয়মিত হয়, ডিম্বাণু ঠিকমতো বের হয় না, ওজন বাড়তে থাকে, ব্রণ বা অতিরিক্ত লোম দেখা দেয়। সহজ করে বললে, PCOS হলো শরীরের ভেতরের হরমোন ব্যালান্স নষ্ট হয়ে যাওয়ার একটা অবস্থা কোনো সংক্রামক রোগ নয়, কিন্তু সময়মতো বুঝতে না পারলে জীবনযাত্রায় অনেক প্রভাব ফেলে। এখন ভালো খবর হলো এটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ঠিক লাইফস্টাইল, খাবার আর সচেতনতার মাধ্যমে।
আমার এক কাজিনের মাসিক হঠাৎ ৩–৪ মাস বন্ধ থাকতো, সাথে ওজন বাড়ছিল আর মুখে ব্রণ হচ্ছিল। সে ভেবেছিল এটা শুধু স্ট্রেস বা বয়সের সমস্যা। পরে ডাক্তার দেখালে জানা গেল তার PCOS আছে। নিয়মিত হাঁটা, মিষ্টি ও ফাস্টফুড কমানো আর ঘুম ঠিক করার পর এখন তার মাসিক অনেক নিয়মিত।
পুষ্টি কর খাবার সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন
ধরো, তুমি প্রতিদিন জাঙ্ক ফুড খাও, রাতে দেরিতে ঘুমাও, সারাদিন বসে থাকো এতে শরীরের ইনসুলিন ও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এই অবস্থাই ধীরে ধীরে PCOS-এর দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আমি যখন PCOS কেন হয় সেটা বুঝতে চেষ্টা করেছি, তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটা জানতে পারি সেটা হলো এটা একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে PCOS তৈরি হয়। আমাদের শরীরে ইনসুলিন, ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন আর এন্ড্রোজেন এই হরমোনগুলো একসাথে ব্যালান্স করে কাজ করে। যখন ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না (যাকে বলে insulin resistance), তখন শরীর বেশি ইনসুলিন তৈরি করে এবং এর প্রভাবে পুরুষ হরমোন বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত এন্ড্রোজেনই ডিম্বাণু বের হতে বাধা দেয়, মাসিক অনিয়মিত করে এবং ধীরে ধীরে PCOS-এর লক্ষণ তৈরি করে। তাই PCOS-এর মূল কারণ শুধু ডিম্বাশয় নয়, পুরো হরমোন সিস্টেমের গণ্ডগোল।
ডিজিটাল মাকেটিং সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন
আমার এক পরিচিতের রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল তার সুগার নরমাল, কিন্তু ইনসুলিন লেভেল বেশি। সে অবাক হয়েছিল “ডায়াবেটিস তো নেই, তাহলে কেন?” ডাক্তার বলেছিলেন, এটাই PCOS-এর বড় ট্রিগার। সে যখন মিষ্টি কমালো, প্রতিদিন হাঁটতে শুরু করলো, তখন ধীরে ধীরে তার হরমোন রিপোর্ট ভালো হতে থাকে।
ধরো, তুমি প্রতিদিন বেশি ভাত, মিষ্টি আর প্রসেসড খাবার খাও আর শরীর খুব কম নড়াচড়া করে। এতে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে, হরমোনের ব্যালান্স নষ্ট হয় আর এখান থেকেই PCOS শুরু হতে পারে।
