বাংলাদেশে অনেকেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ব্যবসা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে e-TIN সার্টিফিকেট তৈরি করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আয় না থাকলে বা TIN-এর আর প্রয়োজন না হলে সেটি বাতিল করা যায় কি না, তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন থাকে। বাংলাদেশের আয়কর আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে করদাতা নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু আয় নেই বা বর্তমানে চাকরি করেন না—এ কারণে TIN স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। আবেদন অনুমোদন করবেন সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্তৃপক্ষ। হ্যাঁ, আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ক্ষেত্রে TIN নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যায়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬২ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে করদাতা নিবন্ধন বাতিলের সুযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে। সাধারণভাবে নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখুন: মনে রাখবেন: এই তালিকা সাধারণ প্রস্তুতির জন্য। সব আবেদনকারীর জন্য প্রতিটি কাগজ বাধ্যতামূলক নয়। আপনার কর সার্কেল অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে। আপনার e-TIN সার্টিফিকেটে থাকা TIN নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল ও সার্কেলের তথ্য দেখুন। একই সঙ্গে আপনার রিটার্ন জমার অবস্থা এবং কোনো বকেয়া কর বা চলমান কর-সংক্রান্ত কার্যক্রম রয়েছে কি না, তা যাচাই করুন। কেন TIN বাতিল করতে চান, তা স্পষ্ট করুন। শুধু বর্তমানে আয় না থাকলেই আবেদন অনুমোদন হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আপনার ক্ষেত্রে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬২-এর কোন শর্ত প্রযোজ্য, তা যাচাই করুন। সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার বরাবর আবেদনপত্র লিখুন। এতে আপনার নাম, TIN নম্বর, ঠিকানা, যোগাযোগের তথ্য এবং নিবন্ধন বাতিলের কারণ উল্লেখ করুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন। আপনার TIN-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলের অফিসে যোগাযোগ করে আবেদন জমা দেওয়ার বর্তমান পদ্ধতি জেনে নিন। আবেদন গ্রহণের রসিদ বা প্রাপ্তিস্বীকার থাকলে সেটি সংরক্ষণ করুন। আয়কর কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করতে পারে। আইন অনুযায়ী বকেয়া করের দায়, চলমান কর নির্ধারণ বা বিরোধ এবং বাতিলের কারণসহ প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত তথ্য বা শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে। আবেদন জমা দিলেই TIN বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেবেন না। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করুন। নিচের নমুনাটি নিজের তথ্য অনুযায়ী সম্পাদনা করে ব্যবহার করতে পারেন। তারিখ: ……………….. বরাবর বিষয়: TIN নিবন্ধন বাতিলের আবেদন। মহোদয়, বিনীত নিবেদন এই যে, আমি ………………………….., TIN নম্বর …………………………..। বর্তমানে আমার TIN নিবন্ধন বাতিলের প্রয়োজন হয়েছে। এর কারণ হলো …………………………..। আমার আবেদনের সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করলাম। আয়কর আইন, ২০২৩-এর প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী আমার আবেদন বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি। বিনীত, নাম: ………………………….. সতর্কতা: আবেদনপত্রে কেবল সত্য ও প্রমাণযোগ্য তথ্য লিখবেন। আপনার পরিস্থিতিতে আইনগত শর্ত পূরণ না হলে এই নমুনা ব্যবহার করলেই আবেদন অনুমোদিত হবে না। এটি আপনার পরিস্থিতি ও আইনগত বাধ্যবাধকতার ওপর নির্ভর করে। আগে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলে শুধু TIN বাতিলের আবেদন করে সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া যায় না। একইভাবে, আয়কর রিটার্ন বকেয়া থাকলে কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার কর-সংক্রান্ত অবস্থা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। আপনি যদি কয়েক বছর ধরে রিটার্ন জমা না দিয়ে থাকেন, তাহলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহায়তায় বকেয়া দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হন। কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যক বছর শূন্য রিটার্ন দিলেই সবার TIN বাতিল হবে—এমন সাধারণ নিশ্চয়তা নেই। আবেদন করার আগে নিচের সরকারি ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার করুন। উল্লেখ্য, e-Return পোর্টাল মূলত অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ও সংশ্লিষ্ট সেবা ব্যবহারের জন্য। TIN নিবন্ধন বাতিলের আবেদনও ওই পোর্টালে সম্পূর্ণ করা যায়—এমন ধরে নেবেন না। আপনার কর সার্কেল থেকে বর্তমান আবেদনপদ্ধতি নিশ্চিত করুন। অনলাইনে বাতিলের আবেদন সম্পন্ন করার সুবিধা আপনার ক্ষেত্রে আছে কি না, তা সরকারি পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে যাচাই করতে হবে। শুধু e-Return পোর্টালে অ্যাকাউন্ট থাকলেই TIN বাতিল হয়ে যায় না। শুধু বর্তমানে আয় না থাকাই যথেষ্ট নয়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬২ অনুযায়ী আপনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাতিলের শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। প্রথমে আপনার বকেয়া রিটার্ন ও কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা যাচাই করুন। এরপর TIN বাতিলের যোগ্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলের পরামর্শ নিন। না। আয়কর আইনের ধারা ২৬২(৫) অনুযায়ী নিবন্ধন বাতিল বলতে TIN-কে নিষ্ক্রিয় বা ব্যবহার-অযোগ্য করা বোঝায়; আগে সংগৃহীত তথ্য মুছে ফেলা বোঝায় না। আবেদন নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময় আপনার পরিস্থিতি ও কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল থেকে সম্ভাব্য সময় জেনে নিন। TIN সার্টিফিকেট বাতিল করার আগে আপনার কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা, বকেয়া রিটার্ন এবং বাতিলের আইনগত যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে আবেদন করুন এবং কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত TIN বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেবেন না। সর্বশেষ তথ্যের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সরকারি ওয়েবসাইট দেখুন। দ্রষ্টব্য: এই পোস্টটি সাধারণ তথ্যের জন্য তৈরি। ব্যক্তিগত কর পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিন।
TIN সার্টিফিকেট কি বাতিল করা যায়?
TIN সার্টিফিকেট বাতিল করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
কাগজপত্র কেন প্রয়োজন লিখিত আবেদনপত্র বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য e-TIN সার্টিফিকেটের কপি TIN নম্বর শনাক্ত করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আগের আয়কর রিটার্নের কপি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কর-সংক্রান্ত তথ্য দেখানোর জন্য রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র প্রযোজ্য হলে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ হিসেবে বিশেষ পরিস্থিতির প্রমাণ যেমন মৃত্যু সনদ, বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রমাণ বা ভুল নিবন্ধনের ব্যাখ্যা—যেটি প্রযোজ্য TIN সার্টিফিকেট বাতিল করার নিয়ম: ধাপে ধাপে
ধাপ ১: আপনার TIN-এর তথ্য যাচাই করুন
ধাপ ২: বাতিলের কারণ নির্ধারণ করুন
ধাপ ৩: লিখিত আবেদন তৈরি করুন
ধাপ ৪: সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে আবেদন জমা দিন
ধাপ ৫: কর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করুন
TIN বাতিলের আবেদনপত্রের নমুনা
উপকর কমিশনার
কর সার্কেল: ………………..
কর অঞ্চল: ………………..
TIN নম্বর: …………………………..
ঠিকানা: …………………………..
মোবাইল: …………………………..
স্বাক্ষর: …………………………..TIN বাতিলের আগে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে কি?
TIN বাতিলের সরকারি ওয়েবসাইট ও প্রয়োজনীয় লিংক
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. অনলাইনে কি TIN সার্টিফিকেট বাতিল করা যায়?
২. আমার কোনো আয় নেই। তাহলে কি TIN বাতিল করতে পারব?
৩. কয়েক বছর রিটার্ন জমা দিইনি। এখন কী করব?
৪. TIN বাতিল হলে কি আগের তথ্য মুছে যাবে?
৫. TIN বাতিল করতে কত দিন লাগে?
শেষ কথা
সরকারি তথ্য: আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬২-এ করদাতা নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।