আমি যখন PCOS নিয়ে পড়তে শুরু করি, তখন সবচেয়ে বেশি যে শব্দটা বারবার সামনে আসে সেটা হলো “ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স”। সহজ করে বললে, ইনসুলিন হলো সেই হরমোন যেটা রক্তের সুগারকে শক্তিতে পরিণত করে। কিন্তু যখন শরীর ইনসুলিনের কথা ঠিকমতো শুনতে চায় না, তখন একই কাজ করার জন্য শরীর আরও বেশি ইনসুলিন তৈরি করে। এই অতিরিক্ত ইনসুলিনই মূল সমস্যা তৈরি করে এটা ডিম্বাশয়কে বেশি এন্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) তৈরি করতে উস্কে দেয়। ফলে ডিম্বাণু ঠিকমতো বের হয় না, মাসিক অনিয়মিত হয়, ব্রণ, লোম, ওজন বাড়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। তাই আমি বুঝেছি, PCOS অনেক সময় আসলে ডিম্বাশয়ের সমস্যা নয় এটা পুরো মেটাবলিক সিস্টেমের সমস্যা।
আমার এক বান্ধবীর ওজন খুব বেশি ছিল না, কিন্তু তার মাসিক অনিয়মিত ছিল। রিপোর্টে দেখা গেল তার ইনসুলিন লেভেল বেশি। সে শুধু ডায়েট আর হাঁটার মাধ্যমে ৪–৫ মাসে ইনসুলিন কন্ট্রোল করলো, আর তার মাসিক নিজে থেকেই নিয়মিত হয়ে গেল।
ধরো, একটা দরজা তুমি ধাক্কা দিলে খুলছে না, তাই তুমি আরও জোরে ধাক্কা দিচ্ছো। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে ঠিক এটাই হয় শরীর “আরও জোরে” ইনসুলিন পাঠায়, আর সেখান থেকেই PCOS-এর সমস্যা তৈরি হয়।
আমি যখন PCOS নিয়ে জানি, তখন বুঝতে পারি এটা সবার হয় না কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে। যেমন, যদি পরিবারের কারো PCOS থাকে, তাহলে আমারও হওয়ার সম্ভাবনা একটু বেশি। আবার যাদের ওজন সহজে বাড়ে, পেটের চর্বি বেশি জমে, সারাদিন বসে কাজ করে, ব্যায়াম কম করে তাদের শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হওয়ার চান্স বেশি, আর এখান থেকেই PCOS-এর ঝুঁকি বাড়ে। ছোটবেলা থেকেই যদি বেশি মিষ্টি, সফট ড্রিঙ্কস, ফাস্টফুড খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলেও হরমোনের ব্যালান্স নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া দীর্ঘদিন স্ট্রেসে থাকা, রাতে কম ঘুমানো, হঠাৎ ওজন খুব বেড়ে যাওয়া বা খুব কমে যাওয়া এগুলোও PCOS-এর ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।
আমার এক কাজিন খুব চিকন ছিল, তাই সে ভাবতো তার PCOS হওয়ার কথা না। কিন্তু তার মা’র PCOS ছিল, আর তার নিজের মাসিক অনিয়মিত ছিল। চেক করালে দেখা গেল তারও PCOS আছে। তখন বুঝলাম শুধু ওজন নয়, জেনেটিক ফ্যাক্টরও বড় ব্যাপার।
ধরো, দুইজন মেয়ে একই খাবার খায়। একজন নিয়মিত হাঁটে, ঠিকমতো ঘুমায় অন্যজন সারাদিন বসে থাকে, রাত জাগে। দ্বিতীয় জনের PCOS হওয়ার ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
আমি আগে ভাবতাম PCOS মানেই শুধু মাসিক বন্ধ থাকা। কিন্তু আসলে এর লক্ষণ অনেক, আর অনেকগুলো খুব চুপচাপভাবে আসে। সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো মাসিক দেরি হওয়া বা নিয়মিত না হওয়া, হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া, মুখে বা পিঠে ব্রণ হওয়া, থুতনিতে বা পেটে অপ্রয়োজনীয় লোম গজানো, চুল পড়া বেড়ে যাওয়া। কিন্তু এর পাশাপাশি কিছু “গোপন” লক্ষণও আছে যেমন সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা, খাওয়ার পর ঘুম ঘুম ভাব, মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে, মুড সুইং, হালকা ডিপ্রেশন বা আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া। এগুলো দেখে অনেক সময় আমি নিজেও বুঝতে পারতাম না যে এগুলো হরমোনাল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
আমার এক বান্ধবীর মাসিক নিয়মিত ছিল, তাই সে ভাবতো সব ঠিক আছে। কিন্তু সে সবসময় ক্লান্ত থাকতো, একটু খেলেই হাঁপিয়ে যেত, আর মিষ্টি না খেলে অস্বস্তি হতো। পরে চেক করালে দেখা গেল তার ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ের PCOS।
ধরো, গাড়ির ড্যাশবোর্ডে শুধু লাল বাতি জ্বলে না, মাঝে মাঝে হালকা হলুদ সিগনাল দেয়। PCOS-এর গোপন লক্ষণগুলো ঠিক তেমন বড় সমস্যা হওয়ার আগে শরীর ছোট ছোট সিগনাল দেয়।
আমি যখন প্রথম PCOS-এর কথা শুনি, তখন মনে হয়েছিল “এটা বুঝি আজীবনের রোগ!” কিন্তু পরে জানলাম, PCOS এমন কোনো রোগ নয় যেটা একবার হলে আর কখনো ঠিক হয় না। এটা আসলে একটি হরমোনাল কন্ডিশন, যেটা লাইফস্টাইলের ওপর খুব বেশি নির্ভর করে। আমি বুঝেছি PCOS পুরোপুরি “সারিয়ে তোলা” না গেলেও, এটাকে খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ঠিক খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, ঘুম ঠিক রাখা আর স্ট্রেস কমালে শরীর আবার ব্যালান্সে ফিরতে পারে, লক্ষণগুলো অনেকটাই কমে যায়।
আমার এক পরিচিতের PCOS খুব বেশি ছিল মাসিক ৫–৬ মাস বন্ধ থাকতো। সে ভাবতো মা হওয়া সম্ভব হবে না। কিন্তু সে ৮–৯ মাস নিয়ম মেনে ডায়েট, হাঁটা আর ওজন কমানোর পর তার মাসিক নিয়মিত হয়, পরে সে স্বাভাবিকভাবেই কনসিভ করে। তখন বুঝলাম নিয়ন্ত্রণ মানেই আশাহীনতা নয়, বরং সুযোগ।
ধরো, হাই ব্লাড প্রেসার থাকলে মানুষ সারাজীবন ওষুধ আর লাইফস্টাইল মেনে চলে। PCOS-ও অনেকটা তেমন এটা ম্যানেজমেন্টের বিষয়, মৃত্যুদণ্ড নয়।
আমি যখন PCOS কন্ট্রোল করার কথা ভাবি, তখন প্রথমেই খাবারের কথাই মাথায় আসে। কারণ আমি বুঝেছি আমি যা খাই, সেটাই আমার হরমোনের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। বেশি চিনি, সাদা ভাত, ফাস্টফুড আর সফট ড্রিঙ্কস ইনসুলিন হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়, আর সেখান থেকেই হরমোনের গণ্ডগোল শুরু হয়। অন্যদিকে প্রোটিন, ফাইবার, ভালো ফ্যাট আর লো-গ্লাইসেমিক খাবার ইনসুলিন ধীরে বাড়ায়, শরীরকে ব্যালান্সে রাখতে সাহায্য করে। তাই আমি যদি আমার প্লেটে বেশি শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাছ, বাদাম আর কম পরিমাণে লাল চাল বা আটার রুটি রাখি, শরীর অনেক শান্ত থাকে।
আমার এক বান্ধবী শুধু সকালে রুটি–ডিম খাওয়া শুরু করেছিল, বিকেলে মিষ্টি বাদ দিয়েছিল আর রাতে হালকা খেতো। ৩ মাসে তার ওজন ৪ কেজি কমে, ব্রণ কমে আর মাসিক নিয়মিত হয় কোনো ওষুধ ছাড়াই।
ধরো, আগুনে পেট্রোল ঢাললে আগুন বাড়ে, আর পানি ঢাললে আগুন কমে। PCOS-এ চিনি আর জাঙ্ক ফুড হলো পেট্রোল, আর স্বাস্থ্যকর খাবার হলো পানি।
আমি বুঝেছি, PCOS কন্ট্রোলের আসল চাবিকাঠি হলো লাইফস্টাইল। শুধু ওষুধ খেলেই হবে না, আমি কীভাবে থাকি, ঘুমাই, নড়াচড়া করি এগুলোই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। আমি যদি প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করি, তাহলে শরীরের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ে, হরমোন ব্যালান্সে আসে। রাতে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে কর্টিসল বাড়ে, যেটা আবার ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ায়। তাই দেরি করে ঘুমানো, সারারাত ফোন দেখা এগুলো আমি ধীরে ধীরে বাদ দিয়েছি। স্ট্রেসও একটা বড় ট্রিগার, তাই আমি নিজের জন্য সময় রাখার চেষ্টা করি নামাজ, মেডিটেশন, গান শোনা বা শান্ত হাঁটা।
আমার এক বান্ধবী শুধু রাত ১১টার মধ্যে ঘুমানো আর সকালে ২০ মিনিট হাঁটা শুরু করেছিল। ২ মাসে তার এনার্জি লেভেল বেড়ে যায়, ওজন কমতে শুরু করে আর মাসিক আগের চেয়ে নিয়মিত হয়।
ধরো, একটা গাছ যদি ছায়ায় থাকে, পানি না পায় সে শুকিয়ে যাবে। লাইফস্টাইল ঠিক না হলে শরীরও তেমনই শুকিয়ে বা অসুস্থ হয়ে যায়, আর সেখান থেকেই PCOS বাড়ে।
আমি এখন বুঝি, PCOS কন্ট্রোলের তিনটা সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো ব্যায়াম, ঘুম আর স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট। আমি যদি নিয়মিত শরীর না নড়াই, তাহলে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না। আবার রাতে ঠিকমতো না ঘুমালে কর্টিসল বাড়ে, যেটা হরমোনের ব্যালান্স নষ্ট করে। আর সারাক্ষণ টেনশনে থাকলে শরীর সবসময় “fight or flight” মোডে থাকে, যেখানে হরমোন ঠিকমতো কাজই করতে পারে না। তাই আমি এই তিনটাকে আলাদা আলাদা না দেখে একসাথে দেখি একটা ঠিক না হলে অন্য দুটোও নষ্ট হয়।
আমার এক পরিচিত চাকরির স্ট্রেসে খুব কম ঘুমাতো আর একদম ব্যায়াম করতো না। তার মাসিক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে যখন প্রতিদিন সন্ধ্যায় ২০ মিনিট হাঁটা, রাতে ফোন দূরে রেখে ঘুমানো আর উইকেন্ডে নিজের জন্য সময় রাখা শুরু করলো, তখন আস্তে আস্তে তার শরীর ঠিক হতে শুরু করলো।
ধরো, তিনটা চাকা ছাড়া একটা সাইকেল চলতে পারে না। ব্যায়াম, ঘুম আর স্ট্রেস ঠিক তেমনই তিনটাই ঠিক না হলে PCOS কন্ট্রোল করা যায় না।
আমি আগে ভাবতাম, মাসিক একটু দেরি হলেই বা ওজন একটু বাড়লেই বা কী আসে যায়। কিন্তু এখন বুঝি কিছু লক্ষণকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া ঠিক না। যেমন, যদি ৩ মাসের বেশি মাসিক না হয়, হঠাৎ খুব দ্রুত ওজন বেড়ে যায়, মুখে বা শরীরে অস্বাভাবিক লোম বাড়ে, চুল খুব পড়তে থাকে, বা অনেক চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হয় তখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি। সময়মতো চেক না করালে PCOS থেকে ডায়াবেটিস, হাই প্রেসার বা ফার্টিলিটির সমস্যা বাড়তে পারে। তাই আমি শিখেছি আগেভাগে জানা মানেই অর্ধেক সমাধান।
আমার এক বান্ধবী ২ বছর মাসিক অনিয়মিত থাকার পরেও কাউকে বলত না। পরে হঠাৎ ব্লিডিং বেশি হলে ডাক্তারের কাছে গেলে জানা যায় তার PCOS অনেকটা অ্যাডভান্সড। সে বলেছিল, “আগে জানলে এত কষ্ট হতো না।”
ধরো, দাঁতে ছোট গর্ত হলে ব্যথা হয় না, কিন্তু দিলে রুট ক্যানাল লাগে। PCOS-ও তেমন শুরুতে ধরলে সহজ, দেরি করলে কঠিন।